• Uncategorized
  • 0

শিক্ষকদিবসে ভজন দত্ত

শিক্ষক দিবস : কিছু ভাবনা

এখন যাঁদের বয়স চল্লিশ প্লাস তাঁদের অনুরোধ করবো প্লিজ  একবার ফিরে চলুন আপনার অনতিদূর অতীতের সেই সোনালি সোনালি দিনগুলোতে। সেই ফেলে আসা স্কুলবেলায় কোনো ছেনালিনামা নেই । হিয়া শুধুই নস্টালজিক! মনে আছে কি কিছু?এখন এই যে টিচার্স ডে তে এত ধুমধাড়াক্কা আমরা দেখি, তা কি তখন ছিল? ছিল যদি, তবে তা কেমন ছিল?  আসুন, আমাদের তো টাইমমেশিন নেই, তাই একটু স্মৃতি নেড়েচেড়ে দেখি। প্রিয় পাঠক আপনারাও নাড়ান, ঝাঁকান স্মৃতির ধূসর পাতা সবুজ হয়ে উঠুক।

১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দে ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণের প্রিয় কিছু ছাত্র তাঁর জন্মদিনটি উদযাপণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। সেখানে তিনি বলেন, তাঁর ভালো লাগবে যদি তাঁর জন্মদিনটি জন্মদিন হিসেবে পালন না করে, দিনটিকে শিক্ষক দিবস হিসাবে পালন করা হয়। এরপর ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দ থেকে দিনটিকে শিক্ষক দিবস হিসাবে পালন করা হয়ে আসছে। ১৭ এপ্রিল ১৯৭৫, চেন্নাইয়ে প্রয়াত হন ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণ। এর পর প্রয়াত শিক্ষাবিদ ও দেশের প্রথম উপরাষ্ট্রপতি ও দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতির প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা জানিয়ে দেশব্যাপী শুরু হয় শিক্ষক দিবস উদযাপনের আয়োজন।

আমাদের রাজ্যে আশির দশকের আগে শিক্ষকদিবস বলে গ্রামগঞ্জে তেমন কিছু পরিচিতি ছিল না। তখন তো ২৪×৭ ঘণ্টাই ছিল শিক্ষক দিবস। শিক্ষকদের পথেঘাটে দেখলে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করতেন অনেকে। অনেকে আবার সেসব ঝামেলা মনে করে মুখ লুকিয়ে আড়াল করার চেষ্টা করতেন। সেসময় শিক্ষকরা অর্থনৈতিক দিক থেকে গরীব থাকলেও, ঘটা করে শিক্ষক দিবস পালন করা না হলেও এখনকার মতো শিক্ষকরা যে পদে পদে অসম্মানিত হতেন ব্যাপারটা তেমন ছিলো না।

আমরা যে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে বাস করি সেখানে শিক্ষিত নরনারীর সংখ্যা তখনো তেমন ভাবে বৃদ্ধি পায়নি। সকলের জন্য শিক্ষার কর্মসূচীটি নিয়ে তখন রাজ্যসরকার নাড়াচাড়া করছেন।সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষাকে অবৈতনিক করা হয়েছে। ত্রিভাষার তত্ত্ব সরে যাচ্ছে মাধ্যমিক স্তর থেকে। মাতৃভাষাকে মাতৃদুগ্ধর মতো মনে করা হচ্ছে। যাতে সরকারি সুবিধাযুক্ত বিদ্যালয়ে আরো বেশি বেশি ছাত্র-ছাত্রীকে অন্তত প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা যায়, তার জন্য প্রাথমিক স্তর থেকে তুলে দেওয়া হয়েছে ইংরাজি। সেই গেল গেল রবের কথা ভুলবেনই বা কী করে!

