T3 || ১লা বৈশাখ || বিশেষ সংখ্যায় উজ্জ্বল দাস

শিশুদের রবীন্দ্র আলেখ্য
শিশু – ১
তোমার সাথে প্রথম দেখা
সহজপাঠের প্রথম ভাগে,
তখন থেকেই বুঝে ছিলাম
মায়ের ভাষাই মিষ্টি লাগে।
দাড়ি মানেই সবটা সাদা
রবির কিরণ মাখামাখি
প্রথম শেখা কলরবে
গাছে বসে ডাকছে পাখি।
শিশু – ২
তোমার থেকেই তৈরি হওয়া
নদীর প্রতি ভালোবাসা,
আঁকে বাঁকে ছোট্ট নদী
হাটু জলে, ভিজতে আসা।
ভেবে ছিলাম লিখব চিঠি
আমার বাড়ি আসবে তুমি,
মা বলল ডাক না তবে
ধন্য হোক না বাস্তুভূমি।
শিশু – ৩
একেরপর এক বর্ণ শেখা
একেরপর এক গদ্যে তুমি
সহজ সরল চিত্রে লেখা
শব্দ সুরের মায়ায় তুমি।
কুমোড় পাড়ার মেঠো উঠোন
কলসি বোঝাই গরুর গাড়ি
সঙ্গ দিত ভাগ্নে মদন
গুছিয়ে নিয়ে মাটির হাঁড়ি।
শিশু – ৪
মায়ের পাশে চলছি বীরের মত
ডাকাত দেখে হইনি সেদিন ভীত।
টগবগিয়ে রাঙা ঘোড়ায় চেপে,
দস্যি ছেলে হয়নি পরাজিত।
তখনও আমি ভাবছি চিঠি লিখি
তুমি বললে লিখেই ফেল না খোকা,
একটু বড় হয়ে এখন বুঝি,
লিখছি কাকে? বড্ড আমি বোকা।
শিশু – ৫
বাবা বললে, আঁক’তো দেখি “রবি”
বিদ্যালয়ে কেমন শিখে এলি,
পেল্লায় এক দাড়ির ছবি এঁকে,
খাতার পাতায় কতই বা কী পেলি?
আমি বললেম, এখন দ্বিতীয় ভাগ
রাত পেরলেই আসছে জন্মদিন-
সহজপাঠেই থাকব মাথা গুঁজে
দুপুর রাতে আঁকব, একটা দিন।
শিশু – ৬
বছর শুরুর, পঁচিশ তারিখ এলে
বৈশাখী এক পুণ্য জন্মতিথি,
জোড়াসাঁকোর ঠাকুর বাড়ি জুড়ে
উঠছে সেজে সকল বনবীথি।
নোবেল জয়ী ঠাকুর তুমি রবি
বিশ্ব জোড়া তোমার এ পাঠশালা,
জগত জোড়া খ্যাতির শিরোনামে
ধন্য দেশের ধন্য এ আটচালা।