T3 সাহিত্য মার্গ || ১৫০ তম উদযাপন || সংখ্যায় উজ্জ্বল কুমার মল্লিক

চালাকি কি আর্ট নয়! —

পাড়ার ঠেকে তিলধারনের জায়গা নেই। আজকের আলোচ্য বিষয়’ চালাকির দ্বারা কী মহৎ কর্ম হয়’! আসর গমগম।মুখ খুলেছেন শচীন- দা। সবাই উৎসুক, এখনই পুরাণের উপাখ্যানে
মশলা মাখিয়ে এমন একটা চর্বিত চর্বণ উপহার দেবেন, যে পুরাণ কাররাও থাকলে পরে শচীন-দাকে বাহবা না দিয়ে থাকতে পারতেন না।
পাঁচুর চা’র দোকানের ছেলেরা সবাইকে চা’র ভাঁড় ধরিয়ে দিয়েছে। চা-এর ভাঁড়ে চুমুক দিয়েই শচীন- দা বলতে শুরু করলেন, “দেখ কথা বলাটাও একটা আর্ট জানবি;অবশ্য বলে কী হবে, তোদের তো এখনও জিবের আড়ই ভাঙ্গেনি। দেখ, সে ছলনা হোক বা সত্যই হোক,এমনভাবে পরিবেশন করতে হবে , লোকে তৎক্ষণাৎ সেটাকেই সত্যি বলে ভাববে, গিলবে; যাদের সামনে বলা হবে, তারা হবে, হয় মোহগ্রস্থ, অথবা বুঝতে পারলেও, নিজেদের কথার জালে এমনভাবে জড়িয়ে যাবে যে ঐ মিথ্যা – ছলনাটাকেই বাধ্য হবে গলাধঃকরণ করতে । এইটাই হচ্ছে
বক্তারামের কেরামতি। আচ্ছা, সবাই তো দাঁত মাজিস; বাজারে কত রকমের মাজন আছে ; কেউ বলে, লবণ আছে, কেউ বলে কত কী আছে,আপনার মাজনে? যেন লবণ, দাঁতের সর্বরোগ মুক্তি ঘটাবে। কেউ বলে, এসব জড়িবুটি দিয়ে তৈরি- কত বাহানা, কত রকম কায়দায় পরিবেশন; তুমি মুরগী, একবার না একবার ঐ কায়দায় ফেঁশে যাবেই।
এবার সবাই সমস্বরে বলে উঠলো, ” দাদা, মহৎ কিছু হয় কি?”

“দেখ মহৎ, বলে কিছু হয় না, সব তো আপেক্ষিক, আজ যা মনে হয় মহৎ, কালই যে তা হবে না ক্ষতিকর , কে বলতে পারে?,” বলে
শচীন- দা মুচকি হাসি দিলেন।
সবাই চিন্তা করছে, দাদা, আলোচনাটা কোন দিকে টানতে চলেছেন; তিনি যে বর্তমানকে টেনে পুরাণে চটকাবেন তা মোটামুটি জানা, তবু সবাই দাদার বাচনভঙ্গিমায় সেটা উপভোগ করতে চায়, সে মহৎ হোক বা না হোক, কিছু এসে যায় না। সবাই “আপনিই বলুন, আপনিই বলুন”, বলে তাড়স্বরে চীৎকার করে উঠলো।

” আচ্ছা, তোদের দেশে তো গণতন্ত্র রয়েছে; সমাজ- ফড়েরা, হাতজোড় করে ভোটের আগে দরজায়, দরজায় ঘোরে; ভোট শেষ হয়ে গেলে, এবার হাতজোড় করে ঐ ফড়ের দরজায় তোর দাঁড়াবার পালা। তখন তুই প্রজা, আর উনি জমিদার, গণতন্ত্র পগার পার। কেমন কথার প্যাঁচোলে প্যাচ
বদ্ধ হয়ে, তখন তুই নিজের ভাগ্যকে দোষারোপ করতে থাকিস, ভাব তো! কথার আর্টে তুই আটকে গেছিস, এখন, কেবলই( ্য্য্য্্য্য্য্য্য্য্্য্য্য) হা- হুতাশ। “

