ক্যাফে ধারাবাহিক উপন্যাসে উজ্জ্বল কুমার মল্লিক (পর্ব – ২৪)

শহিদ ভগৎ সিং চরিত

অষ্টম অধ্যায় || প্রথম পর্ব

বায়োস্কোপওয়ালা, তার বাক্সের হ্যান্ডেল ঘোরাতে শুরু করে, সংহতি রেখে বলে চলেছে–
“দেখ ছেলেরা, কী রকম গটমট করে, সাহেবি চালে, ভগৎ সিংজি ও সঙ্গী বটুকেশ্বর দত্ত, কেন্দ্রীয় এ্যাসেম্বলী হলে ঢুকছেন; দিনটা হচ্ছে, 8ইএপ্রিল, 1929সাল; গায়ে ড্রিল করার খাঁকি শার্ট, পরনে খাঁকি হাফ – প্যান্ট, সারা শরীর ঢাকা ধূসর রঙের ওভার- কোট, পায়ে রয়েছে ধূসর রঙের মোজা, মাথায় একটু হেলিয়ে কাত করে টুপি পরা ভগৎ সিংজি’, আর বটুকেশ্বর দত্তেরও রয়েছে খাঁকি শ্যরট্ ও শার্ট; সারা শরীর ঢেকেছে ঈষৎ নীল রঙের ওভার – কোট।1929সালের 3রা এপ্রিল, ওভার- কোট বাদে, ঐ পোষাকেই তাঁরা, দিল্লির কাশ্মীরি গেটের রামনাথ ফটোগ্রাফারের দোকানে ফটো তুলেছে; 6তারিখে তাঁদের ফটো ডেলিভারি নিয়েছে। ঐ ফটো সমেত তাদের বক্তব্য যেন
পৃথিবীর কোনায় কোনায় পৌঁছে যায়, HSRA’র কাজের প্রচারটাই
এখানে মুখ্য উদ্দেশ্য। ওভার কোর্টের পকেটে রয়েছে অল্প- ক্ষমতা সম্পন্ন বোমা। দোতলায় ভিজিটরদের বসার ব্যবস্থা। নীচের হলঘরে, পীড়ন- মূলক বিলগুলো নিয়ে আলোচনা, তর্ক- বিতর্ক চলছে; এবার বিলগুলোর উপর ভোটাভুটি হ’ল; কাউন্টিং শুরুর
আগেই আগ্রায় তৈরি করা বোমা, ওরা পরপর ছুঁড়ছে, ঠিক ট্রেজারি- বেঞ্চের পিছনের ফাঁকা জায়গায়, সেখানে মানুষের ক্ষতির সম্ভাবনা
নেই বললেই চলে। পরপর বোমার বিকট আওয়াজে, হলঘর গমগম করছে। বিপ্লবী দু’জন আওয়াজ তুলছে, ‘ইন ক্লাব্, জিন্দাবাদ, ডাউন উইথ ইম্পিরিয়ালিজম্;
উপর থেকে ফেলা হচ্ছে লিফলেট, তা ছড়িয়ে পড়ছে, হলঘরের কোনায়, কোনায়, কয়েকটা হলঘরের বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে। হলঘরে থাকা সব সরকারি লোকজন ও পুলিশের দল, ভয়ে চেয়ার/ বেঞ্চের নিচে বাঁচবার চেষ্টায় হুড়োহুড়ি করছে।
ইচ্ছে করলেই, ঐ দু’জন বোমা নিক্ষেপকারী পালাতে পারতেন; চারদিক ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন, না, উদ্দেশ্য তো তা নয়, সারা পৃথিবীতে ওদের প্রতিবাদ/বক্তব্য প্রচারের অভিপ্রায়েই ওরা জীবন- আত্মাহুতি দিতে বদ্ধপরিকর;HSRA’ র নামে হ্যান্ডবিল, ওপর থেকে বৃষ্টির ধারার মত পড়ছে। ভিজিটর গ্যালারির সাংবাদিকদের জায়গায় রহেছেন, লালা দুর্গাদাস; তিনি, ‘The Statesman’ পত্রিকার সাংবাদিক। দিল্লি থেকে কোলকাতার সব টেলিফোন লাইন- ই সরকারি কাজে রিজার্ভ রয়েছে। লালাজি, বুদ্ধিবত্তায় এ সংবাদ ওয়ারলেসে ইংল্যান্ডে পাঠালেন, ওখান থেকে মুহূর্তের
মধ্যে এ খবর চলে এসেছে কোলকাতার ‘Statesman House’ এ। বোমায় কোনো ক্ষয়- ক্ষতি হয়নি, হওয়ার কথাও নয়,
উদ্দেশ্যও নয়। বিপ্লবীদের কোমরে গোঁজা পিস্তল দেখে, সার্জেন্ট টেরী
আর সামনে যেতে চাইছেনা। ভগৎ সিংজি ও বটুকেশ্বর দত্ত, বলতে শুরু করেছেন—–
‘It takes a loud voice to make the deaf hear—-‘ “

“কাউন্সিলারদের উদ্দেশ্য করে বলছেন—-
‘আপনারা নিজেদের কন্সিটুয়েন্সিতে ফিরে যান; লোকেদের মধ্যে এই সব দমন- মূলক ‘Trade Disputes Bill, Public Safety Bill ও পরের শেশনে আনার জন্য অপেক্ষারত Press sedition — Bill সম্বন্ধে প্রচার করুন; লোকেদের জাগিয়ে তুলুন; সরকারের মুখোশ খুলে দিন, এই
অত্যাচারী, স্বৈরাচারী সরকারের বিরোধিতা করুন; সাইমন- কমিশনের ছুঁড়ে দেওয়া রুটির
টুকরো নিয়ে কামড়া- কাপড় না করে সরকারের বিরোধিতায় পূর্ণ
স্বাধীনতার ডাক দিন; শ্রমিক- কৃষক- মধ্যবিত্তের, দেশের কল্যাণ করতে গেলে, সমাজের আমূল- সংস্কার করতে হবে, সেটা বর্তমান অবস্থায় অসম্ভব, ডাক দিন—
‘ইন ক্লাব্ , জিন্দাবাদ; ডাউন উইথ ইম্পেরিয়ালিজম্ ‘।”

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।