ধারাবাহিক প্রবন্ধে তপশ্রী পাল (পর্ব – ৩৩)

আলাপ

উস্তাদ উসমান খান একবার বলেছিলেন ঘরানা হলো শুধু একটি বাড়ির ভিত মাত্র! শিল্পীকে তার ওপরে নিজের ইমারত বানাতে হবে। ঘরানা থেকে স্টাইল নেওয়া যায়, কিন্তু নিজের বাজনার সৃষ্টিশীলতা দিয়েই শ্রোতার মন জয় করতে হবে। এ কথা সত্য এটি প্রমাণ করে বেশ কয়েকজন বিখ্যাত শিল্পী তাঁদের ঘরানার থেকে অনেক বড়ো হয়ে গেছেন এবং পরে তাঁদের নামেই তাঁদের ঘরানা তৈরী হয়েছে। তেমন এক ঘরানার কথাই এবার বলবো, তবে তার আগে ছুঁয়ে আসি নানা ঘরানার অন্য দু-একজন শিল্পীকে। আমরা যন্ত্রসঙ্গীতের ঘরানাগুলির মধ্যে মাইহার, বীণকার এবং সেনিয়া ঘরানার কথা বলেছি। এবার ছুঁয়ে যাই ইন্দোর ঘরানার কথা, যার বিখ্যাত সেতার শিল্পী ছিলেন উস্তাদ আব্দুল হালিম জাফর খান সাহেব। এই ঘারানার বাজ ছিলো বীণার মতো এবং বাজনার বিলম্বিত অংশেই এই বাজের পূর্ব বিকাশ ঘটতো। তার সঙ্গে ছিলো উস্তাদের অপূর্ব নিজস্ব স্টাইল ও টেকনিক, যার জন্যই তিনি বিখ্যাত হয়ে আছেন। বলতে হবে লক্ষ্ণৌ শাজাহানপুর ঘরানার কথা। এই ঘরানার শুরুটি ভারী অদ্ভুত! রাজার ঘোড়াশালের প্রধাণ রক্ষক হঠাত সঙ্গীতে উৎসাহী হয়ে এই ঘরানার সূচনা করেন। তার নাম ছিলো শফিকুল্লা খান। তিনি সেতার বাজাতে শেখেন এবং দুই মীরজাপের সেতার বাজাতেন। সেনিয়া ঘরানার উস্তাদদের তৈরী গৎগুলিই তিনি বাজাতেন এবং এই সুন্দর গৎগুলি সংগ্রহ করে রাখতেন লক্ষ্ণৌয়ের এক সেতার সারাইয়ের দোকানের কারিগর ইউসুফ আলি। তিনি উস্তাদ শফিকুল্লা খানের সেতার সারানোর পরিবর্তে তার কাছ থেকে অপূর্ব গৎগুলি চেয়ে নিতেন ও তা লিখে রাখতেন। এই ভাবেই ঘরানার সঙ্গীত পরবর্তীকালে প্রবাহিত হয়।
বাংলার বিষ্ণুপুর ঘরানার সেতার বাদনও শাখাপ্রশাখায় ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘরানার বর্তমান প্রতিভূ বিখ্যাত শিল্পী পন্ডিত মণীলাল নাগের কন্যা সেতার শিল্পী মিতা নাগ বলেছেন এই ঘরানার আদি শিল্পীরা সবাই ধ্রুপদ গাইতেন এবং সুরবাহার ও সেতার বাজাতেন। তাই তাঁদের সেতারের বাজ ছিলো ধ্রুপদের মতো। জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবার এই ঘরানার পৃষ্ঠপোষকতা করে একে বিকশিত করতে সাহায্য করেন। এই ঘরানার রামপ্রসন্ন বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ও ঠাকুর পরিবারের যন্ত্রসঙ্গীত শিক্ষক। পন্ডিত