গোষ্ঠী-যাপন মানুষের আদিম প্রবণতা। একা যে বাঁচা যায় না। মানুষ যেমন বোঝে — বাকহারা জন্তু- জানোয়ারও। যে মৌলিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে মানুষ এই দুনিয়ায় এসেছে — মানুষ চিন্তন ক্ষমতা রাখে —বিশ্লেষণ করা ক্ষমতা রাখে বিচার করার ক্ষমতার রাখে। জানোয়ারেও অনুভূতিমালা আছে, আছে স্নায়বিক উত্তেজনা। কিন্তু তাদের যে চিন্তন ক্ষমতা নেই, বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা নেই ,বিচার করার ক্ষমতা নেই। তাই তারা জঙ্গলে থাকে। মানুষ অট্টালিকায়।যদি আমাদের অনুভূতিমালা থাকে —স্নায়বিক উত্তেজনা থাকে — অথচ আমরা যদি হারিয়ে ফেলি চিন্তনের ক্ষমতা, বিশ্লেষণের ক্ষমতা, বিচার করার ক্ষমতা —- তাহলে তো আমরা পশু! না, এটা তেমন কিছু নতুন কথা না। হিংস্রতাও আসলে আমাদের আদিম প্রবৃত্তি! তবে? এই যে আমরা গাছ কেটে চেয়ার বানালাম। মাথা গোঁজার ঠাঁই বানালাম। ঈশ্বর বানালাম।নবজাগরণ বানালাম। ক্রীতদাস হটালাম।মানবতা আনলাম। যুদ্ধ শেষে শান্তির গান গাইলাম। গণতন্ত্রের জন্য গলা শুকালাম! — শুধুই অহং, ব্যক্তি স্বার্থ, ব্যক্তিগত ঈর্ষায় যখন সমগ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয় — তখনই কপালের ভাঁজে গজিয়ে ওঠে বিস্বাদ রঙের রেখা। ‘সাহিত্য Hut ‘ সম্পাদনা করতে এসে যে উচ্চারণ আমাকে তাড়া ক’রে — এই যে ঘটনা, এই যে রটনা সবই তো আপেক্ষিক! — আমিও তো আজ আছি, কাল দুই দিন। মানুষ থাক্। গোষ্ঠী থাক্।সঙ্গে থাকুক প্রেম। মহাকালই গ্রহণ ক’রে, বর্জন করার আমিই বা কে!