বলছো, ওসব কিছুই না! তুমিই ঠিক। বেশ! স্পন্দনগুলোকে তবে সরিয়ে দিলাম তেতাল্লিশের গুদামে। অ্যাড্রিনালিন জুড়ে দাবার ঘুটি সাজানো হোক এবার। এই যেমন, আমি, একটি স্বেতবর্ণের পর্ণঘোটিকাকে শোয়ালাম একটি ভার্চুয়াল টেবিলে। বস্তুত, ওর কোনো যোনি নেই, মাতৃস্তনও নেই। হাড়গুলো তো কবেই হারিয়ে গেছে যোগেনবাবুর ছবির মতো। এবার, সঙ্গমে, আমি সরাসরি ওর মগজে ছুঁড়ে দেব বুদ্ধের স্পার্ম। তারপর, নিজেই বিজয়ীকে ডিসকোয়ালিফাই করে মন্ত্রীকোটায় সেখানে ঢুকিয়ে দেব ষড়রিপুর বাঁদরছানা। অতঃপর, আমি, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ মাস্টার্ড অয়েলে ব্লোজব করব হৃদয়ের টেন্ডারে, যাতে আমার ক্রেডেনসিয়াল সুবোধবালকের মতো বেড়ে যায় আর মগজ জুড়ে যত উভলিঙ্গেরা মেটামরফোসিসে- কখনো গ্রিন ব্যানানার মতো, কখনো, গলে পড়া দালির ঘড়ির মতো ঝুলতে থাকে প্যাভলভের কুকুরের গলায়। এবার, ভাইয়ো অউর বেহেনো, চায়ে পে চর্চায় সরাসরি চলে আসি, নাইনটি ডিগ্রী- এস। আন্টার্কটিকায়। যেখানে পিতা পেঙ্গুইনেরা বরফঝড়ে আঁকড়ে ধরে আছে ডিমগুলিকে। তারই আশেপাশে স্মোকি ব্রাউন বেশকিছু নষ্ট ডিম। বরফগুঁড়ো মাখা। হেরে যাওয়া একটি পিতা হার মানবে না বলে ছিনিয়ে নিতে চাইছে অন্যের শাবক। ঠিক, এখানটাতেই রিমোট সুইচ স্পজ করি। মায়াতরুর ডালে বসে থাকা দামাল ছেলেটার দিকে তাকায়। ভাবি, ছুটতে ছুটতে ও যদি উসেইন বোল্ট না হয়ে ভারভারা রাও হয়ে যান কিমবা গজেন্দ্রকুমার তখন স্রোইডিংজার প্যারাডক্সের প্রভাবে আমি নামক মেনি বেড়ালটিকে কিরূপে দেখিবে তুমি? তখন কিভাবেই বা খুঁজে পাবে সেইসব কবিতাগুলি, যারা, পানকৌড়ির মতো ডুবে যেতে চেয়েছিল সরোবরের জলে; যারা, রাষ্ট্রীয় গণিকালয় দর্শনে গিয়ে ধর্ষনের অভিযোগে কারাবাস করছে দীর্ঘকাল। কিমবা, সেইগুলো যারা ফুল হতে চেয়েছিল হিংসুটে দৈত্যের বাগানে কিন্তু হঠাৎ লৌহযুগ এসে পড়ায় ইস্পাতের সুদর্শন চক্র হয়ে স্বয়ং বিষ্ণুর আঙুলে নেচেছিল কয়েক দশক? আমি, মূর্খ। শব্দরূপ-ধাতুরূপ-বিশ্বরূপ-পয়ার-পয়গম্বর-লাতিন-লেনিন বুঝি না। বুঝি, দিলমে ঘণ্টি বাজলে ট্যান-ট্যানা-ট্যান, ল্যাজও নড়ে। পাশের বাড়ির সুনয়ণা ম্যাডাম স্বচ্ছভারতের শৌচালয়ে স্নান করলে বুঝি আবার এসেছে আষাঢ়…। ইত্যাদি-ইত্যাদি, এবং-এবং, ডট-ডট পেড়িয়ে বুঝি রংবাক্সের সব রং বাদ দিয়ে কালো রংটি কেন আমার সন্তানের প্রিয় হয়ে উঠছে। আর বুঝি, আমাদের মোটেই কবিজন্ম নয়। দু’একজন বন্ধু আমাদের আছে বটে, যারা কবিতা লেখে। আর আছে রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মতো কিছু সুইং ভোটার। অতএব, একটি ভুলভুলাইয়ার ভিতর ধ্বনিত হোক আহা আমাদের শব্দের কোলাজ। যেখানে রং ও রেখার আঁচড় আছে, কিউবিজম আছে, পরিমিতিবোধও আছে। আছে, পারফেকসনিস্টের চুরুটের ধোঁয়া। এবং এখান থেকেই ধরে নেওয়া যাক আজ ৩১শে ফেব্রুয়ারি। ধরে নেওয়া যাক, জীবনানন্দের আটবছর আগের একদিন কবিতার প্রভাবেই মাননীয় প্রিসাইডিং অফিসার, বুথ নং ডট ডট ডট…আত্মহত্যা করেছিলেন এবং খবরে প্রকাশ, পৃথিবীর কেন্দ্রে অবলোহিত কিরণকেও পৌঁছে দেওয়া গেছে। ফলত, পৃথিবীর জ্ঞানভাণ্ডার উন্মোচিত হয়ে যাবে দুএকদিনের মধ্যেই। এতে ওল্ডটেস্টামেনের মহাপ্রলয় হবে ঠিকই কিন্তু মানুষ টিকে যাবে মশা ও আরশোলাদের মতো। যদিও এর প্রভাবে প্রজননপ্রথা থাকবে না, তথাপি অ্যাপসের মাধ্যমে লব-কুশ অথবা আইনস্টাইনের বাবাও হতে পারবেন যে কেউ। সরকারও স্পেশাল রিবেট দেবে এর জন্য। এভাবে, এভাবেই ধরে নেওয়া যাক এবং খণ্ডন করা হোক অনেক যুক্তি। প্রয়োজনে পেয়ালাতে পেয়ালাতে হেমলক সাজানো হোক নিপুণভাবে। সাজানো হোক থিসাসের জাহাজ। তোমার শৈলী, তোমার কবিতাও। আমি স্থবীর। দ্বিধাগ্রস্থও কি নই! স্পর্শে জন্মেছিলাম। স্পর্শ চিনেছি। স্পর্শের খোঁজে এবার সহমরণে যাই…