সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে উজ্জ্বল কুমার মল্লিক (পর্ব – ৯)

সাদা মিহি বালি

আসানসোল এলাকায় সালানপুরে, রাঘবেন্দ্র ঘোষালদের
কয়লা খনি। অংশীদারী কারবার; সেজ- ভাই, রমেন্দ্র ঘোষাল দেখাশোনা করে। ঠাকুরদা হরিকৃষ্ঞ নারায়ণ, এক ইংরেজ সাহেবের কাছ থেকে তার অংশীদারী কারবারের পঞ্চাশ শতাংশ অংশ কেনেন। তখন কয়লা খনি অঞ্চলে এতো মাফিয়া রাজত্ব গড়ে উঠেনি; এতো ‘ওপেন- কাট’ খাদান ছিল না বললেই চলে। গ্রামে- শহরে, নদীর তলদেশে, মাটির গভীরে মাইলের পর মাইল, সুরঙ্গ কেটে কয়লা তোলা হত; ফলে, কয়লা চুরি এরকম ছিল না। মালিকেরা, অধিকাংশ সময় শহরে আয়াসে
জীবন- যাপন করতো; আর খাদান অঞ্চলে, ম্যানেজার,খনি- ইঞ্জিনিয়ার ও অন্যান্য অফিসারেরা, শ্রমিক- সর্দারদের সহায়তায় নিজেদের রাজত্ব চালাতো; মদ ও মেয়েছেলে নিয়ে ফূর্তি করাই ছিল একমাত্র আনন্দ- বিনোদনের উপায়। খাদান থেকে অনতিদূরেই গড়ে উঠে বস্তি অঞ্চল; সেখানেই ঐ সব অফিসারদের সৌজন্যে গজিয়ে ওঠে ভাটিখানা; শ্রমিক- সর্দারের লোকজনই তা পরিচালনা করতো। কয়লা- খনি, তখনও জাতীয়করণ করা হয়নি। কয়লার দামও ছিল অতি নগণ্য; গৃহস্থের উঠোনের এক কোণে থাকতো অনাদরে পরিত্যক্ত; শ্রমিকদের মজুরিও ছিল যৎসামান্য। তবে হ্যাঁ, দিশেরগড়েতে কয়লা- খনির মালিকেরা যে হাসপাতাল গড়ে ছিল তা দেশের যে কোন বৃহৎ সরকারি /বেসরকারি হাসপাতালকে লজ্জা দিত। ঐ হাসপাতাল থেকে, শ্রমিকরা কত সুযোগ পেত তা বলা মুশকিল, কারণ, সাহেব- সুবোদের কাছে, শ্রমিকরা তো মানুষ হিসেবে গণ্যই হতো না। খনি অঞ্চলের সাহেব, বাবুরা, এই হাসপাতালের যাবতীয় সুযোগ- সুবিধা ভোগ করে এসেছে। এই হাসপাতাল থেকেই একদিন, সেজ-ভাই, রমেন্দ্র সুন্দরের জীবনের পট পরিবর্তন ঘটলো। গেস্ট- হাউজে থাকা কালে, রমেন্দ্রের ঠান্ডা লেগে নিউমোনিয়া হওয়ার মত অবস্থায়
এলে, খনির বড়বাবু ও হিসাবরক্ষকের সাহায্যে, সে এ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বাড়িতে
কাকা, দাদা-বৌদি, চিন্তা করবে বলে, কিছুই জানায়নি। হাসপাতাল, খুবই ভালো; ডাঃ ব্যানার্জী তো ধন্বন্তরী।এই হাসপাতালের (এই ্য্য্য্য্য্য্য্য্য্য্য্য্য্য্য্য) বেডে শুয়ে থাকতে থাকতেই পরিচিত হয়েছে, পাশের বেডে থাকা, আসানসোল অঞ্চলের কয়লা- ব্যবসায়ী, পাঞ্জাবী গর্জন শিং’র সঙ্গে;খুবই হাসি- খুশি, মিশুকে মানুষ। ইন্দর, ওনার মেয়ে, ফলের ঠোঙা নিয়ে বাবাকে প্রায় রোজই দেখা করতে আসে; একদিন, গর্জন শিংজী বললেন” আরে
রমেনবাবু, ইয়ে হামারা লেড়কি ইন্দর, বহুত পেয়ারী হ্যায় হামারী; বেটি, রমেনবাবুকেও কুছ ফল দেও, ও বেচারির কেউই দেখা করতে আসে না। ” এরপর থেকে ইন্দর, দুটো ফলের ঠোঙা নিয়ে আসতো; অনেকক্ষণ তিনজনে থাকতো, দুনিয়ার গল্প তখন মাথায় আসতো, ভিজিট-সময়ের ঘন্টা বেজে গেলেও, কারোরই খেয়াল থাকতো না। এইভাবে আলাপ, প্রতিবারই যাবার সময়, ” নমস্কার বলতো”; যেন ‘মদিরা সিক্ত নয়নে রেখে যায় অনুরাগ- বারি’। -(—–কখন যে পরস্পরের (মধ্যে সম্পর্ক ্গ্গ্ড়্গ্গ্ড্গ্গ্ড়্গ্গ্্গ্গ্ড়্গ্গ্ড্গ্গ্ড়্গ্গ়্গ্গ্্গ্গ্ড়্গ্গ্ড্গ্গ্ড়্গ্গ) কখন যে আলাপ থেকে অন্তরঙ্গতা, আর তা থেকে মন দেওয়া- নেওয়া শুরু হয়েছে, দু’জনেই জানে না।হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েও
যোগাযোগ থেকেছে অক্ষুন্ন; দু’পরিবারই রক্ষনশীল; আবার পাঞ্জাবি পরিবারের মধ্যে রয়েছে প্রাদশিকতার চূড়ান্ত প্রকাশ। দু’জনেই শলা- পরামর্শ করে, কীভাবে তাদের এই প্রেম, চূড়ান্ত পরিণতির পথে বাস্তবায়িত হয়।

চলবে

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।