মণিলাল নাগ এই ঘরানার ষষ্ঠ পুরুষ। তিনি ধ্রুপদ অঙ্গে যেমন বাজিয়েছেন, তেমনই তিনি কিছু স্টাইল নিয়েছেন বেনারস ঘরানা থেকে, উদবুদ্ধ হয়েছেন উস্তাদ আমীর খানের সঙ্গীত স্টাইলে। এভাবেই তৈরী হয়েছে তার নিজস্ব স্টাইল। সেই সময় রবিশংকর, আলি আকবর, নিখিল ব্যানার্জী সবাই নক্ষত্রের মতো জ্বলজ্বল করছেন। তার মধ্যে আলাদা কোন স্টাইল তৈরী করা সহজ ছিলো না।
এই ঘরানাগুলি ছাড়া জয়পুর ঘরানা ছিলো সেনিয়া ঘরানারই একটি শাখা, যা আগেই বলেছি।
এবার চলে আসি সেই ঘরানার কথায় যার শিল্পীরা ঘরানাকে অনেকখানি ছাড়িয়ে গেছিলেন তাঁদের নিজস্বতা দিয়ে। সেটি হলো এটাওয়া বা ইমদাদখানি ঘরানা। ইমদাদ খানের পরিবার আদতে রাজপুত ছিলেন এবং পরবর্তীকালে ইসলাম ধর্মগ্রহণ করেন। এঁরা রাজস্থান থেকে আগ্রা শহরের ঠিক বাইরে এটাওয়া বলে একটি গঞ্জ শহরে এসে থাকতে শুরু করেন। ইমদাদ খান ১৮৪৮ সালে এই পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর শিক্ষা শুরু হয় পিতা শাহাবদাদ খানের কাছে। শাহাবদাদ খান ধ্রুপদ গাইতেন এবং নিজে নিজে সেতার শিখেছিলেন। ইমদাদ খান তার শেখানো বাজকে বহুলাংশে উন্নত করেন। সেই সময় গোটা ভারতেই সেনিয়া অর্থাৎ তানসেনের বংশধরদের স্টাইলে যন্ত্রসঙ্গীত বাজানো হতো, যা ছিলো ধ্রুপদ অঙ্গের বাজনা। তিনি একে পরিবর্তিত করে খেয়াল গায়কীর ওপর নির্ভর করে এক নতুন অঙ্গের প্রবর্তন করেন, যা গায়কী অঙ্গ বলে বিখ্যাত। ইমদাদ খান বারো বছর সঙ্গীত শিক্ষার জন্য চিল্লা পালন করেন। চিল্লা হলো এমন এক ধরণের রেওয়াজ, যেখানে, যিনি রেওয়াজ করবেন তিনি গোটা জগত থেকে আলাদা হয়ে শুধু সঙ্গীতকে ধ্যান জ্ঞান করে বেঁচে থাকেন। এরপর তিনি কলকাতায় এসে বসবাস শুরু করেন এবং কলকাতায় তাঁর বাড়ির নাম দেন “রিওয়াজ”। এই বংশ পরবর্তীকালে অনেক বিখ্যাত যন্ত্রসঙ্গীত শিল্পীর জন্ম দেয় যারা প্রায় সবাই ভারত ও পৃথিবী বিখ্যাত হয়ে আছেন। এর মধ্যে আছেন উস্তাদ এনায়েত খান ও ওয়াহিদ খান, যাকে তিনি নিজের দুই হাত বলতেন। আছেন তার নাতি বিখ্যাত উস্তাদ বিলায়েত খান ও তার ভাই উস্তাদ ইমরাত খান এবং নাতির বংশধররা, উস্তাদ শাহিদ পারভেজ, সুজাত খান, নিশাত খান, শাফাতুল্লা খান, আজমত ও হিদায়েত খান। বিলায়েত খানের কন্যা জিলা খানও বিখ্যাত সুফি, খেয়াল ও লঘু শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শিল্পী!
এঁদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বর্ণবহুল জীবনের অধিকারী এবং বিখ্যাত হলেন উস্তাদ বিলায়েত খান। তাঁর কথাই এবার একটু বলবো আলাদাভাবে।
 উস্তাদ বিলায়েত খান ও ইমরাত খান দুজনের বাজনাই বেশ কয়েকবার আমার শোনার সৌভাগ্য হয় ডোভার লেন সঙ্গীত সম্মেলনে। মনে আছে প্রথমবার উস্তাদ বিলায়েত খানকে দেখে বেশ চমকিত হয়েছিলাম। মধ্যরাতে উস্তাদ স্টেজে এলেন কুচকুচে কালো গরম পাঞ্জাবীর ওপর অপূর্ব কাজ করা পশমিনা শাল ও ঘিয়ে রঙের চুড়িদার পরে। টকটকে গায়ের রঙ, অপূর্ব মুখশ্রী, গলায় ঝুলছে একাধিক সোনার হার ও লকেট, হাতের সোনার বড়ো আংটি ও ঘড়ি খুলে সামনে রেখে উস্তাদ বসলেন। স্টেজ যেন হাজার ওয়াট আলোয় ঝলমল করে উঠলো। এক এক পায়ের ওপর অন্য পা চড়িয়ে স্টাইলে সেতারটি কাত করে রেখে পরিষ্কার বাংলায় সবাইকে সম্বোধন করলেন। বেশ চমকে উঠলাম এমন বিশুদ্ধ বাংলা শুনে! শ্রোতাদের সঙ্গে সহজেই যেন এক সাঁকো তৈরী হয়ে গেলো তাঁর। সবাই যার যার সিটে নড়ে চড়ে বসলেন। উস্তাদের পিছনে বেশ কিছু বিদেশী ছাত্রছাত্রী। আশ্চর্যভাবে পিছনে কোন তানপুরা নেই। পরে জেনেছিলাম, উস্তাদ তানপুরা পছন্দ করতেন না সেতারের সঙ্গে। তিনি বাজনার মধ্যের শূন্যস্থান চিকারির তারের আওয়াজ দিয়ে সুরে ভরে রাখতেন। শুরু হলো দরবারীর অপূর্ব আলাপ! গৎ অংশ শুরু হতেই মনে হলো যেন বিভিন্ন খেয়াল বন্দিশ শুনছি! তাই তো! গায়কী অঙ্গকে তো এক অন্য পর্যায়ে নিয়ে গেছেন উস্তাদ! থেকে থেকে সেতার বন্ধ করে স্বকন্ঠে অত্যন্ত সুরেলা ভাবে গৎ-এর সঙ্গে জোড়া খেয়াল বন্দিশটি গেয়ে উঠছেন উস্তাদ! তাঁর কন্ঠের দীপ্তি যন্ত্রের চেয়ে কিছুমাত্র কম নয়! ঝালা অংশের বাজনা যেন বিদ্যুতের মতো প্রাণে এসে আঘাত করেছিলো মনে আছে!
তাঁর ভাই ইমরাত খানও এক বর্ণময় চরিত্র! তিনি বিলায়েতের তুলনায় একটু লম্বায় ছোট, ঈষৎ বক্র শরীর। পরনে পায়জামা, আচকান ও জ্যাকেট! মাথায় একটি জহর টুপি। তিনি স্টেজে এলেন দুটি যন্ত্র নিয়ে। একটি বেশ ভারী বীণার মতো সুরবাহার যন্ত্র ও অন্যটি সেতার। তিনি বললেন তিনি ইমদাদখানী ঘরানার ঐতিহ্য পুরোপুরি বজায় রেখে প্রথমে বিলম্বিত অংশ, জোড় ইত্যাদি বাজাবেন সুরবাহারে এবং তারপর গৎকারী ও ঝালা বাজাবেন সেতারে। সুরবাহার যন্ত্রটির আওয়াজ সেতারের তুলনায় ভারী, কিন্তু ভীষণ সুরেলা সুন্দর! অনেকক্ষণ বিলম্বিত আলাপ করেছিলেন ইমরাত এবং তারপর মধ্যলয়ে হঠাত করে হাতে তুলে নিয়েছিলেন সেতার এবং তা বেশ চমকের সৃষ্টি করেছিলো। মোটের ওপর দুই ভাইই বেশ নাটকীয় ঢংয়ে এবং অপূর্ব বাজিয়েছিলেন।
