কবিতায় পদ্মা-যমুনা তে ঊষাতন চাকমা (গুচ্ছ কবিতা)

১. বৃষ্টি হয়ে যাক

বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা অনেক
মেঘেরা ভাসেনা নীল ঠিকানায়
উষ্ণতা শুধু পুড়ে হৃদয়াকাশ
সুখ পাখিদের দেখা নাই।

আজ যদি আসে বৃষ্টিরা
আসুক তবে এই খরায়
এখানে অনেকেই জীবন্মৃত
বৃষ্টিতে যদি সজীবতা পায়।

বৃষ্টি হয়ে যাক প্লাবনে প্লাবনে
জঞ্জালমুক্ত হোক শ্রাবণ ধারায়
প্রেমসিক্ত হোক নতুন পৃথিবী
বৃষ্টিস্নাত নীড়ে খুঁজবো তোমায়।

২. মানুষের শ্রেণি

মানুষ হলেও সকল মানুষ মানুষ নয়
রক্ত লাল হলেও একই জাতের নয়
সমাজ, রাষ্ট্র এবং পৃথিবীর প্রান্ত একই নয়
মানুষের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন পদ, পদবি ও শ্রেণি
উপ, ক্ষুদ্র ও বড় জাতের মানুষের বিভেদ
মানে, গুনে ও দামে অস্থির অহংকারের বাজার।

শুধু নিরহংকার চন্দ্র, সূর্য ও পৃথিবী সবার জন্য একই
আলো, বাতাস, জল ও পূর্ণিমার আলো সকলের জন্যই উপভোগ্য
মানুষের জন্য সত্যও একই–জন্ম হলে নিশ্চিত মৃত্যু ।

৩. আমিও একদিন খুঁজে নেবো বোধিবৃক্ষ

অবশেষে আমিও একদিন খুঁজে নেবো বোধিবৃক্ষ
বৃক্ষের নিচে ধ্যানের গভীরে চেতনার পেয়ালায়
পূর্ণ করে নেবো বোধিজ্ঞান
সব তৃষ্ণা ক্ষয় করে জয় করে নেবো জাগতিক মার
কবিতার ভাষায় লিখে যাবো মানব জীবনের রঙিন ডায়েরি।
অসম্ভব হয়তো নয় সব তৃষ্ণা ক্ষয় করে সন্ন্যাসী হওয়া
সব মায়া ছেড়ে, কায়া ফেলে আমিও ধাতু হবো
কবিতার পঙতি আমার দেহে শক্তি যোগাবে অহর্নিশ
বুদ্ধের বাণী আমাকে করবে আলোকিত মানব
সব হৃদয়ে আঁকব ভালোবাসার চিত্র কল্প
সব প্রাণে ফোটাবো শান্তির পুষ্প অবারিত।

এই পৃথিবীর ঘুর্নিচক্রে চাই না ভিন্ন ভিন্ন জীবন
যেখানে মানুষের লোভের চাকা শত শত দুঃখের কারণ
থেমে যাক মানুষের নিত্যদিনের কামনার আগুন
সৃষ্টি হোক করুণার পাহাড়, মুদিতা নগর
সবকিছু ছেড়ে পূর্ণিমার আলোয় মুগ্ধতা মেখে
বুদ্ধের পথে পা রেখেছি চলছি মুক্তির পায়ে পায়ে ।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।