সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে তুলি রায় (পর্ব – ৫)

নামকরণ
কল্মীলতার নব শাখে যখন ফুল আসে সাথে লইয়া আসে অজস্র সম্ভাবনার মুকুল। অগুনিত বাহারি ফুলের মাঝেও সে প্রস্ফুটিত হয়। দেবতার পদতলে তার ঠাঁই হয় না। তবু সে ফোটে শুভ্র শোভিত সিক্ত বসনে, যেন এক অনূঢ়া প্রব্যাজিকা। সুগন্ধি নাই তবু আপন সুগন্ধে সে অনন্যা। আর সকল কিছুর মতো তাহারও অস্তিত্ব বর্তমান। এই পৃথিবীর যেমন প্রতিটি কণা, প্রতিটি জড়, প্রতিটি সু, প্রতিটি কু যেমন বর্তমান, তেমন! সকলে আমাদের মধ্যেই বসবাসকারী , আপন আপন স্বাদ-গন্ধ-রূপ লইয়া।
সুন্দর সে তো শাশ্বত সত্য!তাই সে চিদাকাশের মত উজ্জ্বল। চৌম্বকের মতো আকর্ষণ শক্তি। শুধু ধুলোর আস্তরনে ঢাকা। উপরের ধুলোকণা সরাইয়া যদি দেখিতে পারো তো দেখিও। আকর্ষণ এড়াইতে পারিবে না। প্রশ্ন আসিতে পারে আচ্ছা, যাহা আকর্ষণ বলিয়া মনে হইতেছে তাহা ভ্রম নহে তো? যদি ভ্রমই হইবে তবে মনের ভিতর এমন উতালপাতাল কেন? তাকে পুকুর ভাবিতে পারো অথবা নদী। যাহার কোন ঘাট নাই, সোপান নাই। তবু জল টলমল। গভীরে ডুব না দিলে বুঝিব কেমনে যে তাহাতে জল আছে নাকি শুধুই কাদা! এক ডুব, দুই ডুব…কিছু না পাইলেও ক্ষতি নাই । আরো গভীরে যাইতে হইবে তবে । যদি তল পাই! চাতক তুমি ক্ষণিক জিরাইয়া লও তারপর ডুব দিও। যাইবার আগে মুছে দিও মনের সকল মলিনতা। জানিবে অতীতে যাহা ঘটিয়াছিল তাহার প্রয়োজন ছিল বই-কি। নইলে আজকের দিন-টি পাইতে কেমনে? কার্যকারণ ব্যতীত কোন কিছুই নহে। যাহা আছে, তাহা আছে। কোনদিন, কোনখানে ঠিক তাহার স্ফুটন ঘটিবে!