• Uncategorized
  • 0

দৈনিক ধারাবাহিক উপন্যাসে মৃদুল শ্রীমানী (পর্ব – ৭৭)

পর্ব – ৭৭

৭৬

কারখানায় যাবার আগে রান্না ঘরে ঢুকে শ‍্যামলী পিসিকে বলল, খেতে দাও।
সবিতা পিসি তাকে লুচি আলুরদম এগিয়ে দিতে, সে অবাক হয়ে বলল, পিসি, কাল যে একমুঠো ভাত রেখে দিয়েছিলাম, সেটা দাও না কেন?
সবিতা রাগ দেখিয়ে বলল, তোমার মা এখনো বেঁচে আছেন, সেটা মনে রেখো।
শ‍্যামলী বলল, পিসি, ভাতের সঙ্গে তার সম্পর্ক কি?
সবিতা বলল, ওরে, ষষ্ঠীর দিন মায়ের বাছাকে ভাত খেতে নেই। পোড়া কিছুও খেতে নেই। লুচি খেতে হয়।
শ‍্যামলী জানতে চাইল, ভাতটা কে খাবে?
সবিতা বলল, অ্যাই শোন্, আমি তোর মাইনে করা চাকর না কি, সব প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে? বলব না যা।
শ‍্যামলী বলল, বুঝতে পেরেছি। তুমি খাবে। তাই না?
সবিতা বলল, হ‍্যাঁ। তাই খাবো। আক্রা গণ্ডার দিন, নষ্ট তো করতে পারি না।
শ‍্যামলী মনঃক্ষুণ্ণ হয়ে বলল, আমি যদি জানতাম, কালকে ভাতটা আর রাখতাম না। তুমি বারণ করেছিলে।
সবিতা গম্ভীর হয়ে বলল, শ‍্যামলিমা, তুমি যদি আমার কথাগুলো একটু শুনতে, তাহলে আরো কত কি ভাল হত।
শ‍্যামলী বলল, আজ লুচি খুব সুন্দর হয়েছে। কি চমৎকার করে ফুলেছে।
সবিতা অভিমান করে বলল, থাক্ পিসির আর মন যোগাতে হবে না। সেই যে ছেলে দুটো এসেছিল, তাদের লুচি খাওয়াবার বেলা তো আমায় কিছু করতেই দিলি না!
শ‍্যামলী বলল, আচ্ছা, আবার আসবে বলছে। তখন তুমিই লুচি ভেজো।
সবিতা বলল, কবে আসবে বলছে রে?
শ‍্যামলী হেসে বলল, আসতে বললে তো এখুনি চলে আসবে। আমি ঠেকিয়ে রেখেছি।
সবিতা বলল, না রে, ওরা খুব ভাল। তোর বাবার শরীর খারাপ হলে যা করেছিল, নিজের লোক অত করে না।
শ‍্যামলী বলল, অ। তা বেশ। তাহলে সকালে অত ঘি আর আগুন নিয়ে বলছিলে কেন? অরিন্দম তো ওদের‌ই একজন।
সবিতা বলল, এই রে, তা তো আমি বুঝতে পারি নি। আমি ভাবলাম আবার কারুর সাথে ভাবটাব করলি কি না। আচ্ছা, রমানাথ তোকে সেই যে দেখে গেল, তারপর আর তার কথা কিছু বলিস্ না তো?
শ‍্যামলী মজা করে বলল, পিসি, আমার মরার সময়টা পর্যন্ত নেই। যম যদি এসে বলে, চলো, তোমায় নিয়ে যাই, তাকে বলতে হবে, দাঁড়ান মশাই, আমার হাতে এখন অনেক কাজ। আপনি কদিন বাদে আসুন।
আ খেলে যা! কথাবার্তার কি ছিরি তোর? আজ না ষষ্ঠী! তোর মুখে এইরকম শুনতে ভাল লাগে না।
কথা ঘোরানোর ছলে শ‍্যামলী বলল, সিমুইয়ের পায়েসটাও ভাল হয়েছে পিসি। কখন তুমি করলে?
সবিতা বলল, হ‍্যাঁ, তুমি সকাল থেকে বকবকানি না করলে আমার একটু উবগার হত। আমি ভোরে উঠে ময়দা মেখে আলু কুটে রেখেছিলাম। সব কিছুর আসল হল প্ল‍্যান। প্ল‍্যান ঠিক করে নিতে পারলে কাজ ঠিক উৎরে যায়।
শ‍্যামলী অবাক হয়ে পিসির দিকে চেয়ে বললো, কি চমৎকার একটা কথা বললে তুমি। দারুণ।
ধন্যবাদ। তোমার পিসিটার একটা কথাও যে তোমার মনে ধরেছে, এ আমার সৌভাগ্য।
হাত ধুয়ে শ‍্যামলী তার পিসির কাছে এসে বলল, ছোটবেলার মত তোমার আঁচলে মুখ মুছব পিসি?
ছদ্ম ধমক দিয়ে সবিতা বলল, ছিঃ, আজ বাদে কাল পরের বাড়ি যেতে হবে। তবু আদিখ্যেতা দ‍্যাখো না?
শ‍্যামলী বলল, ও পিসি, পিসি, আমাকে পরের বাড়ি পাঠিও না।
সবিতা বলল, না, পাঠাবে না! চিরকাল থুবড়ি করে ঘরে রেখে দেবে! তোকে চমৎকার একটা বেনারসি পরিয়ে সাজিয়ে দেবে। চন্দন পরাবে।
তোমাকে পরাতে হবে পিসি। আবদারের গলায় বলল শ‍্যামলী।
সবিতা গম্ভীর হয়ে যায়। যা হবার নয়, তা বোলো না শ‍্যামলী। তুমি সব জানো, বোঝো। ছেলেমানুষি করার বয়স তোমার নয়।
শ‍্যামলী একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে মাথা নিচু করে ফেলে।

ক্রমশ…

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।