কবিতায় তপন মন্ডল

বিধবা —এক কঠিন জীবন যন্ত্রণা

দেয়ালের ছোট চতুর্ভুজে আবদ্ধ
উজ্জ্বল প্রতিকৃতির পানে বিষন্ন বদনে
অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে
সুখের দিনগুলির সূক্ষ্ম স্মৃতিচারণে…
বাহুতে ভর দিয়ে ঘুমন্ত ভালোবাসার দুই ফসল।
হয়তো তারা স্বপ্নের জগতে
ভাসমান রথে পিতার সঙ্গে বসে খাবারের বায়নায়।

একাকী নিঝুম রাতে খোঁজে শুধু জীবনের অধীশ্বরে
শূন্য বিছানায়।
যৌবন সুখের মোহ
প্রতিক্ষণে গিলে খায় কঠিন বাস্তবতা।

অপয়া, কুলটা গুচ্ছ শব্দের
গুঞ্জন প্রতিক্ষণে কর্ণকুহুরে।
কপালে কলঙ্কদের উন্মত্ততা!
তবুও অক্টোপাসের মত সন্তানকে বুকে আগলে
ভবিষ্যতের সুন্দর কল্পনার রামধনুর রাজ্যে বাস।

আলমারির ছোট্ট কোণে তুলে রাখা
আশীর্বাদী বেনারসি এখন নিঃসঙ্গে কাঁদে।
অতীতের স্বপ্নরা শ্রুতি মধুর কথা বলে!
প্রহরের পর প্রহর নিঝুম কালো রাত্রি ঘুমের মেরুদন্ডে করে করাল আঘাত।

কুলাঙ্গার কামুক ছদ্মবেশী আত্মসুখী পরপুরুষ খোঁজে
সাদা থানের অন্দরে যৌন সুখের মনোময় ঘ্রাণ।
যেমন ছোটে মৌমাছি বনফুলের মধুর মত্ততায়।
যতই ঢেকে রাখে দেহখানি,
পরবাসীর চোখে শুধু কামনার আগুনের অলীক প্রলোভন।

উৎসব আমাদের যেতে নিষেধ করেছে!
শাশুড়ি শোনায় পোড়ামুখী খেয়েছে স্বামীর মাথা!
কেউবা দেয় নতুন করে বাঁচার প্রেরণা।
কেউবা ‘অভিশপ্ত’ মনে করে দেয় ছুঁড়ে গহীন অন্ধকারে।
মাঝে মাঝে মনে হয় যদি থাকত সহমরণ!

বেঁচে আছি!
হাজারো ঝঞ্ঝা,
তবুও বেঁচে আছি।
হাজার ক্লেশ বুকে চেপে সন্তানের সরল হাসির মায়াতে।
বেঁচে আছি প্রতিকূলতাকে সঙ্গে নিয়ে
বিকলাঙ্গ সমাজে আগামীতে সুখী হওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে!

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।