কবিতায় পদ্মা-যমুনা তে তাজ ইসলাম (গুচ্ছ কবিতা)

১. ইষ্টিকুটুম

মায়ের হয়েছে বয়স জীর্ণবৃক্ষ দেহ
নানাবাড়ির আত্মীয়রা নদী ভাঙা বাড়ির মতো তলিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে।
মাতৃকোলের ঢেউ হয়ে এ ঘাটে আর ভীড়ে না কেহ।

নানাবৃক্ষে মা, মামা, খালা লটকনের থোকার মতো ঝুলে ছিলেন শক্ত বোটায়।

সংসার উঠোনে এখন তারা সে লটকনের ছিটানো খোসা,
কেউ কারও খবর রাখে না!

আমরা ঝুলে ছিলাম বাবাবৃক্ষের ডালে ডালে সম্ভাবনাময় সন্তানমুকুল।
হৃষ্টপুষ্ট হতে হতেই বিয়ের বাতাসে
কেউ টুপ করে ঝরে পড়ছি দাম্পত্যের কোলে।

প্রাপ্তবয়স্ক মৌসুমে সংসার ক্যারেটে প্যাকিং হয়ে
পরিবেশিত নিজ নিজ গৃহে
নেড়েচেড়ে দেখছে প্রত্যেকের ইষ্টিকুটুম গ্রাহক।

আর সন্তানেরা উপভোগ করে গোপালভোগ,হিমসাগর,ক্ষীরশাপাতি
আম্রপালি জীবন।

এবং তারা ভুলে যায় একদিন তার বাবা কিংবা মায়ের বুকও
সন্তানদের ইচ্ছার ছুরিতে হয়েছিল ফালা ফালা।

মৌসুম শেষে বাবা ও মা
সমস্ত আম উজাড় করা রিক্ত বৃক্ষের মতো দাঁড়িয়ে আছেন ইষ্টিকুটুমহীন নির্জনরুমে।

তসবিহ টিপতে টিপতে অপেক্ষার প্রহর গুনেন
এই বুঝি চলে এলো মৃত্যুর করাত।

হেড স্যারের বিদায় সংবর্ধনায়
হাজির হওয়া ছাত্রদের মতো
ইষ্টিকুটুম পূর্ণ হবে উঠোনে
এই মুখ শেষবার একবার দেখার আশায়।

২. আম্মাবায়াদ

সমস্ত প্রশংসা যিনি সৃষ্টি করেছেন তার
আর তার প্রিয় বন্ধুর প্রতি দরূদ
আম্মাবায়াদ;
শুনুন জ্ঞানীগণ
মাটির দিকে দৃষ্টি দিন।

একবার মাটি হউন
একদিন মাটিতে আপনি ডুবে যাবেন।

ভাইয়েরা আকাশের দিকে ঔদ্ধত্য উড়াল থামিয়ে মাটি হোন।
মাটি আপনাকে ডাকছে।

৩.

চাঁদ ঘুমাতে গেলে

যে রাতে ঘুমাতে যায় চাঁদ
সে রাতে ভাঙে আঁধারের বাঁধ
ঘন অমাবস্যায় ঢেকে যায় পৃথিবী শরীর।

চাঁদ ঘুমাতে যায়, জোনাকিরা সুখ পায়
নিজেকেই চাঁদ ভেবে বাঁশঝাড়ে নেমে আসে জোনাকি মিছিল।

চাঁদ ঘুমাতে গেলে
জোনাকিরা খুচরা বাম দল হয়ে
বাঁশবাগানে এসে করে জোসনার বড়াই
চাঁদ ঘুমাতে গেলে জোনাকিরাই চাঁদ হয়
রাজনীতির শূন্য মাঠে
কতিপয় বামের মতো পাছার আলো জ্বলায় নিভায়।

চাