ক্যাফে ধারাবাহিক উপন্যাসে উজ্জ্বল কুমার মল্লিক (পর্ব – ১০)

শহিদ ভগৎ সিং চরিত

চতুর্থ অধ্যায় || প্রথম পর্ব

কাহিনীকার বলে চলেছে, “ভগৎ এখন এসেছে কানপুরে। নিজের লাগেজ, ষ্টেশনের কাছে একটা ধর্মশালায় রেখে, যোগেশবাবুর খোঁজে বাঙালি হোষ্টেলে এসেছে। যোগেশবাবু ওর হাতে শচীন্দ্রনাথ সান্যালের চিঠিতে সব জানতে পেরে, ভগতের লাগেজ আনতে ষ্টেশনের কাছে (ধর্ম ্য়্য্য়্্য়্য্য়্) ধর্মশালায় খোঁজ করছে;কিন্তু, এবার হ’ল খেলা! ভগৎ, ধর্মশালার নাম গেছে
ভুলে, খোঁজ চলছে সব ধর্মশালায়, শেষে ক্লান্ত হয়ে ফেরার উদ্যোগ করতেই মিললো ধর্মশালার হদিশ;
শুরু হ’ল কালচক্রে ভগতের নতুন জীবন- চর্চা। ”
কাহিনীকারবলে চলেছে, “কানপুরের পাটকাঠির মেসে(সব
বোর্ডারই বাঙালি) জোর কদমে চলছে রাজনীতির কাটা- ছেঁড়া আলোচনা; ভারতীয় ভাবনায় বিপ্লবের অভিমুখ কী হবে, পৃথিবীর অন্যান্য দেশের বিপ্লব অভিযানের বিশ্লেষণ, বিশেষ করে রুশ- বিপ্লব সবার আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠছে। আমাদের ভগতের মনে কৌতূহল জাগছে; কম্যুনিস্টরা কী চায়, তাদের বৈপ্লবিক চিন্তাধারা, কতটা প্রমাণিত সত্য; সে অন্ধ বিশ্বাস করতে রাজি নয়।”

“শহরের সেসন – কোর্টে, কানপুর
বলশেভিক ষড়যন্ত্র মামলা চলছে। চারজন অভিযুক্ত;নলিনী দাশগুপ্ত, এস এ ডাঙ্গে, মুজাফফর আহমেদ ও শংকর চামারি, এখন শহরের আলোচ্য
বিষয়। এঁরা মস্কোয়, মিঃ এম এন রায় মশাই’র সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন; উনি তো আবার খোদ লেনিনের সঙ্গে সমাজতান্ত্রিক চিন্তাধারা নিয়ে আলাপ-আলোচনা, তর্ক- বিতর্ক করতেন, ধনতান্ত্রিক শাসন- ব্যবস্থার মূল উৎপাটন নিয়েই হতো যত আলোচনা। এরকম ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ তো সাম্রাজ্যবাদী, ধনতান্ত্রিক বৃটিশদের যে চক্ষুশীল হবেন, তা বলাই বাহুল্য, তাই
ওদের অপরাধ গর্হিত, ক্ষমার অযোগ্য, চলছে ওদের নামে মামলা।”

“অধ্যাপক জয়চান্দ্রর বিদ্যালঙ্কার মশাই’র সহায়তায়
ভগৎ সিংকে, প্রতাপ পত্রিকার সম্পাদক, গণেশ শংকর বিদ্যার্থী মশাই’র পত্রিকার অফিস ঘরে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শুরু হ’ল এবার জার্নালিজম শেখা, হাত খরচ বাবদ মাসে দশ টাকা ষ্টাইপেণ্ডও মিলছে; এই কানপুরে তিনি পরিচিত হচ্ছেন, ‘ বলবন্ত’ নামে। প্রেসের কাজের সঙ্গে চললো, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিপ্লব অভিযানের পাঠ। 1917 সালের রুশ- বিপ্লবের ইতিহাস, গভীর ভাবে অনুশীলন শুরু করেছে। তার পছন্দের বই হচ্ছে, Den ‘o’ Brun’ র লেখা “My strength for Irish Freedom, Mazzini ও Garibaldi ‘র জীবনী, History of the French Revolution, Revolutionary Ideas of Voltaire, Victor Hugo, kropatkin এবং অন্যান্য বিপ্লবীদের ভাবাদর্শ; এছাড়া শচীন্দ্রনাথ সান্যাল মশাই’র ‘বন্দীজীবন’ তো আছেই। গভীরভাবে চলছে Rowlatt Bill ও Act পর্যবেক্ষণ ও তার প্রতিবাদে গান্ধীজী’র 1919 সালে অসহযোগ আন্দোলন ও আন্দোলনের মধ্যে violence দেখে তা প্রত্যাহার সিদ্ধান্তের বিশ্লেষণ। মনে রাখতে হবে, এই আন্দোলনের ফলশ্রুতিতেই ঘটেছে ‘জালিয়ানওয়ালাবাগ’ হত্যাকাণ্ড। “

চলবে

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।