স্বপ্নে প্রেম সবাই করে ; তখন কি কেউ ধরা পড়ে ?
আমিও যেদিন দেখেছিলাম তারে
সেই থেকে মন যে আমার কেমন কেমন করে !
কী রে ? কী ব্যাপার ? প্রেমে পড়েছিস নাকি এবার ?
প্রেম ! জানি না, এর নাম প্রেম কিনা ;
তবে কোনো কিছুতেই না মন লাগে না !
জানিস কিচ্ছু ভালো লাগে না আর
যদি না তারে দেখতে পাই একটিবার !
শুধু ভাবি…এ-ই বুঝি আমার রাজকন্যা !
তাই কি রাতে ঘুম আসে না ?
তার পর ?
তারপর… দিন যায়, রাত যায়, হৃদয় যেন আশ জাগায়।
রোজই ভাবি এইবারে যাই, দিই বলে ;
জানিসই তো, আমি যে বড্ড ভীতু ছেলে।
শেষে কী করলি ? তাকে বলতে পারলি ?
শেষে একদিন সাহস করে
বলেই ফেললাম মনের জোরে ;
“তোমাকে জানাতে ভালোবাসা,
তাই তো তোমার কাছে আসা !”
রাজকন্যা কী বলল ? নিশ্চয় তোকে জড়িয়ে ধরলো ?
এই বল না ! আমার যে আর তর সয় না ! সে কী বলল ?
মৃদু হেসে সে বলল…
“কাকে আবার ‘তুমি’ বলা হচ্ছে ?
মাথাটা কি তোর একেবারেই গেছে ?
তুই যেন কিছু মনে করিস্ না ,
মন যে দিয়েছি আমি আগেই অন্য জনায় !
কী হবে আমার সাথে প্রেম করে ?
তার চেয়ে থাক্ না, যেমন বন্ধু ছিলি, চিরদিন বন্ধু হয়ে।”
দেখতে দেখতে কেটে গেল অনেকগুলো বছর !
হ্যাঁ, অন্তত তেইশটা বছর !
তারপর হঠাৎ একদিন ফেসবুক মেসেঞ্জারে নোটিফিকেশন।
খুলে দেখি…
হাই, চিনতে পারছিস্ ?
হ্যাঁ বল !
কেমন আছিস্ ?
ঐ একরকম আছি আর কি !
কেন, কিছু কি হয়েছে ?
একটা না কথা বলার ছিল, যদি কিছু মনে না করিস !
বল, কী কথা ?
অনেক বছর ধরে হৃদয় মাঝে আটকে আছে
ভীষণ এক ব্যাথা !
আগে কেন বলিনি ? তোর খারাপ লাগে পাছে !
জানিস, যাকে ভেবেছিলাম মোর স্বপ্নের রাজকন্যা
সে যে মরীচিকা, এছাড়া আর কিছুই না !
জানিস ! আসলে না তখন বুঝিনি,
কে আমার সত্যিকারের রাজকন্যা !
কী রে, রাজকন্যাটি তবে কে ছিল রে ?
আমার রাজকন্যা ? আর কেউ নয় যে সে ;
আমার রাজকন্যা আমার পাশেই ছিল
শুধু তখন চিনতে পারিনি তারে !
কী রে, এখনো বুঝতে পারলি না ?
কে ছিল আমার রাজকন্যা ?
তখন বলতে পারলি না কেন ?
জানিস-ই তো আমি যে ভীতু ছিলাম,
সাহস হয়নি তখনো !
তখন যদি তুই বলতিস,
একটিবার বলতে পারতিস দেখতিস
তোর রাজকন্যা যে তোরই ছিল, বসে অপেক্ষায় ওরে
তুই কখন তারে নিয়ে যাবি পক্ষীরাজে চড়ে !
ওরে আমি বলতাম কী করে ?
শুরুতে সেই যে হোঁচট খেলাম,
যেমনি ভীতু ছিলাম… তেমনি ভীতুই যে গেলাম রয়ে !