ক্যাফে ধারাবাহিক উপন্যাসে উজ্জ্বল কুমার মল্লিক (পর্ব – ৮)

শহিদ ভগৎ সিং চরিত

তৃতীয় অধ্যায় || দ্বিতীয় পর্ব

“সারা দেশ, ভারতের যুব- সমাজ হতবাক, হতবুদ্ধ;মহাত্মা গান্ধীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে বেনারসে, ঐ অসহযোগ আন্দোলনে’গান্ধীজি কী জয়’ বলে কত যুবক যে পুলিশের লাঠির গুঁতো খেয়ে নুলো বনেছে,তা বলার ভাষা নেই; এই যুবকদের মধ্যে ছিল আজাদ, যিনি পরবর্তীকালে বিপ্লব চূড়ামনি, চন্দ্র শেখর আজাদ নামে পরিচিত হলেন, তিনিই ছিলেন ‘হিন্দুস্থান সোসালিষ্ট রিপাবলিকান এ্যাসোসিয়েনের’
আর্মড শাখার কমান্ডার, হলেন আমাদের ভগতের অন্তরঙ্গ বন্ধু; জীবনে কখনও আর গান্ধীজিকে বিশ্বাস করেননি। কংগ্রেসের অনেক নেতার সঙ্গে, যথা চিত্তরঞ্জন দাস, সুভাষ চন্দ্র বসুর সঙ্গে ছিল হৃদ্যতা ও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ, কিন্তু গান্ধীকে তিনি বা তাঁর অনুগামীরা সম্পূর্ণভাবে
পরিহার করেছেন; দেশের স্বাধীনতাকামী মানুষ, দেশপ্রেমিকেরা
কী চোখে দেখতো, তা নিয়ে এদেশে বা তাঁর কাজ- কর্মের কোন গবেষণা না করেই, কিছু লোক তাঁকে জাতির জনক বানিয়ে দিল, হায়রে! প্রচারে কী না হয়! ”
“নাতি ভগতের মতিগতি দেখে দাদিজী, নাতিকে সংসারী করার জন্য উদ্যোগী হয়েছেন।”

“ন্যাশনাল কলেজের ড্রামা- ক্লাবে অনুষ্ঠিত হয়ে চলেছে, একের পর এক ড্রামা,” বলে চলেছে কাহিনীকার। “উদ্দেশ্য, ছাত্রদের, যুব- সম্প্রদায়ের মধ্যে দেশাত্মবোধ জাগিয়ে তোলা, দাসত্ব থেকে মুক্তির জন্য বিদ্রোহের আগুনে সকলকে উদ্দীপ্ত করা। মৌর্য সম্রাট ‘চন্দ্র গুপ্তের উদয়’ নাটক মঞ্চস্থ চলছে; আমাদের ভগৎ আছে, ‘বিষ্ণু গুপ্তের(চাণক্যের)’ ভূমিকায়;তার অভিনয় ভূমিকায়, ছাত্র- শিক্ষক, সবাই, সবাই মুগ্ধ। শিক্ষক, ভাই পরমানন্দ তো বলেই ফেললেন, ‘আমার ভগৎ হবে, ভবিষ্যতের বিষ্ণুগুপ্ত’ । মহাভারত, মহারাণা প্রতাপ, আরও অনেক নাটক মঞ্চস্থ হচ্ছে; মহাভারত লেখা হয়েছে উর্দুতে, নাম দেওয়া হয়েছে, ‘কৃষাণ- বিজয়’; লেখার একটু অদল- বদল হয়েছে; ইংরেজদের করা হয়েছে কৌরবপক্ষ, আর দেশের, দেশ- প্রেমিকদের করা হয়েছে পাণ্ডবপক্ষ; নাটকের মধ্যে দেশাত্মবোধ সঙ্গীত ঢোকানো হয়েছে। ‘জাগো ভারতবাসী, জাগো এখন, বিদেশীরা তোমার ঘর লুঠছে, তুমি ঘুমিয়ে আছো! ‘,
‘ও লুটেরা! , আর বেড়োনা, আমরা বুঝেছি তোমাদের ফাঁদ’, এ রকম সব গান, ঐ’ পাগড়ি সামাল ওজাঠা’– গানের সুরে, শ্রোতা- দর্শকদের মধ্যে উন্মাদনার রেশ জাগিয়ে তুলছে। সরকার, ঐ সব গান নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে; কংগ্রেস অধিবেশনে, ‘ভারত- দুর্দশা’ নাটক মঞ্চস্থ হ’ল। হায়! ন্যাশনাল কলেজে, ভগতের দিন ফুরিয়ে এলো; 1923 সালে, ঠিক বি এ ক্লাসে ভর্তির অল্প কয়েক দিন পরেই, সে হ’ল নিরুদ্দেশ। “

চলবে

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।