সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে তুলি রায় (পর্ব – ৪)

নামকরণ
জীবন কেমন করিয়া উদ্দেশ্য বিহীন হইয়া পার হইয়া যায় তাহা উপলব্ধ হয় অন্তিমকালে। কেমন করিয়া সে কালাতিপাত করিয়াছে এতদিন, তাহার জন্য কেবল আফসোস হইতে থাকে! জন্মক্ষণ হইতে শেষ দিনের মধ্যবর্তী সময়টুকু যদি পুনরায় পাওয়া যাইতো! কত তো সুযোগ আসিয়া পায়ের তলায় লুটাইছে তবু একবার দেখিবার ইচ্ছাটুকু হয় নাই তখন। এতদিন ধরিয়া যাহা কর্তব্য বলিয়া মনে হইয়াছে তাহার বাইরেও আরো কতকিছু বাকি রইয়া গেলো তাহার কী হইবে? ‘জীবন একটি-ই’ একথা তর্কের বিষয় হইতে পারে। তবে তাহা যে আংশিক সত্য একথা অনস্বীকার্য । তাইতো শেষ লগ্ন শিয়রে আসিয়া উপস্থিত হইলে এমন আকুলিবিকুলি হইতে থাকে? যেন সকল ঘটনা সম্মুখে আসিয়া সার দিয়া দাঁড়াইয়াছে। তাহাদের মুখগুলি যেন তাহারই মতো, শুধু ভিন্ন নামকরণে!
কতকিছু তো সঞ্চিত হইয়াছিল এই জীবনে তবে আজ কেন মনে হইতেছে সব খালি! মুষ্ঠিবদ্ধ বালু যেন, তাহারে বাঁধিব কেমনে?
‘অন্য কোথা অন্য
কোন খান’
এত ক্লেশ, এত যন্ত্রণা সহ্য করিয়াও যদি আরো কিছুদিন সময় পাইয়া যাইতো, শুধরাইয়া লইতো সব। কিন্ত সময়? সে তো চঞ্চলা! তাহার উপর লাগাম লাগাইবে এমন সাধ্য কাহার? যাহা এইক্ষণে বর্তমান ছিল পরক্ষণেই তাহা অতীত। আজ যাহা তাহার ছিল, কাল তাহা অন্য কারোর। নির্ধারক সেই সময়-ই।
কেমন করিয়া একটি জীবন ভুল ঠিকানায়, ভুল নামকরণে….