তরুণ বি.এ. পাশ করেছে। বাবা অসুস্থ হওয়ার পর থেকে বাড়িতে অভাব।
তরুণের একটা চাকরি দরকার।
একদিন স্টেশনের টয়লেটে একটা বিজ্ঞাপন দেখল। কলকাতার নামি অফিসে হরেকরকম কাজের অফার। সিকিউরিটি গার্ড থেকে ম্যানেজার। মাইনে মাসে দশ থেকে আঠেরো হাজার। তরুণ ফোন নম্বরটা ফোনে সেভ করল।
বাবার শরীর খুব খারাপ হয়েছে। হার্টে ব্লকেজ। তাড়াতাড়ি অপরেশন না করালে যা কিছু হয়ে যেতে পারে। মায়ের ব্লাড সুগার। ওষুধপত্র, ডাক্তার, বোনের পড়াশুনা আর চারজনের গরীবের সংসার খরচ কম করে দশ হাজার।
ইন্টারভিউয়ের পরে ওরা বলেছে তরুণ খুবই কোয়ালিফাইড ছেলে। ওর মাইনে হামেশা বারো হাজার হবে। ওকে সাড়ে সাত হাজার জমা করতে হবে। বড় বাজারে অফিস। সোমবার জয়েনিং।
মা বললেন, “তোর বাবাকে লুকিয়ে অনেক কষ্টে কানের দুল দু’টো বাঁচিয়ে রেখেছিলাম। তা আর আমার দরকার নেই। তুই চাকরিবাকরি করে বড় হ। মা-বাবার মুখ উজ্জ্বল কর।”
প্রায় একমাস তরুণ চাকরি করছে। খাটনি খুব বেশি। এ-মাসে কয়েক হাজার ধারও করেছে। মাসের মাইনে পেলে শোধ দিয়ে দেবে।
প্রায় পঁয়ত্রিশ দিনের মাথায় তরুণ ধৈর্য রাখতে না পেরে বসের কাছে গিয়ে মুখ কাঁচুমাচু করে বলল, “স্যার, আমার স্যালারিটা যদি পেতাম!”
বস একটা স্লিপ লিখে পাঠিয়ে দিল ক্যাশিয়ারের কাছে। ক্যাশিয়ার তরুণকে এক হাজার টাকা ধরিয়ে দিল। তরুণ বলল, “শ্যামদা, একহাজার টাকা মাত্র?”
শ্যামবাবু নোট মেলাতে মেলাতে উত্তর করল, “বাবু তোমাকে এক লাখ দিতে বললে আমি তোমাকে তাইই দিয়ে দেব। আর কথা বাড়িয়ো না। আমার অনেক চাপ।”
বড়বাজারের নোংরা ফল পট্টির জল কাদায় কখন তার জুতো-প্যান্ট একাকার হয়ে গিয়েছে খেয়াল নেই। এম.জি.রোড মেট্রোতে ঢোকার মুখে বাঁ-দিকের দেয়ালে নীল বোর্ডে একটা বিজ্ঞাপন দেখতে পেল তরুণ:
“আত্মহত্যা প্রবণতা? কলঃ ৯৬৫৪০৮২৩..”
তরুণ নম্বরটা ফোনে সেভ করল।