মেহফিল -এ- কিসসা নুসরাত রীপা

বৃষ্টি ঝরা রাত

১)

ইন্টারকমে গার্ড জানালো এক ভদ্রলোক আপনার ফ্ল্যাটে আসতে চাইছেন।

রাত প্রায় এগারোটার মতো বাজে। দুপুরের পর থেকে যে বৃষ্টি শুরু হয়েছিলো সেটা আর থামেনি।  মাঝে মাঝে ক্লান্ত হয়ে জলের তোড় একটু কমে আসে কিন্তু কিছু পরেই আবার সেই ঝুপ ঝুপ ঝুপ ঝুপ বারিপাতের শব্দ। রুমানার আট তলার ফ্ল্যাট থেকে বৃষ্টির শব্দ শুনতে পাওয়ার কথা না। কিন্তু এ বিল্ডিং এর পাশেই নতুন দালান উঠছে। কেয়ারটেকার আর মাল সামাল রাখার জন্য একটা টিনশেড ঘর আছে। বৃষ্টির পানি টিনের চালে একটানা সুরে ঝরছে।  অফিস থেকে ফিরতে আজ মেলা দেরি হয়েছিলো। বৃষ্টি হলে ঢাকার রাস্তার যানজট বেড়ে যায়।ফলে ঘন্টার পর ঘন্টা রাস্তায় আটকে থাকতে হয়।আধ ভেজা হয়ে বাসায় ফিরে সবেমাত্র রান্না খাওয়া শেষ করে বিছানায় শুয়েছে । এমন সময় গার্ড এর ফোন পেয়ে ভ্রু কোঁচকালো। একা থাকে। নাম ধাম না জেনে কাউকে বাসায় আসতে দেয়া উচিত নয়। বিপদ আপদ বলে কয়ে আসে না।
বললো,কে এসেছে? নাম জিজ্ঞেস করো।
রুমানার কথা শেষ হতে না হতেই ও পাশে পরিচিত কন্ঠ শোনা যায়,রুমু আমি,আমি এসেছি। মাহমুদ। বৃষ্টিতে ভিজে গেছি। আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারছি না। তোমার দারোয়ানদের বলো আমাকে আসতে দিতে।

মাহমুদ রুমানার পরিচিত, বন্ধু। একাডেমিক বন্ধু না হলেও বেশ ভালোই যোগাযোগ। যদিও মাহমুদ ফোন না করলে ওর হদীস মেলে না। তবুও মাঝে মাঝেই দীর্ঘ আলাপ ও হয় ওদের!
এর আগে মাহমুদ কোনোদিন রুমানার বাসায় আসেওনি। একদিন পল্লবীর জন্মদিনে অনেক রাত হয়ে যাওয়ায় পল্লবীর অনুরোধে রুমানাকে রিক্সায় করে পৌঁছে দিয়ে গিয়েছিলো। তাও বিদায় নিয়েছিলো গেটের বাইরে থেকেই।

মাহমুদকে যখনই দেখে তখনই রুমানার কাছে ভীষণ অপরিচিত একজন বলে মনে হয়। আত্মমগ্নতায় আচ্ছন্ন।  কোনো চাকরী সে দুতিন মাসের বেশি করে না।  তার কথা ঈশ্বর তাকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন কবিতা লেখার জন্য। সে যদি অন্য কাজ করে তবে তার কবিতা লেখা ক্ষতিগ্রস্থ হবে। এ জীবন সে কাটিয়ে দেবে কেবল কবিতা লিখে লিখে। তাই সে কেবল কবিতা লিখে বেড়ায়। তবে কবিতার ব্যাপারেও  ততোটা সিরিয়াস নয়। গম্ভীর প্রকৃতির আর কথা বলে মেপে তা সত্ত্বেও কিভাবে যেন বশ করে ফেলে পরিবেশ। রুমানা বিস্ময়ের সাথে দেখেছে এই আত্মমগ্ন এবং খামখেয়ালি যুবকটির বিশাল এক ভক্ত কূল রয়েছে যার একটা বিশাল অংশ নারী।

রুমানা বুঝে পায় না, এই কালো রাম গরুরের ছানা টাইপ  ছেলেটার মধ্যে মেয়েরা কী পায় যে এভাবে ঘিরে থাকে!

