• Uncategorized
  • 0

কবিতায় আলোক মণ্ডল

কবিতা মগ্ন প্রাণ।অবসরপ্রাপ্ত বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের শিক্ষক । দশাধিক কাব্যগ্রন্থের স্রষ্টা।"কবিকর্ণিকা" -কবিতাপত্রের সম্পাদক। কবিতা

সপ্তপদী ঋতুপদ

.

রোদ ছায়ায় ভাসত-ভাসতে একদিন
টুপটাপ মাটিকে বলল, এবার যাই।ঘোমটা নয়, ওড়না খুলে শিশির, শব্দ না করে চুপচাপ বসল পাতার শরীরে।পাতার সে কী শিহরণ! বুঝল, এবার খসে পড়ার সময় এল চলে। কুয়াশায় ঢেউ কেটে একলা চাঁদ সাঁতরে চলল সারা আকাশ।

২.

মাটির শরীরে সে কী টসটস রসের ফাটল! আপশোষের হাতে হাত রেখে ফাটল,গান ধরল ইতু পুজোর। শিকড় কি পারবে ধরে রাখতে, সবটা মায়া? শরীরী বীজ কোমর দোলাতে-দোলাতে যাবার  সময় কিছু চুম্বন ফেলে যায়। ইন্দুরের মুখঠোঁটে বেজে উঠে জীবনের গান।

৩.

গায়ের খড়ি-ফোটা দাগ গুড়িসুড়ি দিয়ে যখনই উনুনকে ভালোবেসে ফেলে খুনসুটি পিছু ছাড়েনা।কথাকে অ-কথার মালা গলায় দিয়ে হি-হি ফাঁকা মাঠ ঘরে ঢুকতে চায়। ইতিমধ্যেই ঘরের ভেতরে আর একটা করে ঘর গড়ে তোলে  প্রত্যেকের হিম দেয়াল।

৪.

হাওয়া,খুলে ফেলল সব বাস।ভেতরের রাঙাচেলি নাচের পায়ে ঘুঙুর বেঁধে আকাশ আঁকল নীল। লজ্জা উঁকি দিল হরিৎ চোখে।কোথা থেকে সুরের হাতধরে কথা বাজতে-বাজতে পাতার ঝরাগুলি কুড়িয়ে নিল, আদরে তুলে রাখল প্রজাপতির রঙিন ডানায় মুখর মুর্ছনা!

৫.

ধুলো,তার সবটা সাহস তুলে নিতে বলল ঝড়কে। পাগলা মাতন আকাশকে ছুঁয়ে দেখে,মেঘের গায়ে জল! উঃ কী নিদারুণ ত্রস্ত পা কোথায় লুকোবে তরবারী,ভেবে না পেয়ে নদীর বালিতে মুখ লুকোয়। আলোর দীর্ঘশ্বাস লুটিয়ে পড়ে বুঝিয়ে দেয়,দিন শেষ হল বলে পর্জন্য ঝিমরিম।

৬.

কখনও বা মন খারাপ গুলি একলা দাওয়ায় বসে ঝিরি শব্দ দেখে।কখনও টাপুর শোনাতে চায় গুগলির গান।
আহা,টুপুর এলানো শরীরে স্নান সারো নিজ্ঝিম ভালোবাসার! এ কী আনন্দ! সোহাগ-সম্ভোগ বোঝে শুধু ময়ূর পেখম আর গাছেদের ঢলাঢলি মিলন উৎসব!
Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!