শহিদ ভগৎ সিং চরিত
পঞ্চম অধ্যায় || দ্বিতীয় পর্বের শেষাংশ
“সকলকে, অচ্ছ্যুৎ’র কাছে ক্ষমা চাইতে হবে; তাদের দিতে হবে মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি। মনে রাখতে হবে, কাজটা সহজ হবে না; কায়েমী– স্বার্থও তৎপর হবে। আমরা, গ্রামে সমানাধিকার, ভ্রাতৃত্বের কথা বোঝাতে গেছি;সরকারের এজেন্টরাও জাঠ
সম্প্রদায়ের কাছে প্রচার শুরু করেছে যে আমাদের এই প্রচেষ্টায়
সব দাস- সম্প্রদায়ভূক্তরা আর উঁচু
জাতের লোকেদের সেবা করবে না। ওদের বোঝা উচিত, কেউ উঁচু বা নিচু নয়; দারিদ্র্যই ওদের নোংরা ভাবে জীবন- যাপন করতে বাধ্য করে; উঁচু-জাতের দরিদ্রও
নোংরা ভাবে থাকতে বাধ্য হয়। তাহলে, ওদের দারিদ্র্য দূর করলেই
ওরাও সুন্দর, পরিষ্কার ভাবে জীবন- যাপন করবে; আর, নোংরা কাজের কথা বললে, বলতে হয়, মাও তো সন্তানের মল- মূত্রাদি পরিষ্কার করে, তবে? আসলে, ধনতান্ত্রিক- বুর্জোয়ারা, সব সময়, দুর্বলকে শোষন করতে উদ্যত; দাবিয়ে রাখার জন্য কত তত্ত্ব আমদানি করে। মনে রাখতে হবে, ক্ষমতাই সব অত্যাচারের উৎস। সুতরাং, সমূলে সামাজিক পরিবর্তন না ঘটালে, এ অত্যাচার চলতেই থাকবে। কায়েমী– স্বার্থ বলবে, ধীরে, ধীরে এ পার্থক্য দূর হবে; এ ফাঁদে পা রাখলে চলবে না, ধূর্তরা, কখনোই নিজেদের স্বার্থ ছাড়বে না। হে শ্রমিক! সমাজের পদদলিত নিচু- সম্প্রদায়! তোমরা সংঘবদ্ধ হও, নিজেদের অধিকার ছিনিয়ে নাও; সামাজিক আন্দোলন থেকেই হবে, রাজনৈতিক- অর্থনৈতিক আন্দোলন; মনে রাখবে, তোমরাই সমাজের স্তম্ভ। হে ঘুমন্ত সিংহ! জাগো, বিদ্রোহের পতাকা তোল দিকে দিকে।”
পঞ্চম অধ্যায় || তৃতীয় পর্ব
কাহিনীকার, এবার বলতে শুরু করেছে, “দেখ, বৃটিশদের সি আই ডি, কিন্তু কীসের গন্ধ পাচ্ছে;উঁহু, না, এ নিছক ছাত্র- যুবদের চরিত্র গঠনের বা পড়াশোনায় উদ্বুদ্ধ করার বা সামাজিক অব্যবস্থাপনার কথা বলার প্রতিষ্ঠান নয়; এটা বাইরের দিক, ভিতরে আছে অন্য কিছু। হ্যাঁ, ঠিকই, এখান থেকেই ছেলে- যুবদের নিয়ে হবে ‘হিন্দুস্থান সোসালিস্ট রিপাবলিকান এসোসিয়েশন’; এর রয়েছে মিলিটারি উহিং; আর তার সর্বময় কর্তা হচ্ছে, চন্দ্রশেখর আজাদ( ছদ্মনাম হচ্ছে পণ্ডিতজি) ; অর্থ, অস্ত্র, ট্রেনিং, রিক্রুটমেন্ট ও আ্যকসনের দায়িত্বও তাঁর —- এসব সি আই ডি’র রিপোর্ট থেকেই জানা যাচ্ছে। “
“নৌ- জোয়ান ভারত সভার” মুখবন্ধে বলা হয়েছে, সমস্ত সভ্যকে সংঘবদ্ধ হতে হবে, ডিসিপ্লিন্ড হতে হবে; জাতীয় শহিদদের সম্বন্ধে বিস্তারিত ভাবে
জানতে হবে, ইতিহাসমুখী হতে হবে; গাদার পার্টির আন্দোলনের
ইতিহাস জেনে, নিজেদের স্বদেশ-
প্রেম গড়ে তোলাই এ সভার উদ্দেশ্য; তাই সকল সভ্যের চলার পথ হবে—
১) সেবার পথ(service)
২) (সহিষ্ঞুতার পথ(suffering)
৩) আত্মবলিদানের পথ(sacrifice)
এই তিনটিই হবে, সভ্যদের কাছে আলোক – বর্তিকা।
চলবে