• Uncategorized
  • 0

|| অণুগল্প ১-বৈশাখে || বিশেষ সংখ্যায় তনিমা সাহা

ব্যাগ

ননীবাবুর কাছে একটা হালকা বেগুনীরঙয়ের ব্যাগ আছে। উনি যেখানেই যান…. ওই ব্যাগটাকে বগলদাবা করে নিয়ে যান। ওই ব্যাগে কেউ হাত দিলেই শান্তশিষ্ট ননীবাবু একেবারে রুদ্রমূর্তি নিয়ে নেন।
ননীবাবু ভালোই ধনীব্যক্তি। কিন্তু তা-সত্ত্বেও একটু বেশীবয়সেই বিয়ে করেছিলেন। স্ত্রী ধ্যেনেশ্বরীও ওনার ব্যাগ-প্রীতির কারণটা সঠিকভাবে ঠাহর করতে পারেননা।
একদিন কাজের তাড়াহুড়োয় ননীবাবু ব্যাগটা নিয়ে যেতে ভুলে গেলেন। ব্যাগটাকে বিছানায় দেখে কৌতুহলবশতঃ ধ্যেনেশ্বরী ব্যাগটা খুললেন……ওদিকে মাঝরাস্তায় ননীবাবুর হঠাৎ মনে পরলো যে ব্যাগটা উনি বাড়িতেই ফেলে এসেছেন। পরি-কি-মরি হয়ে ছুটলেন বাড়িরদিকে। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরী হয়ে গিয়েছে। ঘরের মেঝেতে লুটিয়ে রয়েছে ধ্যেনেশ্বরী…চতুর্দিকে রক্তের বন্যা… সবচেয়ে আশ্চর্য্যের হলো ধ্যেনেশ্বরীর গোটা শরীর অক্ষত থাকলেও চোখগুলো খুবলানো। ননীবাবু হাহাকার করে বললেন, “আর কতো মৃত্যু আমায় সহ্য করতে হবে…। এই মৃত্যুর অভিশাপ থেকে কি মুক্তি নেই আমার”। হিসেহিসে গলায় কেউ যেন ননীবাবুর কানের কাছে বলে উঠলো, “হিরকপাথড়টা চুরি করার সময় কি আমার বা আমার পরিবারের কথা একবারও ভেবেছিলিস.…লোভে যখন পা দিয়েছিস তখন কাঁটার দংশন তো খেতেই হবে….”। ননীবাবু শুধু নিঃশব্দে চোখের জল ফেলেন।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।