সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে উজ্জ্বল কুমার মল্লিক (পর্ব – ২৪)

চতুর্থ অধ্যায় ১ পর্ব
গঙ্গা থেকে লিজ মাধ্যমে বালি তোলার ব্যবসা, ঠাকুরদার আমল থেকে চলে আসছে। রাঘবেন্দ্রবাবু, ব্যবসার সম্প্রসারণ করেছেন। অঞ্চলের গঙ্গা- পারাপারের ঘাটগুলো তিনি টেন্ডার ডেকে লিজ নিয়েছেন। হালিশহর, কাঁচরাপাড়া অঞ্চল থেকে প্রচুর মানুষ- জন, এ পাড়ের কলকারখানাতে কাজের জন্য আসেআসে; কাঁচা- সব্জির ব্যবসায়ীরা ওপারের মদনপুর( ্য্্য্য্্্য্্য্য্্) অঞ্চল থেকে, আসে কাঁচরাপাড়া অঞ্চল থেকে মাছ- বিক্রেতারা;পারাপারের জন্য সবাই
নৌকো যোগে এই জলপথই ব্যবহার করে। পরিবহন ব্যবসা রমরমা; আট-খানা নৌকো,সেই ভোর থেকে দু’পাড়ে জলপথ পরিবহনে ব্যস্ত।
গঙ্গার বুকে এ পাড় থেকে ও পাড় যাওয়ার পথে চড়া পড়তে শুরু হয়েছে। অনেকদিন আগে থেকেই চড়া পড়ছে; ভাটার সময়, সূর্যের আলোয় চড়ার সাদা বালি চিকচিক করতো। সমরেশ বসু মশাই’র ‘গঙ্গা’ বই’র চলচ্চিত্র নির্মাণের সময়, জালের খুঁটি উপড়ে ফেলা কালের হাতাহাতি, লাঠালাঠির দৃশ্যগুলো এই চড়ার উপরেই নেওয়া হয়েছে; তখন, জোয়ারের জলে, চড়া অদৃশ্য হয়ে যেত; চড়া ছিল অস্থায়ী। বর্ষায় নদীর জল হত গৈরিক বা ঈষৎ লাল, কানায় কানায় নদী ভর্তি থাকতো; ঘাটের সিঁড়ির কয়েকটা ধাপেই পা ডুবিয়ে জলের স্পর্শ পাওয়া যেত, শব্দ উঠতো ছলাৎ, ছলাৎ। কিন্তু আজ! চড়ায় লম্বা, লম্বা ঘাস, গাছ- গাছালি; দু’ পাড় থেকেই যাত্রী বোঝাই নৌকো, চড়া পর্যন্ত যায়;
তারপর চড়ায় হাঁটাপথ; আবার নৌকো- যোগ। ফলে, চড়ার দু’দিকেই করতে হয়েছে মোটা কাঠের তক্তা ও বাঁশ দিয়ে আড়ংঘাটা। রক্ষণা-বেক্ষণ খরচ বেড়েছে, লোক বেশি রাখতে হয়েছে; মোদ্দা, ঘাট- পারাপার ব্যবসায় দৈনন্দিন খরচ বেড়েছে, কিন্তু পারানি বাড়েনি, তা সরকার কতৃক নির্দ্দিষ্ট। তাই রাঘবেন্দ্রবাবু,
চড়ায় লোক বসিয়ে ফসল ফলানো সুরু করেছেন; সেই বিক্রিত অর্থে তিনি বর্ধিত খরচ সামাল দিয়ে চলেছেন। এতদিন, চড়া ছিল অস্থায়ী, কোন প্রশ্ন( ্য্য্য্্য্য্য্) উঠেনি; কিন্তু, বর্তমানে তো( চড়া ্য্য্য্য্য্য্য্য্য্য্য্য্য্য্য্স্য্স্থ্য্য্য্য্য্য্য্য্য্য্য্স্য্স্থ্য্য্য্য্য্য্য্য্য্য্য্স্য্স্থ্য্য্য্য্য্য্য্য্য্য্য্স্য্স্থ্য্য্য্য্য্য্য্য্য্য্য্স্য্স) চড়া স্থায়ী/স্থাবর সম্পত্তি। নদী
থেকে বালি তোলার লিজ অনুমোদিত; চড়ার স্বত্বের কথা কোথাও লেখা নেই; আবার চড়া তো সরকারী সম্পত্তি, দখল তো বেআইনী, কিন্তু, সরকারের গা ঘেঁষে থাকার জন্য, এতদিন কোন তরফ থেকেই তিনি বাধা পাননি, কিন্তু, এবার চিন্তা করতে হচ্ছে;বর্তমানে দেশের রাজনীতিতে
পরিবর্তন আসন্ন বলে মনে হচ্ছে;বাম- রাজনীতির দলের লোক, শাসন- ক্ষমতায় এলে জীবন- দাবার ছকে নতুন করে ঘুঁটি সাজাতে হবে। বিভিন্ন নদীর ঘাট- পারাপার, বালি তোলার ব্যবসা ইত্যাদিতে প্রায় শ’তিনেক লোক কাজ করে। তাদের জীবিকার দায়িত্ব তো তাঁর উপর বর্তায়; তিনি যে সকলের অভিভাবক, সবাই তো তাঁর পরিবারের সদস্য, তাদের ভালো মন্দ, সব কিছুর সঙ্গে যে তিনি জড়িয়ে আছেন।
চলবে