রুমানার বন্ধুবান্ধব হাতে গোণা। ওর আদর্শ,মূল্যবোধ,নৈতিকতা আর দশ জনের চাইতে একটু ভিন্ন। যেমন ও বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আর বিবাহ বর্হিভূত শারীরিক সম্পর্ক ওর অপছন্দ।আর মাহমুদের কাছে শরীরের সাথে বিয়ের কোনো সম্পর্ক নেই। আর মাহমুদের বন্ধু বান্ধবীর হিসাব নেই!

রুমানা বিয়ে করবে না বিষয়টা নিয়ে খুব হাসে মাহমুদ। বলে, করবা ঠিকই। তোমার মন মতো কেউ নাই তাই করবা না বলো!
আরে না- রুমানা বিরক্ত হয়।
মাহমুদ বলে, আমাকে করবা?

মাহমুদ এর এ প্রশ্নের উত্তরে রুমানা হাসে। মাহমুদ সব সময়ই বলে বিয়ে করলে তুর্কী মেয়ে বিয়ে করমু। আমার কালো রং তার ফরসা রং এর সাথে থাকতে থাকতে যাতে ফরসা হয়ে যায়!!

সেই মাহমুদ,এখন বৃষ্টিতে ভিজে রুমানার বাসায় আশ্রয় চাইছে। রুমানা দোনোমনা করে গার্ডকে বললো, ওকে উপরে আসতে দিন।

মিনিট দুয়েক পরেই ডোর বেল বাজলো। দরজা খুলে মাহমুদকে দেখে চমকে উঠলো রুমানা। সারা শরীর জলে ভেজা। একমাথা ভেজা চুল থেকে টুপ টুপ করে পানি পড়ছে। শার্টের কোনা দিয়ে ভেজা চশমা মুছে মুছে ঘোলা ভাবটা দূর করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে। চোখ দুটো টকটকে লাল। বোঝাই যাচ্ছে নেশা করে এসেছে।
মনে মনে প্রমাদ গুনলো রুমানা। মাহমুদ কে উঠতে দেয়া ঠিক হয়নি।

কিন্তু ভাববার অবকাশ পায় না।  দরজা খোলা পেয়ে রুমানাকে প্রায় ধাক্কা দিয়ে
মাহমুদ ঘরে ঢুকে পড়ে। তারপর টলানো কন্ঠে বলল, একটা তোয়ালে টোয়ালে তো দাও কিছু। দেখছো না ভিজে শীত করছে আমার।

মাহমুদের কন্ঠস্বরে একই সংগে ভয় পায় এবং ভড়কে যায় রুমানা।স্বাভাবিক পর্যায়ে নেই মাহমুদ।এমন ভঙ্গীতে কথা কেবল খুব আপনজনের সাথেই বলা সম্ভব।

আলমিরা খুলে পরিস্কার তোয়ালে নিয়ে ফিরে দেখে ভেজা শরীরেই সোফার ওপর কাত হয়ে শুয়ে আছে মাহমুদ। বার দুই হালকা স্বরে ডাক দিয়ে কোনো সাড়া পাওয়া যায় না। চিন্তিত হাত বাড়িয়ে মাহমুদের কপাল ছুঁয়েই চমকে ওঠে রুমানা। জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছে।

২)

রুমানা মফস্বলের মেয়ে।  কলেজের অধ্যাপিকা মা আর দুই ভাই নিয়ে সংসার। বাবা নেই। ভাইদের একজন চিটাগং মেডিকেলে পড়ে। অন্যজনের এখনো কলেজ শেষ হয়নি। সে মায়ের সাথেই থাকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করে বছর ছয়েক আগে একটা মাল্টিন্যাশনালে জয়েন করেছে রুমানা। স্মার্ট স্যালারি। উজ্জ্বল ভবিষ্যত।  বিয়ে, সংসার এসব নিয়ে কোনোদিন ভাবে নি। ভাববার অবকাশ যেমন হয়নি তেমনি ইচ্ছেও হয়নি। মা বার কয় বিয়ের কথা বলেছিলেন। রুমানা সাফ জানিয়ে দিয়েছে ও বিয়ে করবে না। একা থাকবে। মা যদি বেশি চাপাচাপি করেন তবে অফিস কে বলে পোস্টিং নিয়ে দেশের বাইরে চলে যাবে। তরুণী মেয়ে একা একা দেশের বাইরে যাবে এটা কোনো মধ্যবিত্ত পরিবারের মা ই চান না। রুমানার মা ও চাইলেন না। কাজেই তিনি এ ব্যাপারে কথা বলা বাদ দিয়েছেন।

