কবিতায়ণে গৌতম সেন
তবে কি অনেকদিন পর ?
তোমার দাওয়ায় একটা মাদুর পেতে দাও,
সাথে ওই ঘটিভরা জল নিয়ে এসো –
আমি আজ বিশ্রাম নেব।
রোজকার সময় থেকে ঘন্টা কয়েক
বাঁচিয়ে রেখেছি আমি মুখোমুখি বসব বলে;
আজ কোনো কাজ রাখিনি
আজ কোনো তাড়া নেই ঘরেতে ফেরার।
একটু উঁকি মেরে দেখ – হাতে ঘড়ি নেই,
পকেটেও নেই মোবাইল;
ও দুটো ল্যাংবোট কে ইচ্ছে করেই আনি নি আমার সাথে।
কাজ যা আছে সেরে নাও তাড়াতাড়ি,
আমার সেটুকু তর সইবে, না হয়
বসে এই দাওয়ায় নদীভেজা মৃদুমন্দ হাওয়ায়
জুড়িয়ে যাবে প্রান, চোখ জুড়াবে
খোলা উঠানের দোল খাওয়া শেফালীগাছের ছাওয়ায়।
কতবার এসেছি আগে ঠিক মনে নেই,
তবে গতবার মনে আছে চলে আসার আগে
তোমার চোখে আঁকা প্রশ্নের উত্তরে
বলেছিলাম “আবার আসব, শীগগীর ই আসব”।
তোমার সাথে দেখা হবে,কথা হবে
সে তো আছেই, আরও আসি কেন জানো ?
দোয়েলটা পর্যন্ত ওই পাতার আড়াল থেকে
দেখা দিয়ে যায়, শশব্যস্ত কাঠবেড়ালী টা
গাছ থেকে নেমে মাটির উঠান বেয়ে
বেশ কাছে এসে খানিক মেপে নেয় আমায়,
দেখে যায় সেই আমিই কিনা –
বসে আছি দাওয়ায় একই জায়গায়
তোমার ই অপেক্ষায়।
কই উঠানের পিছন কোনাতে খুঁটে বাঁধা
প্রাণসম্বল গাই টা কে তো দেখছি না,
বিচালি-দানি উল্টিয়ে রাখা আছে চালের কোনায়;
বোধকরি সে তোমায় একা ফেলে দেহ রেখেছে নিজে।
যাক, আজ কেন বল তো
এত দেরী করছ ডাকে সারা দিতে,
রোজকার মত পাশে এসে বসতে?
এত দেরী তো তুমি করো না,
এত অপেক্ষার তো হয়নি কোনও প্রয়োজন
আগে কোনোদিন।
মনে প্রশ্নের পাহাড় একে একে
এমন ই জমতে শুরু করেছে -তবু তুমি এলে না।
আমার সামনে এসে
শুধু বলে গেল এক মানুষের মুখ,
“বোঠান তো অনেকদিন হ’ল নেই…
………” আর ও কতশত কথা
অযথা দুঃসংবাদের মত।
সত্যিকথা বললেও যে কাউকে
এত মিথ্যেবাদী মনে হয়,
তোমার দাওয়ায় না এলে সেদিন বোঝা যেত না।
উঠানেতে খেলে যাওয়া হাওয়া
সে তো তেমন ই আছে,
শীস্ দেওয়া পাখিগুলো
তারাও তো দেখা দিয়ে গেল
গাছের ডালে পাতার ফাঁকে –
শুধু তুমি এলে না,
মাদুর মাখানো একফালি রোদে
এসে বসলে না তুমি।
প্রচন্ড অবিশ্বাস নিয়ে
ফিরে এসেছিলাম সেইদিন,
আচ্ছা বলো তো
লোকটা কেন অমন বলল –
“বৌঠান তো অনেকদিন হ’ল নেই” ;
আমি কি তবে সত্যিই
অনেকদিন পরে গিয়েছিলাম ?