প্রবন্ধে তপন মন্ডল

জাতি গঠনে শিক্ষিত মা
একটি শিক্ষিত ও আত্মনির্ভর সমাজ গঠনে শুধুমাত্র পুরুষের ভূমিকা অধিক তাৎপর্যপূর্ণ নয়। নারীর ভূমিকাও অতি গুরুত্বপূর্ণ। মাতা- পিতা হারানো সন্তান কখনোই নিজেকে লোকসমাজে মেলে ধরতে পারে না। বাবা-মায়ের সঠিক দিকনির্দেশনায় প্রতিষ্ঠা লাভ করে সন্তানের সফলতা। মায়ের স্নেহ -ভালবাসা, আদর -যত্নে শিশুর মানসিক এবং বৌদ্ধিক গঠন শক্তিশালী হয়। মায়ের সুশিক্ষা পেয়েই সন্তান পৃথিবীতে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়।
আলবার্ট আইনস্টাইনকে তাঁর স্কুলের প্রিন্সিপাল পাগল বলে অভিহিত করেছিলেন। কিন্তু মায়ের যত্নে এবং অনুশাসনে পরবর্তীকালে তিনি শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী রূপে প্রতিপন্ন হন।
নেপোলিয়ান বোনাপার্ট এক সময় বলেছিলেন, ‘আমাকে একটি শিক্ষিত মা দাও আমি তোমাদের শিক্ষিত জাতি উপহার দেব’। নেপোলিয়নের মত মহান সম্রাট সে সময় বুঝেছিলেন একটি সুশিক্ষিত ও সংগঠিত জাতি গঠনে অবশ্যই মায়ের একটি সার্থক ভূমিকা আছে।
মায়ের ভালোবাসা এবং অনুপ্রেরণায় বৈদ্যুতিক বাতি আবিষ্কার করে জগৎকে আলোকিত করেছিলেন টমাস আলভা এডিসন।
মুঘল সম্রাট বাবর তাঁর আত্মজীবনী ‘বাবরনামা’ লিখেছেন,১৪৯৪ খ্রিস্টাব্দে পিতার মৃত্যুর পর বিভিন্ন রাজনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে তাঁর নানী এয়সান দৌলত বেগম ছিলেন প্রধান সাহায্যকারী এবং পথপ্রদর্শক।
তবে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে প্রাচীনকালে নারী শিক্ষাকে ভালো চোখে দেখা হত না। বর্তমানকালে নারী শিক্ষায় বিপ্লব ঘটেছে। নারীরা আজ পুরুষ শাসিত সমাজে পুরুষের সমকক্ষ হতে পেরেছে। সামরিক ক্ষেত্রে পারদর্শিতা দেখিয়েছে। বিমানের পাইলট। এমনকি দেশ শাসনে তারা পুরুষের থেকে কোন অংশে কম নয়। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে দেখা যায়, প্রায় সমস্ত প্রতিষ্ঠিত নারী তাদের প্রতিষ্ঠার পিছনে মায়ের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।
আধুনিক সমাজে আরেকটি সমস্যা হল, শিশুদের মধ্যে স্বার্থপরতা। আর এই স্বার্থপরতার মূলে অবশ্যই তার পিতা-মাতার ভূমিকা থাকে। অপেক্ষাকৃত নিচু পেশা বা কম শিক্ষিত অথবা দরিদ্রকে মানুষ না মানার শিক্ষা দিয়ে থাকে পাঠ্যবিদ্যায় পারদর্শী অতিশিক্ষিতরা। তাদের সংকীর্ণ মনোভাবের কারণে শিশুরা অপরাধী, আত্ম অহংকারী, আত্মসুখবাদী হয়ে পড়ে।