রুমানার ভাড়া ফ্ল্যাট ঝিকাতলায়। চাকরীতে জয়েন করার পর উঠেছিলো। এখনো এতেই আছে। বাড়ির মালিক ওকে খুবই পছন্দ করে। সে কারণেই গুলশানের অফিসে যাওয়া আসাটা বেশ কষ্টকর হলেও বাসাটা ছাড়েনি।

একা থাকার মজাটা পুরোপুরি এনজয় করে ও। সুযোগ পেলেই গ্রুপ ট্যুরে যায়। মুভি দেখে। সেই রকম একটা গ্রুপ ট্যুরেই মাহমুদের সাথে পরিচয়। নেত্রকোনায় আদিবাসী যাদুঘর দেখতে গিয়ে। পরিচয়ের পর ক্রমশঃ যোগাযোগ বেড়েছে আরো যখন কথায় কথায় দুইজনেরই কিছু কমন ফ্রেন্ড পাওয়া গেলো!

পল্লবী মাহমুদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু কিন্তু কতোটা তা পল্লবী বা মাহমুদ বলে নি। কিন্তু রুমানা আন্দাজ করে হয়তো ওরা দুজনে পরস্পরকে ভালোবাসে।  তা নইলে মুডি মাহমুদ পল্লবীর সব কথা মুখ বুঁজে মেনে নিতো না।

রুমানার মনে পড়ে পল্লবী লালমাটিয়ায়  দিকে থাকে। মাহমুদ হয়তো ওখানেই বেড়াতে এসেছিলো।  এখন ফিরে যাবার পথে বৃষ্টি বলে এখানে এসেছে।

রুমানার বাসায় কখনো পুরুষ মানুষ থাকেনি।  রুমানা কাউকে বলেও নি কখনো বাসায় আসতে।বিশেষ করে স্কুল কলেজের বন্ধুরা যারা ঢাকার বাইরে বিভিন্ন স্থানে থাকে, নানা প্রয়োজনে ঢাকা আাসে, রুমানা তাদের বাসায় এনে আপ্যায়ন করে পরে নিজে হোটেলে দিয়ে এসেছে।

রুমানার কবিরের কথা মনে পড়ে।কলেজের বন্ধু।  ছেলেটা রুমানাকে ভীষণ ভালোবাসতো।রুমানা একবার ফ্রেন্ডদের সাথে বলেছিলো ওর নাটোরের কাচাগোল্লা খাওয়ার খুব ইচ্ছে। অমা কবির ঠিকই কলেজ বাদ দিয়ে দুইদিন পর কাচাগোল্লা নিয়ে হাজির। কবিরের ভালোবাসাটা এতোটাই প্রকাশিত ছিলো যে ঢাকায় এসে রুমানার বাসায় থাকতে চেয়েছিলো যখন রুমানা রাজি হতে সাহস পায় নি কবিরের ভালোবাসার উগ্রতাকে ভয় পেয়ে!
কবির ভীষণ রাগ করেছিলো। ও বলে গেছে একদিন রুমানা নিজে ওকে খুজবে!

এখন, মাহমুদ জ্বর নিয়ে সোফায় ঘুমোচ্ছে। রুমানা ঠিক বুঝতে পারে না, মাহমুদের সাথে তার বন্ধুত্বটার সীমানা কতোটা!
কখনো মনে হয় জাস্ট পরিচিত। কখনো মনে হয় বেশ বন্ধু।  আজ তো মনে হচ্ছে বন্ধুতায় খুব গভীরতা না থাকলে কেউ কারো বাসায় এভাবে আসে না। কেউ এভাবে কাউকে থাকতেও দেয় না।

৩)

দুটো প্যারাসিটামল খাওয়াতে রাত দুটো র পর মাহমুদের জ্বর নামলো।  সে সোফায় শুয়েছিলো। রুমানা মাঝে মাঝে এসে বসে থাকছিলো।
জ্বর একটু নামার পর চোখ খুললো মাহমুদ। সামনের চেয়ারে বসে থাকা রুমানাকে দেখে ম্লান হেসে বললো, বড্ড বিরক্ত করছি।  সরি।
রুমানা তার উত্তর না দিয়ে বললো, কী খাবে  বলো।
চুমু- হাসতে হাসতে বললো মাহমুদ।