তখনো সমাজে শিক্ষক মানে এক প্রতিবাদী চরিত্র। আমরা দেখতে পাই সাহিত্য, লোকশিক্ষার মাধ্যমগুলিতে শিক্ষকদের প্রকৃত সমাজসেবী হিসাবে এবং সমাজ পরিবর্তনের চেষ্টায় তাঁদের অগ্রণী ভূমিকা। এর জন্য তাঁদের একাংশকে কম ত্যাগ স্বীকার করতে হয়নি। প্রতিবাদী শিক্ষকদের চেয়ারে বেঁধে পোড়ানো থেকে শুরু করে সমস্তরকম হেনস্থার শিকার তাঁদের হতে  হয়েছে। ১৯৭৭তে রাজ্যে বামফ্রন্ট সরকার প্রতিষ্ঠা হলে সকল শিক্ষকদের সম্মান জানিয়ে ও  তাঁদের নিরন্তর সংগ্রামের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে, তাঁদের পেশাগত সমস্যার সমাধান করে তাঁদেরকে সরকারি কর্মচারীদের মতোই সুযোগসুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। যদিও অনেক দাবি পূরণ করা হয়নি। তবুও এতদিন যেসব শিক্ষকদের মাইনের ঠিক ছিল না, পঞ্চাশ টাকা নিয়ে একশো টাকা পেয়েছি বলে লিখে দিতে হতো, পাড়ার মুদিখানায় মুখ দেখানো ভার ছিল, ধারের মাসকাবারি খাতা উপছে পড়তো আর লেখার জায়গা থাকতো না, সংসার চালানোর জন্য, দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহের জন্য তাঁদের হন্যে হয়ে টিউশনি খুঁজতে হোতো —- তাঁদের আর্থিক অবস্থার উন্নতিতে জীবনযাপনেও পরিবর্তন এলো ধীরে ধীরে। রাজ্যের শাসন ক্ষমতায় পঞ্চায়েত স্তর থেকে মন্ত্রীসভা পর্যন্ত শিক্ষক-অধ্যাপকদের ব্যাপক প্রতিনিধিত্বও দেখা গেল। ফলে প্রতিটি বেতন কমিশন তাঁদের দাবি-দাওয়াকে সম্মান জানিয়ে এসেছেন। এই সময়েই সামন্তবাদের গণ্ডী ডিঙিয়ে বিদ্যালয়ে ভীড় জমায় প্রান্তবাসীরা। সামন্তপ্রভুদের আগের রক্তচক্ষু ফিকে হয়ে আসতে থাকে ক্রমশ। উল্টে তারাই এখন  ভয় পেতে শুরু করে বেনামি জমি দখল হয়ে যাওয়ার ভয়ে। সেই অভাবী মুখের মাষ্টারমশাইরা যাঁদের দেখে একসময় করুণা হতো, তাঁরা ক্রমশ বিলুপ্ত হতে থাকলেন। আর ভোগবাদী সমাজে যখন শিক্ষকতার চাকরি বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি নিলামে তুলতে থাকলেন তার সুযোগ নিলেন একদল মানুষ। ভালোবেসে বা আদর্শ হিসাবে শিক্ষকতার পেশা গ্রহণ করার মানুষ কমতে থাকলো দিন দিন। পরে স্কুল সার্ভিস কমিশন করে নিলামী বন্ধ করা গেলেও নিয়োগে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ থেকেই যায়। চেয়ারম্যান হিসাবে সরকার ঘনিষ্ঠদের বা সরকারি দলের নেতাদের বা অনুগতদের ঐ পদে মনোনয়ন দেওয়া হয় সে কারণেই। সুবিধাভোগী শ্রেণি যার সদ্ব্যবহার করে ভীড় জমায় শিক্ষাক্ষেত্রে। আদর্শগত কারণে নয়, তাঁরা আর্থিক কারণেই শিক্ষকতার পেশায় এসে যোগ দেন।

