গদ্যের পোডিয়ামে তুলি রায়

বিনিয়োগ

এতটা বলার পর তিয়াস থামলো।একটু ঘাম মুছলো, জল খেলো খানিকটা। আজকাল বড় তাড়াতাড়ি ক্লান্তি ধেয়ে আসে।তখন কিছু একটা চাই, আঁকড়ে ধরার মতো। বুকের কাছে কোলবালিশ’টা শক্ত করে চেপে ধরে ও। তারপর পা ঘষে ঘষে খানিকটা চলার পর ধীর পায়ে হেঁটে যায় ওয়ারড্রোবের দিকে। আলতো চাপ দিতেই খুলে যায় ডানদিকে পাল্লা। একটা একটা করে টিশার্ট, বেনিয়ান, টাওয়েল বের করে শুঁকতে থাকে,যেন কিছু একটা খুঁজছে, যা ওকে পেতেই হবে এই মুহূর্তে । নাহ্ গন্ধটা ঠিক আগের মতো পাচ্ছেনা। কেমন যেন হালকা লাগছে। এইতো এখানে অ্যাশট্রে, কাফলিঙ্ক, ল্যাপি, ওয়ালেট, অসমাপ্ত সিগারেট প্যাকেট… সবই তো একরকম আগের মতোই। তাহলে শুধু গন্ধটা কেনইবা এমন!
কিছুদিন যাবৎ দেখতে বেশ কষ্ট হচ্ছে তবু জাবরজাত অভ্যেসের খেয়ালে প্রোফাইলে হাত বাড়ায়। খুটখুট.. পাখিসন্ধান , খুঁদকুড়ো খুঁজছে ।উড়ান তার থেমেই । কবে যেন চেরাপুঞ্জি মেঘ ছুঁয়েছিল তাকে, মনেই পড়েনা তেমন। তবু চোখ বুঝলে সহস্র জলকণা যেন প্রতিটি রোম ছুঁয়ে যায়; ঝাপটায় লুটিয়ে আলুথালু করে যায় কিছুক্ষণ। তারপর কিছু সময় থেমে যাওয়া। আসলে কিছু দ্রবণ থেকে যায় আজন্ম ফেরিঘাটের মতো।
তিয়াসের সাড়ে সতেরোতম প্রেমিক তাকে বরুণা’র কথা শুনিয়েছিল, শুনিয়েছিল জলকলতলের কথা। তারপর একদিন জানালা জানালা রোদ কেটে গেলে পাখি ফিরে গেছিল নতুন আস্তানায়। দালানশূন্য বই’এর তাক ব্যস্ত হয়ে উঠেছিল ন্যাপথলিনের সাজে । সমস্ত ধুলোবালি ঝেড়ে। খাপে খাপে বসে যাচ্ছিল বর্ণেরা, যতটা জানা হয়নি আজও। কবিতার ক এর মতো, অনেক কথা না-বলা রাখতে হয়, জারণের জন্য।কিছু ক্ষত জিইয়ে রাখতে হয় লবণের জন্য।
সবুজ আলোটা থেমে আছে স্থবির স্ট্রীটল্যাম্পের মতো। এই তো এখানেও ট্রামরাস্তা ছিল। সেসব মাদল মাদল ইচ্ছেরা। সয়ে যায় এসব একটানা ক্লান্ত ঝিঁঝির আওয়াজে। চাওয়া-পাওয়া তো কিছু নেই, আছে কেবল সয়ে যাওয়া। প্রেমের আঁচ নিভে গ্যালে বেশ হালকা হওয়া যায়। পেটের ভিতর সোচ্চার কথাগুলো চক্রাকারে ঘুরতে থাকে মণিপুরজুড়ে । তিয়াস ফেটে পড়ে অট্টহাসিতে। একলা হবার মতো অহংকার অর্জন করতে হয়।কারণ প্রেমের থেকে বড় পরিহাস আর কিছু নেই।
পথ বদলে গ্যাছে আগেই। মত ফিরে আসে কেবল। নগ্নিকা পায়ের আঙুল আর উড়ন্ত তিতলিরা ডানা মেলে স্বভাবজাতিকা বলে । তিয়াস তবু পারেনা ঘৃণা জিইয়ে রাখতে, খোকলা আমার আমার প্রলেপ লাগাতে। ছুঁড়ে ফ্যালে খোলস এক হ্যাঁচকায়। আসার আগে একটা বাঁকা হাসি রেখে আসে, দূর্বলতার বিনিময়ে । পথটা দূরত্ব মুছে দেয় , কারণহেতু বিনিয়োগে…..
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।