মেহফিল -এ- কিসসা কবিতা ডিসেকশন শাপলা সপর্যিতা

পেশা শিক্ষকতা। অরণী বিদ্যালয়ে বাংলা সাহিত্য ও সৃজনশীল লেখা বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। প্রকাশিত হয়েছে এই পৃথিবী এই দেশ ও নিভৃত পরবাস নামে দুটি কবিতার বই। টাইমমেশিন ও গুপ্তহত্যা অতঃপর নামে দুটি বড় গল্পের বই। মূলত উপন্যাস লিখছেন। বর্তমানে ‘সম্পর্কটি শুধুই জৈবিক’ নামে একটি ধারাবাহিক উপন্যাস লিখছেন। ঢাকায় বসবাস করেন।

কবিতা ডিসেকশন : স্নান (জয় গোস্বামী)

।।পর্ব-৪।।

জয় গোস্বামীর ’স্নান’ কবিতাটি আবৃত্তি করেছিলেন স্রোত আবৃত্তি সংসদের মাহতাব সোহেল। এটা ছিল দলের একটি ট্যালেন্ট শো। দলের তুখোড় আবৃত্তিকারদের আবৃত্তির প্রদর্শনী হতো। দর্শনীর বিনিময়ে শ্রোতারা শুনতে আসতেন। তখন প্রচুর শ্রোতাদর্শক হতো এক একটি অনুষ্ঠানে। অন্যান্য আবৃত্তির দলগুলো দিনের দলীয় চর্চা শেষ করে দলবেঁধে আসতেন আবৃত্তির অনুষ্ঠান দেখতে। আমি যে সময়টাতে আবৃত্তির জগতে ছিলাম ও স্রোত আবৃত্তি সংসদের সাথে কাজ করতাম তখনকার আবৃত্তি জগতের অনেক প্রিয় মানুষদের মধ্যে এই অবধি আমার ভীষন প্রিয় একজন মানুষ মাহতাব সোহেল। সকলের প্রিয় সোহেল ভাই। এরপর যতবার যেখানেই যার কণ্ঠেই শুনেছি ’স্নান’ কবিতার আবৃত্তি আমার কেবল মনে পড়েছে সদা হাস্যজ্জ্বোল সোহেল ভাইয়ের ‘স্নান’ কবিতা আবৃত্তিরত স্টেজে দাঁড়ানো প্রতিমূর্তিটি আর তার পেছনের গল্প। এ লেখা লিখতে বসে আজও আবৃত্তিকার মাহতাব সোহেলভাইয়ের চেয়েও বেশি বার বার মনে পড়ে যাচ্ছে স্রোত আবৃত্তি সংসদের তখনকার প্রোডাকশন ম্যানেজার মাহতাব সোহেলেরই কথা। আজ সে কথাই লিখতে বসেছি। তখন তিনি ছিলেন দলের সহকার সচিব। যদিও আমার সাংগঠনিক পোস্ট আর বিষয় নিয়ে কখনো কোনো কালেই চিন্তা ভাবনা ছিল না। মনেও থাকতো না। এখনো মনে থাকে না কোন ব্যক্তি কোথায় কোন বড় পোস্ট অধিকার করে বসে আছেন। পদাধিকারের চেয়ে ব্যক্তি মানুষটাই বরাবর আমার কাছে অনেক বড়। কিন্তু মাহতাব সোহেলের পদাধিকার নিয়ে তবে কেন এত কথা বলছি তার কারণটাও ‘স্নান’ কবিতার আবৃত্তিযোগ্য নির্মাণের প্রসঙ্গে না বললেই নয়। তিনি মূলত দলের যে কোনো প্রযোজনার যাবতীয় আয়োজন প্রয়োজন আর বিস্তৃত কর্মযজ্ঞের দায়িত্ব পালন করতেন। হল বুকিং আর ভাড়া ঠিকঠাক মতো হলো কি না, প্রযোজনার যাবতীয় চিঠিপত্রগুলো ঠিকঠাক প্রিন্ট হয়ে এসেছে কি না, টিকিটগুলোর কি অবস্থা, ব্যানারটা সময়মতো এসে পৌঁছালো কি না, স্টেজের ডেকোরেশন ঠিকঠাক মতো হলো কি না, মাইক্রোফোন, লাইট, মিউজিকের যাবতীয় জটিল আর দায়িত্বপূর্ণ কাজগুলোর জন্য দল সবসময় তার উপরই নির্ভরশীল। এই মানুষটি আবৃত্তি করতেন খুব কম। যে কোনো অনুষ্ঠানে আমাদের মধ্যে কবিতা নিয়ে যে কাড়াকাড়ি পড়ে যেত তিনি তার ধারে কাছে থাকতেন না। অথচ দলের সাথে তার যোগ এক অদ্ভুত আয়োজনে পূর্ণ করে রাখতেন। আর হাসিমুখে জয় করে নিতেন সবার মন। মাহিদুল ইসলাম তাকে দিয়ে পড়াবেন জয় গোস্বামীর কবিতা ‘স্নান’। সোহেল ভাইও রাজি হয়ে গেলেন। প্রথম দিনের রিহার্সেলে তিনি পড়ছেন, আকর্ণ হাসি হাসি মুখে দুরন্ত হাস্যরসে ভরিয়ে উচ্চারণ করছেন;
-সংকোচে জানাই আজ একবার মুগ্ধ হতে চাই
মাহিদুল ইসলাম বেশ জোরেই বলে উঠলেন
তোমার সংকোচ কই? তার আগেই তো দেখি তুমি মুগ্ধ হয়ে রয়েছ। তা হলে তো হবে না। আগে তো এই সংকোচ আর মুগ্ধতার মাঝখানে যে বেদনাবোধ তাকে অনুভব করতে হবে?