১৯৯১ খ্রিস্টাব্দ। ভারতের অর্থনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ বছর হিসাবে চিহ্নিত। বিশ্ব ইতিহাসেও। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন হয় এবছরই। ভারতের শক্তিশালী বন্ধুদেশটির এহেন বিপর্যয় এক গভীর ছাপ রেখে যায় ভারতের অর্থনীতিতে। ভারতের প্রধান বৈদেশিক বাণিজ্য পার্টনার দেশটির অস্তিত্ব বিলুপ্তি  এবং গলফ যুদ্ধ ভারতকে ফেবিয়ান সমাজবাদের পথ থেকে সরে আসতে বাধ্য করে। তখন প্রধানমন্ত্রী পি ভি নরসিমহা রাও, অর্থমন্ত্রী মনমোহন সিংহ। শুরু হয় দেশে অর্থনৈতিক সংস্কার। বেছে নিতে হয় মুক্ত বাণিজ্যের পথ। যার হাত ধরে ভোগবাদী সমাজ গড়ে তোলার পথ প্রশস্ত হয়। আম আদমিকে ভোগবাদী পথে নিয়ে যেতে সাহায্য করে মিডিয়া। সুপ্রতিষ্ঠিত বাজার ব্যবস্থায় উপভোক্তা তৈরীর কাজ শুরু করে দেশি বিদেশি টিভি চ্যনেলগুলি।১৯৫৯ থেকে ভারতে টিভির ইতিহাস শুরু হলেও এই সময় থেকেই টিভিতে ডিডি রাজের খতম হয়। আসে বহু বেসরকারি চ্যানেল। তাদের লগ্নি করতে থাকে জাতীয় ও বহুজাতিক কোম্পানি গুলি। মগজে অনবরত বাজতে থাকে ভোগবাদী বিজ্ঞাপণের জিঙ্গল। ‘আপনার ব্যবহার নয়, আপনার বাড়ীই হোক আপনার পরিচয়’, ‘নেবারস এনিমি ওনারস প্রাইড’ শেখানো হতে থাকে। অনবরত প্রচারের ফলে স্বল্প উচ্চতার গরীব ছেলেটিও জেনে যায় সে গাছে যতই ঝুলুক ও আর লম্বা হবে না। কেননা ওর মা- বাবা ওকে বাড়ন্ত বাচ্চার ওই বিশেষ পানীয়টি কিনে খাওয়াতে পারেন নি। ক্রমশ ভোগবাদে ছেয়ে যায় আমাদের অনন্ত আকাশ। বিপণণের জন্য সবকিছুকেই মাধ্যম করা হতে থাকে। লাভের জন্য তারা “সবকুছ ” করতে পারেন। ভারতের গ্রামীণ সংস্কৃতিও এসময় থেকেই ভেঙে পড়ে। টিভির মত একটা বাক্স বসিয়ে গাঁয়ে গাঁয়ে খোলা হতে লাগলো ভিডিও হল। সেখানে দুপুর  বারোটা থেকে রাত বারোটা অব্দি চলতে থাকলো হিন্দি, ইংরাজী, বাংলা সব সিনেমা। ক্যাসেটগুলোতে সুকৌশলে গোঁজা থাকতো বিজ্ঞাপণ। একদিন এসব থেকে মানুষের মোহ কাটতে শুরু করলে আমদানি করা হলো মানুষের আদিমতম আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু যৌনতাকে। নীলছবি দেখানো শুরু হলো সেই সব স্বল্প বিনিয়োগের ভিডিও হলে। যাত্রা, থিয়েটার, লোকসংস্কৃতি সব এসে বিলীন হয়ে যেতে থাকলো অন্ধকার সেই সব ভিডিও হলে।

বাজার অর্থনীতির ফলে বিদেশ থেকে বিশেষ করে চীন থেকে আসা নানান রকমের শৌখিন গিফ্ট আইটেমে ছেয়ে গেল বাজার। জন্মদিন থেকে শুরু করে শ্রাদ্ধবাসর সবেতেই সাবেক উপহার বাতিল হয়ে জায়গা করে নিল সেসব সামগ্রী। জন্মদিনে মা ঠাকুমার পায়েস সরে গিয়ে হ্যাপি বার্থ ডে’র  উচ্ছাসে সিনেমা সিরিয়ালে দেখা কেক, মোমবাতির ব্যবহার এখন তো শহুরে মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে শুরু করে গ্রাম বাংলায় এক কমন ফ্যাক্টর।অজান্তেই বদলে গেল জীবনধারা।

