সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে উজ্জ্বল কুমার মল্লিক (পর্ব – ১৫)

সাদা মিহি বালি
তৃতীয় অধ্যায় – প্রথম পর্বের শেষাংশ
রাঘবেন্দ্রবাবুকে ধরে ধুরন্ধরের জন্য নারায়ণবাবু একটা পেট্রোল- পাম্পের ব্যবস্থা করেছেন। জি টি রোডের ধারেই
পাম্প; অল্প একটু দূরেই রয়েছে
চুঙ্গী আদায়ের অফিস। সারা রাত থাকে ঐ অঞ্চল জম- জমাট। দূর-
দূরান্ত থেকে মাল- বোঝাই লরী,
বাস আসে; প্রায় সারা রাতই গাড়ি, আসা- যাওয়া করে। এখানে, ‘মোটেল’ ব্যবসা ভালোই চলবে। লোক দেখানো, ব্যাঙ্ক থেকে লোন নিয়েছেন; শুরু করেছেন মোটেল ব্যবসা; আধুনিক হোটেলের সব রকমের সুযোগ- সুবিধা আছে। নারায়ণ ঘোষাল, নিজে সেটা দেখা- শোনা করছেন। দোতলা বিল্ডিং; নীচের তলায় পেট্রোল- পাম্পের অফিস ও মোটেলের রিসেপশন- কাউন্টার ও অফিস।
সামনে রয়েছে ঘেরা প্রশস্ত আঙ্গিনায় টিনের ছাউনি দেওয়া
ছোট, ছোট খুপরি – গ্যারেজ, গাড়ি রাখার সু-ব্যবস্থা। পেট্রোল- পাম্পের অফিস ও মোটেলের অফিসের মাঝে দোতলায় ওঠার সিঁড়ি। দোতলার করিডরের দু’ দিকে, চারখানা করে আটখানা ঘর; প্রতি ঘরের সাথে রয়েছে সুসজ্জ্বিত বাথরুম। গাড়ি পাকিং’র
সুবিধা থাকায়, অনেকেই এই মোটেলে রাত কাটায়। আবার, দিনের আলো প্রকাশ হতে না হতেই মোটেলের ঘর খালি হয়ে যায়। নারায়ণবাবু, এ ব্যবসায়ে বেশ ফুলে ফেঁপে উঠেছেন। সরকারি আনুকূল্য যদি থাকে, তবে অন্ধকার জগতের ব্যবসায়ে আঙুল- ফুলে কলাগাছ হতে সময় লাগে না।
ছোট ভাই, বদ্যিনাথকেও পরিবহন ব্যবসার সুবাদে, একটা নামী টায়ার- কোম্পানির হোল- সেল কাম ডিলারশিপ জুটিয়ে দিয়েছেন; সে এখন ঐ ব্যবসায়ে
বেশ রপ্ত হয়েছে। নারায়ণবাবু, মোটেলের অফিসেই প্রায় সারা দিনই থাকেন; বয়স হয়েছে, আর ছোটাছুটি করতে পারেন না। বাড়ি ফিরতে অনেক সময় রাত হয়ে যায়; মোটেলের জন্য একটা মটর গাড়ি কেনা হয়েছে।
ধুরন্ধরও পেট্রোল- পাম্পের পাশেই একটা দোতলা বাড়ি করেছে। এভাবেই প্রত্যেক ভাই আলাদা থাকলে, ভাইদের মধ্যে সৌহার্দ্য বজায় থাকবে; এটাই মায়ের আদেশ। ধুরন্ধরও বদ্যিনাথের বিয়ে দিয়ে, ওদের আলাদা সংসার করে দেবার জন্য, মা বেশ উতলা হয়েছেন।
চলবে