” তা যা বলেছেন দাদা, ভালো/মন্দ বোঝা দায়”, বলে সবাই দাদার দিক পরিবর্তনের অপেক্ষায়।
শচীন- দা, এবার মুখ খুললেন, ” শোন, পুরাণ থেকে একটা উদাহরণ দিই”।
সবাই এবার বুঝতে পেরেছে, বুলি ছুটছে পুরাণকে পাক দিয়ে বর্তমানের পথ বেয়ে ঘুলঘুলাই’র ঘোর পথে। সবাই উন্মুখ।
“কাশ্যপ মুনির নাম শুনেছিস;
তাঁর দুই পত্নীর মধ্যে অদিতির ছেলেরা হ’ল দেবতা, আর দিতির
ছেলেরা হ’ল দৈত্য—-বৈমাত্রেয় ভাই, তো লাঠালাঠি, ফাটাফাটি স্বাভাবিক। এই যেমন শাসকদল, আর বিরোধী দল; একবার দেবতা হারে তো অন্যবারে দৈত্য। এবারে তো দৈত্যের দল যুদ্ধে জিতে সিংহাসনে; দেবতার দল প্যাঁচ কষছে, ওদের হারাতে হবে, সিংহাসন চাই-ই, বলে বুদ্ধির জন্য জগৎ-পিতা ব্রহ্মার শরণাপন্ন হ’ল। ব্রহ্মা বললেন, ‘দেখ বাপু, মর্ত্যের চন্দ্র বংশীয় রাজা আয়ুর পুত্র রাজি যে দলের হয়ে যুদ্ধ করবে, সেই দলই
জিতবে।’
এসব খবর তো চাপা থাকে না, দৈত্যদের কাছে গুপ্তচর
মারফৎ খবর চলে গেছে, এই যেমন তোদের শাসকদলের ষ্ট্রাটেজি বিরোধীরা জেনে যায়/ বা অন্যের কৌশল জানার জন্য অপরে উদগ্রীব, সেই রকম ব্যাপার আর কী! দৈত্যরা আগে ভাগেই রাজির কাছে, ওদের হয়ে যুদ্ধ করার প্রস্তাব দিল। রাজা রাজি, সব শুনে বললো, ‘হ্যাঁ, তোমাদের হয়ে যুদ্ধ করবো, কিন্তু, জিতলে সবাই কে আমার আধিপত্য মানতে( ্বে্ব্বে্্বে্ব্বে্বে্ব্বে্্বে্ব্বে) হবে। আমিই সিংহাসনে বসবো।’ কিন্তু, দৈত্যরা ওদের রাজা প্রহ্লাদ ছাড়া কারও অধীনতা মানতে রাজি নয়। আলোচনা ভেস্তে গেল। এবার দেবরাজ ইন্দ্র এসে রাজিকে ওদের হয়ে যুদ্ধ করতে অনুরোধ করলো। রাজা রাজির উত্তর ঐ একই, তিনিই সিংহাসনে বসবেন। দেবরাজ তো ধূর্ত, ‘ বলে, তা তো বটেই, আপনি যুদ্ধ জয় করলে, সিংহাসন তো আপনারই হওয়া উচিত।’ যুদ্ধ শুরু, দৈত্যরা পরাজিত হয়েছে, সিংহাসন শূন্য।
ইন্দ্র হাত কচলাতে, কচলাতে, এসে বললো, ‘হে রাজন, আপনিই আমাদের রক্ষাকর্তা, আমরা আপনারই সন্তান, আপনার ঋণ অপরিশোধ্য, ইত্যাদি, ইত্যাদি বলে আমড়াগাছি করতে লাগলো।’
ইন্দ্র’র মধুর বুলির মধ্যে যে ধূর্তোমি রয়েছে, বুঝেও, রাজি আর সিংহাসন চাইতে পারলেন না। দেখ, কী রকম চালাকি করে, যুদ্ধে জয় পেল, আবার সিংহাসন (বজায় ্লো্ল্লো্্লো্ল্লো্() বজায়
রাখলো। তোদের নেতারা যেমন ভোট- যুদ্ধে, হাতজোড় করে, ছোট ছেলে দেখলে, কোলে নিয়ে আদর করে, যেন মানুষের জন্য কত গদগদভাব; ভোট যদ্ধ শেষ তো তোমার কদর শূন্য, থাকো ঐ দরজায় দাঁড়িয়ে, আমি হাত নেড়ে যাবো, তুমি ফ্যালফেলিয়ে দেব- দর্শন কর; ওরা বলবে, মানুষের জয়, মনে বলবে, ‘থাক বোকা,পাঁচ বছর বসে; তারপর আবার দেখা হবে। ‘

“কিন্তু, সাংবাদিকরা তো ছাড়বে না, অবশ্য সবাই নয়। নারদের মত সাংবাদিক তো এ অন্যায় সহ্য করবে না। নারদ, রাজির ছেলেদের সব বুঝিয়ে বলতে, ছেলেরা ইন্দ্রের চালাকি ধরে ফেললো; ওরাও বাবার মত যোদ্ধা;ইন্দ্রকে সিংহাসনচ্যুত করলে আবার ব্রহ্মা এসে রাজির ছেলেদের বুঝিয়ে সুজিয়ে( ইন্দ্রকে ্নে্ন্নে্্নে্ন্নে্) ইন্দ্রকে সিংহাসনে বসালেন ;মানে
দেবগুরু বৃহস্পতি ও দৈত্যগুরু শুক্রাচার্যের মধ্যে হল সমঝোতা, এই তোদের যেমন মসজিদের ইমাম সাহেব- শংকরাচার্যদের মধ্যে আলোচনায় হয় আর কী! বিভেদ শেষ হয়ে, হয়
স্বাহা, সাময়িক স্থিতি। সব বাবা ঐ চালবাজির জয়, জয়কার।নে, অনেক বকিয়েছিস, আর এক প্রস্ত চা- এর ব্যবস্থা কর।”

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।