এসব কিছুর প্রভাব থেকে ছাত্র -শিক্ষকরা আলাদা করে থাকতে পারেন না। তারাও তো সমাজেরই অংশ। ১৯৯০ পরবর্তী সময় থেকে রাজ্যে বেসরকারি শিক্ষায়তনের রমরমা শুরু হয়। ফেলো কড়ি মাখো তেল, পড়ো ইংরাজী, পরো টাই।  এই রাজ্যে শিক্ষানীতির বদল সময়মত না হওয়ায় শিক্ষিত মধ্যবিত্ত, উচ্চবিত্তরা ভীড় জমাতে শুরু করলেন পরিকাঠামোহীন সেই সব ইংরাজী মাধ্যম বিদ্যালয়ে। ফলে আরো জমাট হলো টিউশনি ব্যবসা। ঐসব স্কুলে বেতন কম। ফলে শিক্ষক- শিক্ষিকাদের অনেককেই অনিচ্ছা সত্বেও  টিউশন করতে হয় এখনো। অভিভাবকরা প্রতিযোগিতার বাজারে নিজেদের সন্তানকে ফার্স্ট, সেকেন্ড করতে মরিয়া। তাদের সন্তানের কেরিয়ারের জন্য তারা করতে পারেন না এমন কোনো কাজ নেই। এই রকম একটা অবস্থায় শিক্ষক দিবস হয়ে উঠলো রাষ্ট্র ও সমাজ স্বীকৃত একটা বিশেষ “পারিতোষিক অর্পণ দিন” হিসাবে।অভিভাবক,ছাত্র-ছাত্রী সকলে মিলে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় — সবস্তরে খুল্লমখুল্লা ‘হ্যাপি টিচার্স ডে’র নামে উপঢৌকন দিতে শুরু করলেন। না বলা বাণী থাকতো সেই উপহারে ‘একটু দেখবেন স্যার’।

ভারতীয় পরম্পরা “গুরু ব্রহ্মা গুরু বিষ্ণু… ” অনুসরণের ভক্তিবাদ সরে গিয়ে, শ্রদ্ধালু মনোভাব সরিয়ে সে এক হৃদয়বিদারক ভোগবাদ, দেখনদারির মোড়কে উপস্থিত হতে শুরু করলো। যার পরিণাম বর্তমানে আমাদের চারপাশে দেখতে পাই ওই দিনটির উল্লাস পার্টি। একদা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির অভ্যন্তরে যা নিঃশব্দে শ্রদ্ধা ভরে পালিত হতে শুরু হয়েছিল নানান অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। এক্কেবারে শুরুতে ঐদিন টিচার্স ওয়েলফেয়ার ফান্ড না কি যেন তার ছোট ছোট পতাকা যেগুলি বুকে আঁটার জন্য আলপিনে আটকানো থাকতো সেগুলি শিক্ষক- শিক্ষিকারা  দশ, পঁচিশ, পঞ্চাশ পয়সা বা একটাকা করে ছাত্র- ছাত্রীদের কে অর্থের বিনিময়ে প্রদান করতেন। স্কুলের প্রাচীন ছায়াপ্রদানকারী বৃক্ষতলায় দিনটির তাৎপর্য  ব্যাখ্যা করতেন প্রধানশিক্ষক মহাশয় বা অন্য কোনো সহকারী শিক্ষক মহাশয়। পরে, কোথাও কোথাও ওইদিন উঁচু ক্লাসের ছাত্র-ছাত্রীরা সেদিনটিতে  ক্লাস নিতেন। কোথাও বা শিক্ষকদের সঙ্গে  ফুটবল খেলা হতো। সবথেকে কড়া স্যারও সেদিন কেমন যেন হাসিমুখ হয়ে যেতেন। ছাত্ররা ইচ্ছে করে হেরে যেত সেইসব প্রীতিম্যাচে। কোথাও সকলকে নিয়ে হোতো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আলোচিত হতেন রাধাকৃষ্ণণজি। গানে, কবিতায় গীতিআলেখ্যে এক সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা ছিল সেই সব অনুষ্ঠানের প্রেরণা। কোনো উপহার বা গিফ্ট নয় সেই অনুষ্ঠানের মূল সুরটি বাঁধা হোতো ভক্তি ও শ্রদ্ধাজনক ভাবে। কে কি দিল, কে কটা গিফ্ট পেলেন,কি পেলেন তা বিচার্য ছিল না।