সাথে সাথে তার সেই হাসিমাখা মুখে নেমে এলো সিরিয়াসনেসের গম্ভীরতা। খুব ঠাণ্ডা আর পরিমিত স্বরে শুরু হলো আসল প্রচেষ্টা’
-সংকোচে জানাই আজ একবার মুগ্ধ হতে চাই
হা হা হা। মাহিভাই এবার হেসে উঠেছিলেন। সাথে আমরাও। এত কাঁদো কাঁদো মুখ সোহেলভাইয়ের এর আগে কখনো আমরা দেখিনি কোনোদিন।
একজন পুরুষ, একজন অন্তর্নিহিত প্রেমিক, একজন কবি, যিনি একান্তে নির্বাক দেখে চলেছিলেন এতকালের নিজের ইপ্সিত প্রেমাস্পদের অযত্ন অপরিচর্যায় হত প্রেমিকের দ্বারা শোষিত বঞ্চিত বেদনাবিক্ষুব্ধ জীবন- দুঃখময় পরিণতি। সে যাতনার ক্ষোভটাই সমগ্র কবিতাজুড়ে প্রতিফলিত হয়েছে ‘স্নান’ কবিতায় আর সেটাই কণ্ঠের বাক আর ভঙ্গিতে ফুটিয়ে তুলতে দেওয়া হয়েছে এমন হাস্যোজ্জ্বল সুখি সুখি চেহারার সোহেলভাইকে! আমি মনে মনে বলছিলাম, ‘এটা কিছু হলো? এ সোহেল ভাইয়ের কাজ নয়।’ মনে মনে আরও ভাবছিলাম শেষমেষ এ কাজে হয়তো ক্ষান্ত দেবেন তিনি। বলবেন, ‘ধুরছাই, আমাকে বাদ দেন তো। আমার দ্বারা এ হবার নয়।’ কিন্তু না, তা হয়নি। শুরু হলো চিরিকেটে কবিতার ডিসেকশন। কবির জীবন, দর্শন, বিয়োগ, ব্যথা, যাপনকাল, যাপিত বিষাদ, অতিক্রান্ত কালানুকাল নিয়ে দীর্ঘ দীর্ঘতর আলোচনা আর দিনের পর দিন কবিতার পাঠ।
‘স্নান’ কবিতায় এমন একটি বোধ এবং কামনা বা লিপ্সার বিস্তার ঘটিয়েছেন কবি জয় গোস্বামী যা প্রায় প্রতিটি মানুষের জীবনের গভীরে ঘটে গেছে কোনো না কোনো সময়। ত্রিকোণ প্রেমের প্রচণ্ড এক গুরুগম্ভীর অথচ স্বচ্ছজালের বিস্তার করা হয়েছে কবিতায় দারুন মুন্সীয়ানায়। প্রথম পুরুষে যে গল্প ‘স্নান’ কবিতায় করে চলেছেন কবি সে গুপ্ত প্রেমিক উদ্ধৃত প্রেমিকার কাম্য নয়। কাম্য নয় এই গোপন পুরুষ। তিনি অন্য পুরুষে আসক্ত। তার আরাধ্য পুরুষের ভেতর চাই বন্যতা, চাই দস্যুতা। যে একই সাথে দস্যুর মতো হরণ করবে তার প্রেম ও প্রেমজ সুখ একই সাথে যে পরাবে ফুলের মালা। সে মুগ্ধ প্রেমিকা না জানলেও কিন্তু কবি জানেন, দস্যুর কাছে ফুলের প্রার্থনা অবান্তর। দস্যুর কাছে প্রেম পরিণয় সংসার কিংবা হৃদয়ের আকুতি মিথ্যে, ভুল। সকল হৃদয়জ আসক্তি কিংবা নিনাদ তার কাছে তুচ্ছ, বস্তুগত অর্থে ভোগই তার বিলাস। কিন্তু যে পুরুষ আনখ লুণ্ঠন করে প্রেমিকাকে ফেলে রেখে গেছে পথে, তাকেই এখনো প্রেমিকা গোপনে জড়িয়ে থাকে। ভরিয়ে রাখে। আহতহৃদয় প্রণয়িণী এ মিথ্যা বাগদানকে ভুলে যেতে পারে না। স্মৃতি বিজড়িত হয়ে নিজেকে গোপনে রাখে সে প্রেমিকেরই খোলসে। গোপনে প্রেমিক কবি সে মিথ্যে আঁকড়ে পড়ে থাকা প্রেয়সীর অন্তর্গত ব্যথায় আরক্ত। এত ব্যথা এত বেদনা যেন নিজেরই বুকে বিঁধে থাকে তার। গোপন প্রণয়িনীর প্রতারিত হবার যন্ত্রণা যেন নিজেরই বুক চিরে চিরে রক্ত প্রবাহকে করে তোলে উন্মত্ত;