রুমানা প্রথমে বুঝতে পারে নি। পরমুহূর্তে গম্ভীর হয়ে বললো, আহ্ মাহমুদ একদম আজে বাজে কথা বলবা না। তুমি জানো এসব দুষ্টুমি আমার পছন্দ নয়।

দুষ্টুমি নয় সত্যি —

রুমানা সেদিকে কান না দিয়ে বললো একটু বোসো। একটা স্যুপ নুডুলস করে আনছি। খেয়ে ঐ ঘরে বিছানা আছে গিয়ে ঘুমাবে।
না
কী না?
খাবো না।

রুমানা স্যুপ নুডুলস নিয়ে ফিরে এসে দেখে মাহমুদ স্বাভাবিক ভাবে বসে আছে। হাতে একতাড়া কাগজ। বৃষ্টিতে ভিজে কুঁচকে গেছে।

টেবিলে বাটি নামিয়ে রেখে রুমানা বললো, আহা! কাগজ গুলো দাও শুকানোর ব্যবস্থা করি। আর তুমি এটা খেয়ে নাও।

আমার ইচ্ছা করছে না। খাবো না।

সারাদিন কোথায় ছিলে বলোতো? এই তুমুল বৃষ্টিতে এদিকে কোথায় এসেছিলে?

তোমার কাছেই এসেছিলাম।

তুমি জানো আমি একা থাকি। যদি ঢুকতে না দিতাম।

আমি কোন ঘরে ঘুমাবো? ঘর দেখাও। বসে থাকতে ভাল্লাগছে না। প্রসঙ্গ পাল্টালো মাহমুদ।

একটু খেয়ে নাও। তারপর দেখাচ্ছি।

তুমি খাইয়ে দেবে?

মাহমুদ এর কথা শুনে হেসে ফেলে রুমানা। তোমাকে জ্বরে ধরেছে। থাক খেতে হবে না, চলো ঘরে চলো। রুমানা উঠে দাঁড়ালো। মাহমুদ রুমানার পিছে পিছে গেস্টরুমে এলো। ঘরের লাইট জ্বেলে রুমানা বললো, তাহলে ঘুমিয়ে পড়। আমিও শুতে যাই। বাপরে জ্বরে যেভাবে কাঁপছিলে তুমি, ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম এতো রাতে আবার না হাসপাতালে দৌড়াতে হয়। এসো–

মাহমুদ বিছানায় বসে বললো, একটু একটু ক্ষিদে পাচ্ছে।

ওকে খাবারটা নিয়ে আসছি–

খাইয়ে দেবে? নইলে এনো না।

মাহমুদ গম্ভীর স্বভাবের ছেলে। কথা বলে সে মেপে মেপে। সেই ক্ষেত্রে তার আজকের আচরণ একটু অন্যরকম।  ছেলেমানুষি টাইপ। সম্ভবত নেশা করে আসাটাই এর কারণ।
রুমানা একটু বিরক্ত স্বরে বললো এটা কোনো কথা হলো। পাগলামী ছেড়ে খেয়ে নাও।

বকা দিচ্ছে কেন? করুণ কন্ঠে বলে মাহমুদ। রুমানার কেমন মায়া হয়। ও বলে, সরি! কিন্তু তুমি ছেলেমানুষী করছো যে!

আচ্ছা খাচ্ছি। তুমি তাহলে এই কবিতা গুলি পড়ো।

দাও। ঘরে গিয়ে শুয়ে শুয়ে পড়ি।

না, আমার সমনে পড়।ইনফ্যাক্ট এই কবিতাগুলো আমি তোমার জন্য লিখেছি। তোমাকে দেয়ার জন্যই এই বৃষ্টিতে ভিজে আসা।

রুমানা কবিতা পড়তে গিয়ে একটু অস্বস্তি অনুভব করে।কবিতায় প্রেম এভাবে এসেছে-স্পষ্টই রুমানাই নায়িকা।