এখন শোনা যাচ্ছে অনেক ব্যাচের টিউশন স্যার
না  কি আগেই বলে দিচ্ছেন, কে কি গিফ্ট নিয়ে আসবে সেদিন। বছর- বছর একই রকম গিফ্টে যাতে শিক্ষক শিক্ষিকাদের ঘরবাড়ি ভরে না যায় তার জন্য তাঁরাই  আগে থেকে বলে দিচ্ছেন কোন ব্যাচ কি উপহার আনবে। ছাত্র- ছাত্রীরা স্কুলে, টিউশনে চাঁদা দিয়ে নানান ধরণের উপহার, খানাপিনার ব্যবস্থা করছে। “পার্টি ” জমে যাচ্ছে আনন্দঘন উচ্ছলতায়। সেখানে গুরুর প্রতি ভক্তি বা শ্রদ্ধাজনক মনোভাব নয় বাজার অর্থনীতির প্রভাবই বেশী কাজ করে। ওইদিনটি এখন অঘোষিত ছুটি। শুধুই গৃহশিক্ষকতাকে পেশা নির্বাচন করেছেন যাঁরা, তাঁরা এখন অনেকেই হলভাড়া করে দিনটি সেলিব্রেট করছেন। তা আবার নেক্সট সেশনের মার্কেটিং এর কাজেও লাগছে। এখন শ্রদ্ধা বিপণণ হচ্ছে বিপন্ন হয়ে।
অতীতের সেইসব শিক্ষক আজ আর প্রায় নেই কোথাও। মানুষ গড়ার কারিগরদের আজ আর সম্মান বলে কিছু অবশিষ্ট নেই। হাজার নিয়মের বেড়াজালে তাঁরা শুধু চাকরি করেন মাত্র । আর চাকুরীজীবীদের মেরুদণ্ড তো সরকারের কাছে বাঁধা থাকে। এখন এ রাজ্যে সরকার পোষিত সকল বিদ্যালয়ে এপ্রিল ছাড়া অন্যান্য সব মাসে মোটামুটি  মাসপয়লা বেতন হচ্ছে। সরকার মনে করেন এই তো এক বিরাট পাওয়া। তারা ( যেন, সরকার নয়) দিচ্ছেন এই ঢের। প্রশাসন থেকে সকল দেশের সমাজের শ্রদ্ধাভাজন গুরুদের ( পড়ুন, শিক্ষক – শিক্ষিকা) তাই  কুকুর, গরু, ঘেউ-ঘেউ বা হাম্বা- সাম্বা যাই বলা হোক না কেন, কিংবা আন্দোলন করলে পিটিয়ে ছাল তুলে দেওয়া হলেও, কোথাও কোনো প্রতিবাদ ছাত্র-ছাত্রী বা অভিভাবক বা সাধারণ মানুষদের কাছে শোনা যায় না। বরং উল্টোটাই দেখা যায়। সবই উদারীকরণ যখন, তখন শিক্ষক দিবসও তার ব্যতিক্রম হয় কী করে! সমাজব্যবস্থার বাইরে তো আর তাঁরা নন। ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ সিনেমাটা না হলে আমরা কজনাই বা জানতাম ‘ভ্যালেন্টাইন ডে’র কথা। ভাবুন কী দারুণ বিপণণ প্ল্যান! সেই প্ল্যান কি টিচার্স ডে তে নেই! বাজার,সবই বাজার!  শিক্ষক দিবসের বিষয়টি সেদিক থেকেই আলোচিত হওয়া উচিৎ নয় কি?
আসুন ভাবি, ভাবা প্্র্যাক্টিস করি।

Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!