সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে উজ্জ্বল কুমার মল্লিক (পর্ব – ৩২)

সাদা মিহি বালি
পঞ্চম অধ্যায়
দ্বিতীয় পর্ব-
সর্দারজী, পেট্রোল- পাম্প চালাচ্ছেন, চুক্তি অনুযায়ী, ধুরন্ধরের পরিবারের হাতে মাসে মাসে টাকাও দিচ্ছেন। মোটেলের গ্রাউন্ড -ফ্লোরে, মোটেলের রিসেপশন- কাউন্টারের লাগোয়াই রয়েছে পাম্পের অফিস।
নারায়ণ বাবু, অভিজ্ঞ লোক, অন্ধকার জগতের সঙ্গে বহুদিন ব্যবসা চালিয়েছেন;তিনি জানেন, সর্দারজী’র ধাবার ব্যবসার
আড়ালে চলে চোলাই’র ব্যবসা, রয়েছে ঠেকও, সুতরাং সে যে ঐ
অপরাধ জগতে, বিশেষ ভাবে পরিচিত, সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই।এ জায়গায় কোনো ব্যবসায়ীও আর বিনিয়োগ করতে রাজি নয়। তাই অগত্যাই,ঐ সর্দারজী।
মোটেলেও রাত্রি- বাস করতে যে সব লোক আসে, তারাও খুব একটা স্বচ্ছ নয়। সরকারি অফিসারও অনেক সময় সঙ্গিনী নিয়ে এখানে রাত কাটায়; অনেক চলচ্চিত্র জগতের
নামী লোকেরাও তাঁর মোটেলে রাত্রি বাস করেছেন। এই রকম জায়গায় মোটেলে তো সাধারনতঃ স্বচ্ছ মানুষের আসার কথা নয়।
নারায়ণবাবু, তো চুঙ্গির জন্যই এখানে এই ব্যবসা সুরু করেছিলেন; সব সময় জম- জমাট থাকবে;রাতে, বহু গাড়ি পাম্পে থাকতো; গাড়ির মালিকেরা ও ব্যবসাদাররা অনেক সময় চুঙ্গির ঝামেলা মেটাতে আসতেন, মোটেলেই রাত কাটাতেন; কিন্তু, তা তো আর রইলো না। এখন, ঐ
অন্ধকার জগত ও বার-মুখো লোকেদের উপরই মোটেলের আর্থিক অবস্থা নির্ভরশীল। এর আয় থেকেই , বাহাদুরের পরিবারকে মাসে মাসে পাঁচ হাজার টাকা পাঠাতে হয়। কেউ প্রশ্ন করলে বলেন, “আমার কাছে কাজ করেছে বহুদিন, না খেতে পেয়ে ওর পরিবার শেষ হয়ে যাবে, তাই টাকা পাঠাই, যতই হোক, আমাকে সারভিস দিয়েছে তো বহুদিন! “
এদিকে সর্দারজী যে মোটেলে একটা গণ্ডগোল পাকিয়ে তা হাতাবার মতলবে আছে, সে অভিসন্ধি বুঝতে পেরে, তিনিও সতর্ক রইলেন। একদিন রাতে,সর্দারজী, মোটেলের কর্মচারীদের উৎকোচ দিয়ে, একদল ডাকাতকে ঘরে থাকার ব্যবস্থা করে, নিজেই পুলিশকে অন্য লোক মারফৎ খবর পাঠায়। পুলিশ, খুব সহজেই ঐ সব লোককে গ্রেপ্তার করে ও মোটেলের বেশ কয়েকটা ঘর তালা বন্ধ করে
শিলমোহর লাগিয়ে যায়। অফিসের খাতাপত্রও নিয়ে গেছে।
মোটেল এখন রইলো বন্ধ; নারায়ণবাবু, সব বুঝেছেন, নিজের কর্মচারীরা যদি বিশ্বাসঘাতক হয়, তো কিছু করার থাকে না।
কেসটা সিআইডির হাতে গেছে; খুব সহজেই অল্প দিনের মধ্যে সব কিছু পরিষ্কার হয়ে গেল। নারায়ণবাবু, ঐ সব অসৎ কর্মচারীদের ছাঁটাই করেছেন;সর্দারজী’র এখন চলছে হাজতবাস, কিন্তু পাম্পের কী হবে,
এ নিয়ে নারায়ণবাবু খুবই দুশ্চিন্তায় আছেন; সত্যই কী সেই আগেকার দিনগুলো আবার ফিরে আসতে চলেছে!
ছোটভাই বদ্যিনাথ, ব্যাঙ্ক থেকে লোন নিয়ে, বিহারের পাটনা শহরে
টায়ার- ব্যবসার সম্প্রসারণ করেছে; পুত্র নারায়ণই সেটার দেখভাল করছে। কিন্তু, খবর এসেছে, সেখানকার রাজনৈতিক নেতারা, প্রায়ই অসম্ভব রকমের আর্থিক দাবী- দাওয়া পেশ করছে; ওদের দাবি মিটিয়ে কতদিন যে ঐ ব্যবসা চালানো যাবে,তা এখন পড়েছে প্রশ্নের মুখে;লোনের টাকা তো সুদ- সমেত শোধ করতেই হবে, আবার কোম্পানীর কাছে সময়মত
তাদের টাকা না দিতে পারলে, সুনাম নষ্ট হবে; এ সব ভেবে, বদ্যিনাথও খুব উদ্বিগ্ন। দেখা যাক,
কালচক্র, কোথায় নিয়ে যায়—।
চলবে