পঁচিশটি বৈশাখ পেরিয়ে গেল
সেই যে দেখা হয়েছিল কৃষ্ণচূড়ার নিচে
আমি ফুল পাড়তে শত চেষ্টায় শতবার হয়েছিলাম বিফল
আর তুমি এসে এক লাফে পেড়ে দিয়ে বললে, ধরো।
আমি থমকে গেলাম
লাজুক মুখে ভাষা ছিলনা
হাতটা বাড়িয়ে দিয়ে
ফুল নিয়ে দিলেম ছুট।
তুমি চিৎকার করে জানতে চাইলে, কি করবে?
আমি পিছন ফিরে এক গাল হাসি নিয়ে বললাম,
কাটাকাটি খেলব।
সেই শুরু
রোজ এনে দিতে কৃষ্ণচূড়ার এক থোকা ডাল
আমি খুশিতে হতাম আত্মহারা।
বয়স তো তেমনি –
ভালোলাগার জিনিষ হাতে পেলেই খুশি
কে দিল? কেন দিল?
এসব মাথায় আসেনা।
একদিন বলে বসলে,
এসো দুজনে খেলি।
উহ!! কি দারুন আনন্দ হয়েছিল সেদিন।
তুমি বারবার হেরে গিয়েছিলে আর
আমি জিতে গিয়ে সে কি খুশি!
আমার কিশোরী মন বুঝতে পারেনি-
রোজ সেই লাল সবুজের মাঝে কি কথা লুকিয়ে ছিল।
সময়ের স্রোতে একদিন ভেসে গেলাম অন্য ঠিকানায়।
আবার এলো বৈশাখ
কৃষ্ণচূড়ার ডালে ডালে
লাল সবুজের মাখামাখি
কিশোরী মনে তখন বোধ এলো
আমাকে দেবার কারন কি ছিল
আমাকে জিতিয়ে নিজে
বারবার হেরে যাবার অর্থ কি ছিল।
পচিঁশ বছর পেরিয়ে গেলো
তোমার হাতে সেই কৃষ্ণচূড়া
আর পাওয়া হলো না,
সেই লাল সবুজ ভালোবাসা পাওয়ার প্রতীক্ষায় আজও
কৃষ্ণচূড়ার নিচে দাঁড়িয়ে থাকি,
শতশত মানুষের ভীড়ে অস্থির
চোখ দুটো শুধু তোমাকেই খোঁজে,
কিশোরী মন এখনো
তোমারই প্রতীক্ষায়।