-জানি, পুরুষের কাছে দস্যুতাই প্রত্যাশা করেছ।
তোমাকে ফুলের দেশে নিয়ে যাবে বলে যে-প্রেমিক
ফেলে রেখে গেছে পথে, জানি, তার মিথ্যা বাগদান
হাড়ের মালার মতো এখনো জড়িয়ে রাখো চুলে।
সব জানার পরেও কবির এতকালের নির্বাক ভালোবাসা গোপনে হাহাকার করে ওঠে। কখনো বিদ্রোহও করে ওঠে সব অন্যায় আর অকারণ প্রতীক্ষা প্রহরান্তে লিপ্সার বিরুদ্ধে। তাই নির্লিপ্ত থাকা গোপন প্রেমিকের হৃদয় কোনো এক সহৃদয় মহূর্তে বিদীর্ণ হয়ে ওঠে। হঠাৎ সে প্রেমিক প্রত্যাশার স্ফুরণ ঘটাতে বদ্ধ পরিকর হয়ে ওঠে;
-আজ যদি বলি, সেই মালার কঙ্কালগ্রন্থি আমি
ছিন্ন করবার জন্য অধিকার চাইতে এসেছি? যদি বলি
আমি সে – পুরুষ, দ্যাখো, যার জন্য তুমি এতকাল
অক্ষত রেখেছো ওই রোমাঞ্চিত যমুনা তোমার?
তারপর একের পর এক সঙ্গোপনে প্রিয়তরের জন্য কিংবা প্রিয়সঙ্গ কামনায় অধীর নিজেকে দিনের পর দিন সংবরণ করার এবং যাতনাহত মর্মন্তুদ মনোবেদনার অসাধারণ প্রকাশ ঘটেছে এসে এই লাইনগুলোতে;
শোনো, আমি রাত্রিচর। আমি এই সভ্যতার কাছে
এখনো গোপন করে রেখেছি এই দগ্ধ ডানা;
সমস্ত যৌবন ধরে ব্যাধিঘোর কাটেনি আমার।
আমি একা দেখেছি ফুলের জন্ম মৃতের শয্যার পাশে বসে,
জন্মান্ধ মেয়েকে আমি জ্যোৎস্নার ধারণা দেবো ব’লে
এখনো রাত্রির এই মরুভূমি জাগিয়ে রেখেছি।
শেষ লাইনটিতে অসাধারণ কামনা আর যাতনার প্রকাশ একই সাথে! মানবীয় শরীরের ভেতরে প্রেম প্রত্যাশা কামনার এক বিশেষ পূর্ব ভাষায় উচ্চকিত হয়েছে কি করে বোঝাই। প্রিয়ার জন্য নিজেকে অক্ষত রাখা। অসম্পূর্ণ করে রাখা নিজেকে সম্পূরণের জন্য। সত্যিই তো তাই। যে প্রেম যে ভালোবাসা শ্বাশত তাইতো বাঁচিয়ে রাখে যৌবন। ব্যক্তির মনোদৈহিক বোধ আর তার নিয়ন্ত্রিত নিষ্কলঙ্ক প্রত্যাশা – প্রত্যাশার স্ফুরণেই যুগে যুগে মানব মানবী প্রেমের বিজয় পতাকা উড়িয়ে চলেছে। সে প্রেমই চিরকাল উচ্চতর শ্রদ্ধায় সমুন্নত রয়েছে চিরকাল। আর যা দৈহিক যা প্রগলভ তা ভ্রম তা স্বল্পায়ু তা অশ্রদ্ধার। তাইতো প্রেমিক দস্যুর নামাঙ্কিত হয়। প্রেম উদার প্রেম ক্ষমার্হ প্রেম চিরকালিন। যে সংকোচে এতটা কাল প্রিয়স্পদের কাছে নিজেকে আড়াল করে রেখেছেন এক কবি আজ তার এই নির্বাঁধ প্রকাশকে আভরণে ভালোবাসার ঝর্ণার মতো উচ্ছ্বাসে ভাসিয়ে নিতে প্রিয়ার দ্বারস্থ হয়েছেন যখন সাঙ্গ হয়েছে তার প্রেম ও প্রত্যাশার ফলাফল। যখন সে নিঃস্ব