সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে উজ্জ্বল কুমার মল্লিক (পর্ব – ৩৪)

সাদা মিহি বালি

ষষ্ঠ অধ্যায়
দ্বিতীয় পর্ব—

রোহন, দিল্লি থেকে বাড়ি এসেছে। বাড়ি তো নয়, শোকপুরী। একতলায়, অফিসটা কোনো রকমে চলছে; গুঞ্জনই
ওটা দেখাশোনা করছে। ছোটো কাকা, অমরেন্দ্র, মাত্র দেড়- দু’বছরের
বড় ছিল;কত কথা তার মনে পড়ছে। অমরেন্দ্রের বিয়ের সময়, দিল্লিতে তার ভাইভা পরীক্ষা থাকার কারণে সে আসতে পারেনি; তারপর, আই-এ- এস হয়ে ট্রেনিং- এ ব্যস্ত ছিল। এবার দক্ষিন ভারতের কোনো( ্টা্ট্টা্্টা্ট্টা্টা্ট্টা্্টা্ট্টা) একটা জেলায় পোষ্টিং হবে, শুনে এসেছে। মাস-খানিকের ছুটিতে বাড়ি এসেছে। বাবা রাঘবেন্দ্রবাবু ও মা, রমণী একেবারে ভেঙ্গে পড়েছেন; ভালো করে কথাও বলতে পারছেন না, হয়তো, দুশ্চিন্তা ভিতরে ভিতরে তাঁদের একেবারে ক্ষয় করে দিচ্ছে। নতুন বৌ, মনোরমার ভবিষ্যৎ ভেবে তাঁরা উদ্বিগ্ন। রোহন, বাবা- মাকে শান্ত করে, অমরেন্দ্রের স্ত্রী, মনোরমার ঘরে গেল; এই প্রথম তাদের সাক্ষাৎ। তারা সমবয়সী;ঘরে দেখে, অনাগত ভবিষ্যতের আশঙ্কায় এক মৌন পাথর- প্রতিমা;তবু বুদ্ধিদীপ্ত চোখে ফুটে রয়েছে একটা অদম্য ইচ্ছাশক্তির বহিঃপ্রকাশ। এমনি কয়েকটা কথা বলে, পরিচিত হয়ে, রোহন, অন্যান্য কাকাদের সঙ্গে দেখা করতে গেল।

শিব-শংকর বাড়ি নেই; রমেন্দ্র ও
ইন্দরের সঙ্গে দেখা করে, গুঞ্জনকে নিয়ে সে, নারায়ণ গোষ্টীর বাড়িতে ঠাকুরমা’র সঙ্গে
দেখা করতে এসেছে। ঠাকুরমা, ইন্দুমতী দেবীর ব্যক্তিত্বের প্রতি
রোহন, শৈশব থেকেই আকৃষ্ট। তাঁর কাছে, নিজের ঠাকুরদা – ঠাকুর মা’র কথা শোনে; ঘোষাল পরিবারের ইতিবৃত্তের সঙ্গে সে এই ঠানদির কাছ থেকেই পরিচিত হয়েছে। মাধব কাকুর মেয়ে, রুমা, আবার তার রোহন দাদার ফ্যান; সে জীবনে রোহন দাদার পথকেই অনুসৃত করতে প্রয়াসী;স্থানীয় কলেজে ভর্তি হয়েছে; আগামী বছর গ্রাজুয়েশন পরীক্ষার প্রথম ধাপ পার হবে। রোহন, রুমাকে বলে, “তুই, সপ্তাহে বেশ কয়েকবার
মনোরমাকে দেখতে যাবি, তাহলে, হয়তো বাড়ির পরিবেশের গুমোট
ভাবটা একটু বদলাবে। আর হ্যাঁ, এই কয়েকদিন, আমি থাকা কালে, ঐ বাড়িতে থাক, না! আমার একটু
স্বস্তি লাগবে, আর উনিও কথা বলার সঙ্গী পেয়ে একটু হাল্কা বোধ করার অবকাশ পাবেন বলে মনে হয়।
ঠাম্মী, তুমি একটু রুমাকে বুঝিয়ে বলো, না। ”

ইন্দুমতী দেবী বিচক্ষণ, বুঝতে পারলেন, কেন রোহন, তার থাকা কালে, রুমাকে ওখানে( ্য্য্য্য্য্য্য্য্য্য্য্য্য্য্য্য) থাকতে বলছে।
“বেশ, আমি বৌমাকে বলে দিচ্ছি, রুমার সব জিনিসপত্র গুছিয়ে দিতে; তা, হ্যাঁ, দাদুভাই, তুমি তো এখন ম্যাজিস্ট্রেট, তোমার তো এখন নাওয়া- খাওয়ার সময় থাকবে না; কত দায়িত্ব তোমার!
শোক-পর্বটা কেটে গেলে, রুমাকে বলবো, তোমায় এখানে আসবার
জন্য চিঠি লিখতে, দেখো, তুমি যেন আবার কাজের অজুহাত দেখিয়ো না। ”

“নাঃ, ঠাম্মী, তোমার কথা কী অন্যথা করতে পারি! তুমি যে আমার রাষ্ট্রপতির, রাষ্ট্রপতি। ”

রোহন ও রুমা, ওদের বাড়িতে ফিরে এসেছে। রুমা ও মনোরমা, প্রায় সমবয়সী, ফলে, ওদের মিশতে দেরী হলো না। মনোরমাও পড়াশোনায় খুবই আগ্রহী, আরও পড়তে চায়; কথায়, কথায় প্রাইভেটে গ্রাজুয়েশন পরীক্ষায় বসার কথা ভাবছে বলায়, রোহন সব ব্যবস্থা( ্য্য্য্য্য্য্য্্য্য্য্য্য্য্য্) করে দিল। রুমাও সব রকম সাহায্য করতে প্রস্তুত; দু’জনে, এক সঙ্গেই পরীক্ষায় বসবে। রোহন, সব বইপত্র কিনে দিয়ে, নিজের কাজে ফিরে গেছে।

শোক অনুভূতিটা বড় অদ্ভুত; হঠাৎ এসে পড়ে একেবারে হড়পা
বানের মত;সব কিছু তছনছ করে
দিয়ে যায়। বন্যার পর যেমন পলি পড়ে, সেখানে থাকে উর্বরতা , ভাঙ্গনের মাঝেও সুপ্ত থাকে গঠন-প্রক্রিয়া; ঐ একই রকম শোকার্তের মাঝেও কালে ক্ষেত্র বিশেষে, এক অদম্য ইচ্ছাশক্তির উদয় হয়, শুরু হয় নতুন ভাবে পথ চলা, নতুন পথে, নতুন উদ্যমে।

চলবে

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।