সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে উজ্জ্বল কুমার মল্লিক (পর্ব – ২৮)

সাদা মিহি বালি
চতুর্থ অধ্যায়
তৃতীয় পর্বের শেষাংশ—
ইট- ভাটার জন্য কোন টাকাই
খরচ হয়নি, তবে অত টাকা কী হয়েছে; কানে আসে, সে ঐখানকার কোন এক বাড়ির জুয়ার আসরে যাওয়া- আসা করছে; ঐ সর্বনাশায় একবার আসক্ত হলে আর বেড়োবার পথ পাবে না। তিনি উদ্বিগ্ন চিত্তে বাবা- মা, ও কাকার ছবির সামনে পায়চারী করতে লাগলেন।
রাঘবেন্দ্রবাবু, বড়বাবুকে ডেকে ঐ ইট-ভাটার সংগে আর্থিক সব রকমের সম্পর্ক চুকিয়ে দেবার পরামর্শ দিলেন; অন্য ব্যবসার সঙ্গে এর যেন কোন সম্পর্ক না থাকে, সে দিকে বিশেষ ভাবে নজর রাখতে বললেন।
ভারত- পাকিস্তানের (১৯৭১) যুদ্ধে, পাকিস্তান আত্মসমর্পণ করেছে; পূর্ব- পাকিস্তান এখন হল, বাংলাদেশ। কয়েক লক্ষ লোক ওদেশ থেকে পঃ-বাংলায় ঢুকেছে, তাদের মধ্যে বড় অংশ এখানেই
থেকে যাবে, সুতরাং আবাসন শিল্পের রমরমা যে হবে তা বিলক্ষণ। সিমেন্ট শিল্প, বালি ও ইট শিল্পের বাজারে আসবে তেজীভাব, এ সময় ভাটার কাজ পুরোদমে চালু রাখতে হবে; ব্যবসায়ীকে সব সময়
সময়ের সদ্ব্যবহার করা জানতে হয়;তিনি অমরের সংগে কথা বলার অপেক্ষায় রইলেন।
রাতে,অমর বাড়ি এলে, তার সঙ্গে ইট- খোলা নিয়ে আলোচনা করে বুঝলেন, ওর মাথায় আর কোন সৎ -বুদ্ধি ঢুকবে না; শেষে বললো,” আমাকে, আমার মত চলতে দিন”।
অমর চলে গেলে, রাঘবেন্দ্রবাবু বিমর্ষ-চিত্তে বাবা -কাকার ছবির দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেললেন; অগ্নিতে আত্মাহুতি দিতে বদ্ধ- পরিকর অবোধ পতঙ্গকে রুধিবে কে? নাঃ, শিব-শংকর- রমেন্দ্র- কেও এসব জানাতে হবে; এক ভাইকে এভাবে শেষ হয়ে যেতে দিতে পারেন না। তিনি, মেজো ও সেজোকে খুব শীঘ্রই তাঁর সাথে দেখা করতে বললেন। রাঘবেন্দ্রবাবু, আজ খুবই ক্লান্ত, অবসন্ন; এত ভেঙ্গে তিনি কোনোদিনই পড়েননি।
দু’একদিনের মধ্যে মেজোভাই
ও সেজো ভাই, এসে সব শুনে বললো, ” আপনি, কিছু ভাববেন না। একবার দ’হে পড়ুক, যখন নিজে উঠতে পারবে না, তখনই ওর উচিত শিক্ষা হবে; আমরা তো আছি, আমরাও এবার ওর প্রতি কাজেই নজর রাখছি”।
দুর্ঘটনা বা বিপদ কখনও একলা আসে না; যখন আসে, একটার পর একটা ঢেউ’র মত এসে, সম্পূর্ণভাবে( ্য্য্য্্য্য্য্) বিপর্যস্ত করে তোলে। রঞ্জনদা ছেড়ে চলে গেলেন; ডাঃ পঞ্চুও
আজ তিনদিন শয্যাশায়ী, ঘোরের মধ্যে আছেন। প্রাণকৃষ্ণ (ও তরফের) দেখাশোনা করছে, আর ঐ পঞ্চু ডাঃ ছাড়া তাঁরই বা চিকিৎসা কে করবে! ডাঃ পঞ্চুর জন্য বাড়িতেই অক্সিজেনের ব্যবস্থা হয়েছে। যা খবর পাওয়া যাচ্ছে, একটার পর একটা অরগ্যান ফেলিওর হয়ে চলেছে, শরীরের উপর অত্যাচারের মাশুল এখন গুণতে হচ্ছে। খবর শুনে রাঘবেন্দ্রবাবু ব্যোম হয়ে বসে আছেন। স্ত্রী, রমনী, দু’বার ডেকে গেছে, তবু সাড়া দিতে ইচ্ছা করেনি; গঙ্গার পূণ্যা সলিলার দিকে তাকিয়ে যেন পরম নিশ্চিন্ত আশ্রয়ের দিনের অপেক্ষায় আছেন চিন্তামগ্ন।
কিন্তু, হায়! অন্তর্যামী সেদিন হয়তো হেসেছিলেন; বিপদের ঊর্মি মালা কী সহজে অতিক্রম করে! করে না।তবু, এত তাড়াতাড়ি যে সব শেষ পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে, কেউই ভাবেনি। জুয়ার আড্ডায় মক্ষী- রানিকে কেন্দ্র করে ত্রিকোণ প্রেমের পরিণতিতে এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড
ঘটে গেল। মুনসি’র মুখ থেকেই সব শোনা; খবর পেয়ে, অকুস্থলে যাবার আগেই সব শেষ। সমস্ত বাড়ি শোকস্তব্ধ।
ক্রমশঃ