যাই হোক, ফিরে যাই বিলায়েত খানের কথায়। এটাওয়া থেকে কলকাতায় এসে বসবাস শুরুর আগে, উস্তাদ ইমদাদ খান তাঁর দুই পুত্র ও তাঁদের পরিবারকে নিয়ে অধুনা বাংলাদেশের ময়মনসিংহে গিয়ে ছিলেন। সেখানেই বিলায়েতের জন্ম হয়। খুব ছোট বয়স থেকেই বিলায়েতের প্রতিভা প্রকাশ পায়। শোনা যায় মাত্র ছ বছর বয়সে তিনি ৭৮ আর পি এম রেকর্ডে বাজান! তবে এরপর মাত্র দশ বছর বয়সে তাঁর পিতা এনায়েত খানের মৃত্যু হয়। এরপর গোটা পরিবার কলকাতায় চলে আসে। বিলায়েতের সঙ্গীত শিক্ষার ভার নেন তাঁর মা বশিরণ বেগম, কাকা ওয়াহিদ খান, মামা বিখ্যাত খেয়ালিয়া বন্দে হাসান খান এবং পরিবারের অন্যান্য গুণী মানুষেরা। শোনা যায় বিলায়েত মায়ের কাছে বলেন যে তিনি খেয়াল শিল্পী হতে চান। মা, নিজে এক খেয়াল ঘরানার বংশের মেয়ে হয়েও কিন্তু বলেন যে বংশের ঐতিহ্য বয়ে নিয়ে যাওয়ার গুরুদায়িত্ব তাঁর। তাই তাঁকে সেতার শিক্ষাতেই মন দিতে হবে। এই পরিবারের সবচেয়ে মজার ব্যাপার ছিলো যেহেতু তাঁরা রাজপুত বংশোদ্ভুত ছিলেন, প্রত্যেকের একটি করে হিন্দু নাম ছিলো। যেমন এনায়েত খানের নাম ছিলো নাথ সিং এবং বিলায়েতের নাম কাহার সিং। বিলায়েত স্বয়ং পরবর্তীকালে নাথপিয়া নামে বেশ কটি বন্দিশ তৈরী করেন।
এরপর অল বেঙ্গল মিউসিক কনফারেন্সে আহমদজান থেরাকুয়ার সঙ্গে বিলায়েতের বাজনা বিদ্যুৎ চমকের মতো শ্রোতাদের মুগ্ধ করে এবং তাঁর নাম দ্রুতবেগে ছড়িয়ে পড়ে। বিলায়েত খান সেতারে নতুন তারসংযোগ করে এবং নানাভাবে সেতারের বাজকে আরো অনেক সুন্দর করেন এবং বেশকটি রাগকে নতুনভাবে সাজান, যার মধ্যে আছে শ্রী, টোড়ি, দরবারী, ভৈরবী। তিনি রাগগুলির মধ্যে নানারকম বৈচিত্র ও ভিন্নতা নিয়ে পরীক্ষানিরিক্ষা করে সেগুলিকে আরো উন্নততর করে তোলেন। অনেক নতুন রাস্তা নিয়ে আসেন রাগবিস্তার ও রাগদারীতে। গায়কী অঙ্গ তাঁর উদ্ভাবনী চিন্তায় এক নতুন রূপ পায়। সেতারের একটি তারকে টানার পর একটি স্বরকে তিনি দুভাগে ভাগ করেন, যাতে স্বরটি ছাড়ার পরেও তার একটি রেশ থেকে যায়। পরে অন্যান্য সেতার শিল্পী, যেমন শহীদ পারভেজকে এই কায়দা প্রয়োগ করতে আমি নিজেই শুনেছি ডোভার লেনে। তিনি অনেকগুলি রাগ সৃষ্টিও করেন, যেমন কলাবন্তী, মান্ড ভৈরব ইত্যাদি।