কেমন? রুমানার কাঁধে হাত রেখে প্রশ্ন করে মাহমুদ। রুমানা কন্ঠস্বরে হাল্কা সুর এনে বলতে চায়,  বাহ  দারুণ তো। বলতে গিয়ে মাহমুদ এর সাথে চোখাচোখি হয়ে যায়। সেই চোখের ভাষা সুনামি হয়ে রুমানার বুকের ভেতর তুমুল তোলপাড় তোলে।

রুমানা তাড়াতাড়ি স্বাভাবিক হবার চেষ্টায় বলে, তোমার সব কবিতাই অসাধারণ হয়। যাই,ঘুমাতে যাই। তুমিও শুয়ে পড়ো।

কিন্তু মাহমুদ রুমানার হাত চেপে ধরে। বলে,সব কবিতা আর এই কবিতা গুলোর মধ্যে পার্থক্য আছে রুমু!

গরম আগুনের মতো তাপ বেরোচ্ছে মাহমুদের হাতের তালু দিয়ে।  রুমানা হাত ছাড়াতে ছাড়াতে বলে, তোমার জ্বর বোধহয় আবার বাড়ছে।

মাহমুদ হাত ছাড়ে না। বলে, রুমু আমি তোমাকে চাই। প্রচন্ড ভাবে। সারাজীবনের জন্য। অনেকে আমাকে চায়। কিন্তু আমি দেখেছি তোমাকে ছাড়া আর কারো কথা আমার একাকী সময়ে মনে পড়ে না। তুমি না করবা না, প্লিজ।

কিন্তু আমি তো বিয়ে করবো না। কথাটা তুমিও জানো।

বিয়ে করবো না-এটা কোনো চিরস্থায়ী কথা নয় যে একবার বললে সেটা রাখতেই হবে।…….আমি তোমাকে চাই রুমু–

দুইজনের টুকটাক বাক্য বিনিময়ে র ফাঁকে হঠাৎ মাহমুদ দুই হাত দিয়ে রুমানাকে জড়িয়ে ধরে, আমি তোমাকে আজীবন এভাবে রাখবো–

হতভম্ব ভাবটা কাটতেই মাহমুদের কাছ থেকে নিজেকে ছাড়াতে চায় রুমানা,আহা ছাড়ো তো—

মাহমুদ আরো জড়িয়ে ধরে। ওর গায়ের জ্বরের গন্ধ রুমানার শরীরে মেখে যেতে থাকে। রুমানার জোরালো বাধা শিথিল হয়ে আসতে থাকে।
মাহমুদ রুমানার ঠোঁটে-মুখে তীব্র চুমু একে দেয়-একটা,দুটো,তিনটে।
জীবনে প্রথম পুরুষের স্পর্শ, নিষিদ্ধ জেনেও ভালোলাগা ছড়িয়ে পড়তে চায়। চিরকালীন সংস্কার বসে রুমানার কন্ঠ তবু মৃদু প্রতিবাদ করে,আহ মাহমুদ।ছাড়ো আমায়—

রুমানা কে হঠাৎ মাহমুদ মুক্ত করে দেয়। রুমানা গলে যেতে যেতে হঠাৎ থেমে শক্ত হয়ে ওঠে।বলে, ছিঃ মাহমুদ। তুমি এটা করতে পারলা। তুমি আমাকে—

আমি তোমাকে চাই রুমু। তোমার ভালোবাসা চাই।

এভাবে কেউ ভালোবাসা চায়? রুমানার কন্ঠে রাগ।

তুমি রাগ করেছো?  সত্যি? আচ্ছা ঠিকআছে সরি। মাহমুদের মুখে অসহায় ছায়া ভেসে ওঠে। আমি চলে যাচ্ছি। আমি সরি রুমু। মাহমুদ বেরোবার  জন্য পা বাড়ায়।

বাইরে প্রবল বৃষ্টি।  বজ্রপাতের শব্দও শোনা যায়। ঘড়িতে রাত তিনটে পেরিয়েছে। কবিতার কাগজগুলো ঘরময় জ্বরের গন্ধ নিয়ে ছড়িয়ে আছে। বেরোবার দরজার মুখে উস্কোখুস্কো মাহমুদ। হাঁটার ধরণে জ্বরে কাবু বোঝা যায়। হঠাৎ রুমানা দৌড়ে এসে দরজাটা চেপে দিয়ে বলে, এই জ্বর শরীরে আবার বৃষ্টিতে ভিজতে হবে না। বিছানায় যাও।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।