যখন যে অপমানিত যখন সে শূণ্য বুকে বিক্ষিপ্ত তখনই প্রেমিক কবি নিজের সঙ্কোচ ভেঙে জটাজাল ছাড়িয়ে নিজেকে যেখানে এনে ফেলেছেন, সেখানে তার প্রিয়তরেরও অংশগ্রহনের আহ্বান জানিয়েছেন যখন তিনি প্রিয়ার সাথে সকল ভয় লোক লজ্জা সংকোচ সমাজ কিংবা সামাজিক বিধি নিষেধকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মিশে যেতে চান এক আধোদৈবিক উন্মাদনায়;
-যদি বুঝে থাকো তবে একবার মুগ্ধ করো বধির কবিকে;
সে যদি সংকোচ করে, তবে লোকসমক্ষে দাঁড়িয়ে
তাকে অন্ধ করো, তার দগ্ধ চোখে ঢেলে দাও অসমাপ্ত চুম্বন তোমার
পৃথিবী দেখুক, এই তীব্র সূর্যের সামনে তুমি
সভ্য পথচারীদের আগুনে স্বম্ভিত করে রেখে
উন্মাদ কবির সঙ্গে স্নান করছ প্রকাশ্য ঝর্নায়।
এই যে কিছু শব্দ আর বাক্য চয়ন ‘আগুণে স্তম্ভিত করে’ ‘অসমাপ্ত চুম্বন’ ‘মুগ্ধ করো’ ‘কঙ্কালগ্রন্থি’ ‘রোমাঞ্চিত যমুনা’ ‘মিথ্যা বাগদান’ কি অপরূপভাবে যে বেদনার প্রকাশিত রূপকে মূর্ত করে তুলেছে তা পাঠক মাত্রই বুঝতে পারছেন। আর যিনি কবিতাটি আবৃত্তি করছিলেন তিনি স্বাভাবিকভাবেই সহৃদয় হৃদয় সংবেদী একজন মানুষ। শুরুর কথোপকথনে বোঝাই যাচ্ছে কবিতাটিকে আবৃত্তিযোগ্য নির্মাণের পর্যায়ে নিয়ে যেতে কী অসাধারণ পরিশ্রম করতে হয়েছিল সেদিন আবৃত্তিকারকে। তারপরও কবিতাটি আবৃত্তিকারকে যে কি অপরিসীম ভালোবাসায় যাতনায় আনন্দে বিরহে বিদ্রুপে ক্ষত বিক্ষত করে নিয়ে চলে গিয়েছিল কোন এক উন্মার্গ সময়ের ধারে কাছে যারা কবিতাটির আবৃত্তি মঞ্চে শুনেছিলেন তারাই বলতে পারবেন। আমি সেদিন মুগ্ধ বিস্ময়ে স্টেজে ক্ষীণ আলোর স্পট লাইটে একজন আবৃত্তিকারের বদলে আহত বেদনার্ত প্রেমিক কবির স্খলিত যাতনার পরিশীলিত সংক্ষুদ্ধ বেদনার অপরূপই যেন দেখছিলাম। আবিষ্কার করেছিলাম একজন অসাধারণ আবৃত্তিকারকে পাবলিক লাইব্রেরীর দর্শক সারির শেষ অংশের ফ্লোরে বসে। আমি বরাবর মুগ্ধ শ্রোতা। যা মনে ধরে যায় তার কোনো স্খলন নেই পতন নেই আমার স্মৃতিতে। তাই আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, এই কবিতার নির্মাণের পেছনের গল্প অনেকেই ভুলে গেছেন এমনকি সোহেল ভাইও কিন্তু আমি এতবছর পরেও স্মৃতি থেকে হুবুহু তুলে আনছি সেই গল্প। দল ছেড়ে এসেছি বহুদিন। আবৃত্তি ছেড়েছি বহুকাল। এরপরের কোনো কাহিনি আর জানা হয়নি। শোনাও হয়নি সোহেল ভাইয়ের আর কোনো আবৃত্তি। কিন্তু স্নান কবিতার অসাধারণ আবৃত্তির রেশ বারবার কানে লেগে থেকেছে যতবার একান্তে পড়েছি কবিতাটি।

ক্রমশ …

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।