সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে উজ্জ্বল কুমার মল্লিক (পর্ব – ৩৭)

সাদা মিহি বালি
সপ্তম অধ্যায়
প্রথম পর্ব—
শিবশংকর,মিউনিসিপ্যালিটির
চেয়ারম্যান হয়েছে। তার দলের ছেলেরা টেন্ডার ডেকে সব কাজ
পাচ্ছে।বাঁশবাড়িয়া-কল্যাণীর মধ্যে ব্রীজ অনেক দিন আগেই চালু হয়েছে। টোল- টাক্স বসেছে দু’ধারে। শিব-শংকরের ছেলের দল ঐ ট্যাক্স আদায় করছে। নিজেদের ভাগ রেখে, বাকিটা যথাস্থানে পৌঁছে দিচ্ছে। মাধবের দলের ছেলেরাও চুপ করে বসে নেই, তারাও হাঙ্গামা শুরু করেছে; অন্যান্য কমিশনারদের টোপ দিয়ে
উপদল তৈরি করে, শিব-শংকরের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছে। এখন সর-
কার থেকে এক্সিকিউটিভ অফিসার বসানো হয়েছে। ব্যস, দু’দলই এক হয়ে ওনার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে তৎপর;মিউনিসিপ্যালিটির পরিষেবা এখন চুলোয় যাক, কালো হাত ভেঙ্গে দাও, গুড়িয়ে দাও স্লোগানে পরিবেশ কলুষিত।সবাই বলছে, মানুষ আমাদের সঙ্গে( ্যা্য্যা্্যা্য্যা্) আছে; এদিকে মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। সবাই বুঝতে পারছে,ঐ ছেলের দল জীবিকার জন্য মানুষের ভালো করার বাহানায়, অর্থ লুটের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছে। MLA, MP’ রা, সবাই মাইনে পায়, ভাতা পায়, আরও কত কী যে পায়, তার ইয়ত্তা নেই। তবে! তলার লোকেরা লোক জড় করবে, বিরোধী দলকে চমকাবে, ভোট- বাক্সে খেল দেখাবে, আর অন্য সময় ধুঁধুল চুষবে! তারা, মিউনিসিপ্যালিটি বা পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় উন্নয়নের জন্য যে টাকা আসছে, তা থেকে নিজেদের ভাগ সরিয়ে রেখে, উন্নয়ন-যজ্ঞ, নমো নমো করে সারছে; যজ্ঞের ধোঁয়া আর দেবলোক- দেবতার কাছে পৌঁছায় না, ভূত- প্রেত, সব মাঝপথেই খুবলে- খাবলে মুখে পুরছে, ফলে অচিরেই যজ্ঞ- আগুণ নিবু নিবু; তবু, ঠাটবাট বজায় রাখা চলছে; সবাই আছে মুখোশ পরে, বলছে, আহা! উন্নয়নের কী বাহার–চলছে কী নব- জোয়ার, অভূতপূর্ব! দেশ এখন, ‘আগে বাড় রাহা হায়’। দেশের মানুষের ওঠে নাভিশ্বাস; মানুষ আজ ভুলের জন্য হাত কামড়ায়; নির্বাচনের ভুলে খাল কেটে কুমীরের আগমনে, কেবলই ত্রাস।
নির্বাচনের সময় দেশ- সেবকেরা, একে অন্যের রক্তে খেলে হোলি, এর নামই নাকি গণতন্ত্র, আর ঐ ছেলের দলই
গণতন্ত্রের প্রহরী, ওরা দলের সম্পদ; আর মানুষ রয় শিহরিত;
সব দলই যে দেশ নির্মাণ কারী—জয় হো গণতন্ত্র রাজ, দেখি শান্তির প্রতীক, অশোক- চক্রের কী বন-বনানী!
ভাগাড়ে শব পড়লে, শকুনের দল যেমন করে হুড়োহুড়ি, প্রাক- নির্বাচনে, সব সমাজ-ফড়ের দল
মুখে ছোটায় মানুষের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির
ফুলঝুরি , চলে প্রতিপক্ষকে
চমকানি;ভীত, সন্ত্রস্ত মানুষ থাকে শবরূপে, ভৈরব- ভৈরবীর পদতলে
মৃতপ্রায়। ফড়ের দল করে চীৎকার, দেখ, উন্নয়নের কী বাহার!
যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোতেও আছে নিয়ম, অঙ্গ রাজ্যের উপর
খবরদারি;কিন্তু না, ভোট বড় বালাই(নেমন্তন্ন), সমর্থন চাইতে, মানুষ চুলোয় যাক,
আমায় কর সমর্থন, তো, তোমার সাতখুন মাফ। প্রতিকারের আশায়
মানুষকে বিচারের দরজায় কড়া নাড়তে হয়। কিন্তু বিচার তো তদন্ত সাপেক্ষ, আর তদন্ত-দল হয় তোতা পাখি, নিয়ন্ত্রকের শিকলে টানা, চলে,বলে দেওয়া বুলি; বিচার ব্যবস্থা হয় ক্লান্ত, বিরক্ত;মানুষ অসহায়,অবসাদে কেবলই কপাল চাপড়ায়।
চলবে