স্বাধীনচেতা অভিমানী মেয়েটা আজ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে চলেছে। বাবার ইচ্ছা পূরণ করতে তার বন্ধু ছেলের সাথে । পাত্র-পাত্রী নির্বিঘ্নে বিয়ে সম্পন্ন হয়। অবশেষে বৌভাতের দিন অনন্যা অপুর সংসারের দায়িত্ব গ্রহণ করে। ফুলশয্যা রাত্রে অনন্যা অপুর সঙ্গে আন্ডারস্ট্যান্ডিং করে তার কিছুদিন সময় লাগবে বিয়েটা এখনো মন থেকে মেনে নিতে পারেনি। অষ্টমঙ্গলা পেরিয়ে বিবাহ এক মাস অতিক্রান্ত কেউ কাউকে স্পর্শ করেনি।
শ্রাবণের বর্ষণমুখর রাত্রি ,অনেক দেরী করে অপু বাড়ি ফেরে মদ্যপ অবস্থায়। ডিনার টেবিলে খাবার ঢাকা থাকলেও অপু না খেয়ে শুয়ে পড়ে। অনেক অপেক্ষার পর, অনন্যা বিছানায় ঘুমিয়ে পড়ে। হঠাৎ অপু পৌরুষত্ত্বের জ্বালায় জোরপূর্বক অনন্যা কে নিজের করে পেতে চায়। শর্তের কথা ভুলে গিয়ে স্ত্রীর অন্তর্বাসের হুক খুলতে ব্যস্ত। অপুর স্পর্শে অনন্যার গা ঘিন ঘিন করে। যতই হোক পুরুষ শক্তির কাছে একসময় হার মানে। জোরকরেই একরকম স্ত্রীকে হাসিল করে অপু।
পরদিন সকালে উঠে অপু অনন্যার চোখের সঙ্গে চোখ মেলাতে পারে না। অভিমানী স্বাধীনচেতা অনন্যা প্রতিবাদ করতে পারত কিন্তু কিছু ভেবে চুপ করে অত্যাচার সহ্য করে। কিন্তু কেন?
কর্পোরেট সংস্থার ভালো চাকরি করলেও অপুর স্বভাব চরিত্র খুব ভালো ছিলো না। অনন্যার দিদির সঙ্গে অপুর বিয়ে হয়েছিল। সন্তান প্রসবের পরই দিদি মারা যায়। একদিনের বাচ্চাকে কে দেখবে কে মানুষ করবে এই ভাবনায় অনন্যার বাবার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার অবস্থা। যাইহোক সদ্যোজাত কে নিজের ঘরে এনে মানুষ করার ইচ্ছা প্রকাশ করে অপুর শশুর মশাই। কিন্তু অপু তাতে বাধা দেয়।
অগত্যা শিশুটির জন্য নিজের কনিষ্ঠা কন্যার সঙ্গে অপুর বিবাহ হয় ১ মাসের মধ্যে। শিশুটিকে স্পর্শ করে অনন্যার মাতৃসত্তা জেগে ওঠে । ঠিক করে কোন দিন সন্তান নেবেন না। অপুকে সে কথা জানানো হয় না। সন্তানকে যখন বুকে তুলে নেয়, ওর ছোট্ট হাতের স্পর্শে মাতৃত্বের ঐশ্বরিক সুখ অনুভব করে। স্বামীর ভালবাসা, না যৌনতায় ভালোবাসা থাকে না। অপু হয়তো তার স্ত্রীর দেহ স্পর্শ করে কিন্তু অনন্যার মনকে স্পর্শ করতে পারেনি কোনদিন…