T3 || স্তুতি || শারদ বিশেষ সংখ্যায় উজ্জ্বল দাস

পুজোয় তোমার প্রেমে
আকাশ যখন পেঁজা তুলোয়
পায়ে কাশের সুর,
শিউলি তখন শব্দ করে
পড়ছে জল নুপুর।
হিমেল শিশির ভৈরবী রাগ
তোমার সুরে গায়।
বাতাস তখন ছন্দ হয়ে
সুরের মূর্ছনায়।
শুনছি মায়ের পদধ্বনি
আগমনীর গান,
ভুলছে সবাই হাসি মুখে
নীরব অভিমান।
তোমার চোখে সপ্তমীতে
বিকেল পায়ে পায়ে।
আমার মনে জল তরঙ্গ-
সেতার বেজে যায়।
তুঁতে তোমার পাঞ্জাবিতে
আমার আঁচল লাল-
অষ্টমীতে শাড়ি আমার
লাজুক বেসামাল।
তোমার চোখে চাইতে গিয়েও
অন্য পানে চাই,
বুকের ভেতর দামাল ছুটেও,
বেবাক হয়ে যাই।
নবমীতে ষোড়শী চাঁদে
হেলান দিয়ে বসে,
বন্ধু সে এক দিয়েগেলো,
গোপন চিঠি এসে।
হয়েছিলাম মাতাল সেদিন
তুমিময় সেই রাতে
পুড়তে শুরু করে ছিলেম,
তোমার ভীষণ তাতে।
(তাত মানে গরম আঁচ)
দশমীতে বিকেল থেকেই
বাজে বিষাদ তান,
সন্ধে ঘনায় করুন সুরে
মনখারাপি গান।
এই কদিনের তোমায় পাওয়া
সোঁদা মাটির সুর,
আশেপাশের গ্রামের কানে
খবর বহুদূর।
তখন আমি লাল ফিতেতে
অষ্টাদশী বেলা,
স্কুলবাড়িটার গন্ধ গায়ে,
তখনও মেয়ে-বেলা।
হয়তো তুমি কাব্য চেয়ে
অপেক্ষাতেই ছিলে,
গ্রাম্য আমি, শহুরে প্রেমের-
আঁচড় কেটে দিলে।