তবে উস্তাদের জীবনে বিতর্কের অভাব ছিলো না। অত্যন্ত শৌখিন মানুষ ছিলেন বিলায়েত। শোনা যায় তাঁর পোশাক, সুগন্ধী, দামী গাড়ি ও দ্রুত গাড়ি চালানোর বিশেষ শখ ছিলো। যৌবনে তাঁর সৌন্দর্য এবং স্মার্ট ব্যবহার আকর্ষণ করেছিলো বাঙ্গালী এক অপূর্ব সুন্দরী বিদুষী নারীকে। তিনি পড়তেন প্রেসিডেন্সি কলেজে। নাম ছিলো মণীষা হাজরা। অনেকেই তখন এই সুন্দরী নারীকে বিবাহ করতে চাইতেন। কিন্তু সবাইকে পিছনে ফেলে বিলায়েত খানের সঙ্গে তাঁর বিবাহ হয় ১৯৫৮-৫৯ সালে। এরপর তাঁদের তিনটি ছেলে ও একটি মেয়ে হয়, তারমধ্যে একজন বিখ্যাত শিল্পী সুজাত খান এবং কন্যা গায়িকা জিলা খান। কিন্তু বিলায়েত ও তাঁর পত্নীর উচ্চাশা প্রবল হওয়ায় তাঁদের সংসার সুখের হয়নি। একসময় মণীষা কলকাতা ছেড়ে সিমলায় গিয়ে আলাদা ভাবে ছেলেমেয়ে নিয়ে বাস করতে থাকেন এবং উস্তাদের শত অনুরোধেও আর ফিরে আসেননি। পরবর্তীকালে উস্তাদ আবার বিবাহ করেন এবং তাঁর দ্বিতীয় পক্ষের সন্তান উস্তাদ হিদায়েত খান।
উস্তাদ যখন বাজনার শিখরে, তখন তিনি ভারতের সঙ্গে সঙ্গে দেশের বাইরে অসংখ্য কনফারেন্সে বাজাচ্ছেন। স্বাধীনতার পর তিনিই প্রথম ইংল্যান্ডে বাজান। প্রতিটি জায়গাতেই তাঁর বাজনার সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু সে তুলনায় কলকাতার সঙ্গীত জগতে তিনি স্বীকৃতি পান অনেক পরে। তার কারণ হয়তো তখন সেতার সরোদে নক্ষত্র সমাবেশ। ছিলেন রবিশংকর, আলি আকবর, নিখিল ব্যানার্জীর মতো শিল্পী! অসাধারণ বাজানো সত্ত্বেও বিলায়েত খানের আগে পদ্মশ্রী, পদ্মভূষণ ও সঙ্গীত নাটক আকাদেমী পান অন্যান্য শিল্পীরা। এতে বিলায়েতের আত্মসম্মানে আঘাত লাগে এবং তিনি সমস্ত সরকারী পুরস্কার এমনকি পদ্মবিভূষণ পর্যন্ত বর্জন করেন। তিনি মনে করতেন তাঁদের ঘরানা অন্যান্য ঘরানার চেয়ে প্রাচীন এবং তাঁরা এতো পুরুষ ধরে সেতারের সেবা করে আসছেন এবং তিনি নিজেও কারো চেয়ে কম নয় বাজনা ও জনপ্রিয়তার দিক থেকে। তাই অন্যান্য শিল্পীদের চেয়ে তার আগে এই সব সম্মান পাওয়া উচিত ছিলো।
একমাত্র আর্টিস্ট অ্যাসোশিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার “ভারত সিতার সম্মান” এবং প্রেসিডেন্ত ফকরুদ্দীন আলি আহমেদের কাছ থেকে আফতাব-এ-সিতার সম্মান তিনি গ্রহণ করেন। আমেরিকা ছাড়াও সাউথ এশিয়া, চায়না, আফ্রিকা, ইউরোপ এবং সোভিয়েট ইউনিয়ন এই প্রত্যেকটি দেশে অনেকবার বাজিয়ে শ্রোত্রীকূলকে মুগ্ধ করেছেন বিলায়েত খান। সত্যজিত রায়ের জলসাঘর, আইভরি মার্চেন্টের “দ্য গুরু”, কাদম্বরী ইত্যাদি ছবিতে সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন উস্তাদ বিলায়েত খান। ২০০৪ সালে ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়।  

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।