• Uncategorized
  • 0

“পুরুষ” নিয়ে বিশেষ সংখ্যায় আগমনী মিদ্যা

“একলা পুরুষ কর্তব্যে,
একলা পুরুষ পিতায়”।

নারীর অসহায়তা, নারীর যন্ত্রণা, নারীর মনের পরতে পরতে লুকিয়ে থাকা কান্না সতৃষ্ণ নয়নে দেখেছে পুরুষ আর সেই অনুভূতির নিপাট বুনন থেকে তৈরী হয়েছে এই পৃথিবীর কতশত কলা-শিল্প। কিন্তু পুরুষের অসহায়তা, আকন্ঠ প্রেম, নিদারুণ ত্যাগ, দায়ভারের ভারী ঝুলি, তা বইতে বইতে ক্লান্ত হওয়া, হয়ে মুখ থুবড়ে পড়া আবার উঠে দাঁড়ানো নিয়ে কলম ধরেনি নারী বা কোনো সমাজ সংগঠন। যদিও ধরেছে সেটা খুবই নগণ্য। পুরুষ সেখানে বড়ই অসহায়। সমাজ,সংসার, পৃথিবী সবকিছুকে সুস্থ রাখতে সে ঘর্মাক্ত শরীরে বড়ই একা। দুর্যোগ দুর্বিপাক বিপদ তা সমাজ, সংসার, পরিবার, দেশ বা পৃথিবী যেখানেই হোক না কেন তার সিংহভাগের মহাভারের হালটা বরাবরই পড়ে পুরুষের কাঁধে। যখন এক বালক কিশোর থেকে যৌবনে
পদার্পণ করে তখনই তার দু’টো পয়সা রোজকার এবং জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর্বত সমান চিন্তা মাথায চেপে বসে। পুরুষের দায়িত্বে কর্তব্যে পুরুষ বড়ই একা। সংসার, বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তান সকলের হাসিমুখ অমলিন রাখতে চোয়াল চেপে নির্দ্বিধায় বিসর্জন দেয় নিজের ভালো থাকার উপাদানগুলোকে। সন্তানদের
দাবিদাওয়া, আবদার, বিবাহ, প্রতিষ্ঠা করার যে মহাকর্তব্যগুলির দায়ভার তা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পড়ে পিতার ঘাড়ে। সঙ্গত যুক্তি থাক বা না-থাক, সংসারের ধারাবাহিক যে সংস্কার সেটিও কিন্তু পুরুষ যত্ন সহকারে বয়ে নিয়ে যায়। তর্কের খাতিরেই হোক বা সহজাত প্রবৃত্তিতেই হোক নারীর সবল আশ্রয় পুরুষ। পিতৃত্বের লড়াইয়ের ক্ষেত্রে কালপুরুষের মত সে একাই অগ্রণী। কর্তব্যে যে পুরুষ মহাকালের মত শক্ত, পিতৃত্বে সেই পুরুষই বাৎসল্যমধুর। স্নেহমাখা পরশ, সুখ, তৃপ্তি, আবদারের এক অপূর্ব মিশ্রণ। একজন পুরুষ শুধুমাত্র পুরুষ হিসাবে বা পিতা হিসাবে নির্দ্বিধায় পারে; সকলের চাওয়াগুলোকে মূল্যবান করতে গিয়ে নিজের অতি দরকারটুকুকে অপ্রয়োজন বানাতে। তাই পুরুষ পুরুষ হিসাবে নমস্য এবং পিতা হিসাবে আরও বেশি নমস্য। তাই আমরা আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারণ করি;-
“পিতা স্বর্গ, পিতা ধর্ম পিতাহি পরমং তপঃ
পিতোরি প্রিতিমাপন্নে প্রিয়ন্তে সর্ব দেবতা।”
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।