সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে তুলি রায় (পর্ব – ১)

নামকরণ
অবশেষে যখন সত্যি-সত্যিই দিনটি আসিয়া উপস্থিত হইলো, সে দেখিল তাগিদ নামক বস্তুটি উধাও হইয়াছে। অথচ এতদিনের সমস্ত ঝড়ঝাপটা উপেক্ষা করিয়া সে কেবল বেকারই দিন গুনিয়াছে। অতীত আসিয়া দাঁড়াইলে মায়ারা উধাও হইয়া যায়, সময় তখন মুচকি হাসিয়া অন্তরাল হয়। জীবনজুড়িয়া যাহা সঞ্চিত ছিল এতকাল তাহা যে কোনখানে চাপা পড়িয়া আছে তাহা খুঁজিতে খুঁজিতে ক্লান্ত হইয়া পড়ে প্রাণ। কখন যে সে কোনখানে আসিয়া হৃদয়ে আদ্রতার উন্মেষ ঘটাইবে তাহা সে নিজেও জানে না। শুধু মনের আকুলিবিকুলি লইয়া সে জানালার পানে দাঁড়াইয়া দূরের দিকে তাকাইয়া থাকে।চোখের কোনা করকর করিয়া ওঠে তবু তাহা আদ্র হইবার নামটুকু লইবার প্রয়োজন বোধ করে না। শুষ্ক অশ্রুর মতো বেইমান সে এই জীবনে আর দ্বিতীয়টি দেখে নাই। কথারা বাস্প হইয়া উপরে উঠিতে লাগিলে সে গৃহে ধূপবাতি জ্বালাইবার উদ্যোগ নেয়। তারপর ভাবিতে বসিয়া ভাবে এত ভাবনার উদ্রেক কোথা হইতে আসে? কেনই বা আসে? এই যে মুহূর্মুহু পরিবর্তন তো সে চায় নাই! সে স্বাধীনতা চাইয়াছিল, তবে আজ কেন পরাধীন হইবার ত্বরে ব্যাকুল হইয়া উঠিতেছে প্রাণ! তাহার শরীর, তাহার মন অথচ সে নিজেই তাহা বশে আনিতে পারিতেছে না! এ কেমন বিস্ময়! রহস্য ভেদ করি কেবল তাহাতেই আবর্তিত হইতেছে! চঞ্চল নদীর মতো কলকল ধ্বনি আসিয়া চলিয়া যাইতেছে। কেনই বা সেএ আসিতেছে আর কেনই বা সে চলিয়া যাইতেছে এসব ভাবিয়া সে আরো কয়েকটি সন্ধ্যা অতিক্রান্ত করিয়া ফেলিল। ধ্বনি স্তিমিত হইবার কোন লক্ষ্মণ না দেখিয়া সে কাগজ-কলম লইয়া লিখিতে বসে। কিন্তু আশ্চর্য হইয়া দেখিতে পায় তাহাতে লিখিবার মতো কোন স্থান অবশিষ্ট নাই। স্থান-কাল-পাত্র ভেদিয়া শব্দেরা শুধু আসাযাওয়া করিতেছে। ক্ষণিক দৃশ্যমান হইয়া আবার তলিয়া যাইতেছে…