শহিদ ভগৎ সিং চরিত
অষ্টম অধ্যায় || শেষাংশ
কাহিনীকার বলতে শুরু করেছে—-
“ভগৎ ও বটুকেশ্বরকে, দিল্লির পুলিশ লাইনে বন্দী করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। জয়দেব কাপুর ও শিবভর্মা, দিল্লির বাসা বাড়িতে রাতে, চোখের জলে ভাসছে। ঝাঁন্সীর হেড- কোয়ার্টারে এসে, শিবভর্মা, অন্যান্য সাথীদের কাছে ভগৎ সিং ও বটুকেশ্বর দত্তের বন্দী অবস্থার ছবি দেখালে, সবাই হা- হুতাশ করলেও আজাদ রয়েছে নির্বিকার; বলছে, ‘কত বড় মাপের
মানুষ তোমরা, তোমাদের মনে কত স্নেহ- ভালোবাসা, আর আমি! পাষাণ- হৃদয়, শুধু বিপ্লবের মেশিন, আমার হৃদয় বলে কিছু নেই’;সাথী হারানোয়, তার চোখের কোনে জল চিকচিক করছে। “
“পুলিশ-লাইন থেকে, অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট মিঃ এফ বি পুলের আদালতে ওদের তোলা হলে ওরা কোন কথা বলতে অস্বীকার করে; বলে, ‘যা বলার, আমরা সেশন কোর্টে বিবৃতি দিয়ে বলবো’। “
“৪ঠা জুন, 1929 সালে, সেশন
কোর্টে মামলা শুরু হল। কেবল, খুশবন্ত সিং’র বাবা শোভা সিংজিই
বলেন যে তিনি ঐ দু’জনকে বোমা ছুড়তে দেখেছেন;কিন্তু, বিচারপতি লিওনার্দ মিডলটন, তা নাকচ করে দেন, কারন সাক্ষী, একজন সরকারের দেওয়া অনাররি
ম্যাজিস্ট্রেট, অর্থাৎ সুবিধাভোগী।
যাই হোক, ভগৎ সিংজি ও বটুকেশ্বর দত্ত যে লিখিত বক্তব্য রাখেন, সেখানে বোমা ফেলার স্বীকারোক্তি রহেছে; কিন্তু কেন ফেলেন, কোন উদ্দেশ্যে ফেলেন, তাদের মোটিভের উপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ‘এ কাজে, তাঁরা ফরাসী বিপ্লবী A Vaillant’র পথই
অনুসরণ করেছেন মাত্র; ফরাসী
পার্লামেন্টেও এই রকম বোমা ফেলে তিনি বলেন—-
It needs explosion to make the deaf hear’. “
“সরকারের দৃষ্টি আকর্ষন করাই লক্ষ্য;সমাজের আমূল পরিবর্তন করতে হলে, পূর্ণ স্বাধীনতাই অপরিহার্য, আর তখনই কেবলমাত্র দেশের মানুষের সর্বতোভাবে উন্নতি সম্ভব;Dominion Status চাওয়া তো ভিক্ষা- বৃত্তি;আত্মমর্যাদা সম্পন্ন মানুষের কাছে তা অবমাননাকর। বিপ্লব মানে, বোমা, পিস্তল নয়, মানুষ খুন নয়; বিপ্লবের অর্থ সমাজের আমূল পরিবর্তন ঘটিয়ে দেশ ও জাতির উন্নতি সাধন; আর সেটা সম্ভব হবে, কেবলমাত্র পূর্ণ- স্বাধীনতার মাধ্যমে। সাদা- চামড়ার শাসকের পরিবর্তন ঘটিয়ে ব্রাউন- সাহেবকে সরকারে আনলে, অত্যাচার, উৎপীড়ন চলতেই থাকবে; কায়েমী- স্বার্থ, কখনই নিজ স্বার্থ
ত্যাগ করবে না। শ্রমিক- কৃষক-প্রোলেতারিয়েত’র একচ্ছত্র শাসন ব্যবস্থায় কেবলই তা পাল্টানো
সম্ভব। পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে যখন ঘোষিত হবে, ‘Inclub, Zindabad; Down with Imperialism’, তখনই আমাদের এই প্রচেষ্টা সার্থক হবে। মুখোশধারীরা ঘৃণারও অযোগ্য;মানবতার আদর্শ প্রচার ও
প্রতিষ্ঠাই আমাদের লক্ষ্য। আমাদের দেশের এক বৃহৎ অংশকে অচ্ছুৎ করে, উৎপীড়ন করে, কখনই স্বাধীনতা আসতে পারে না, যারা এ ধারনা পোষন করে ও প্রচার করে, তারা মুখোশধারী, মানবতার বিরোধী।
চলবে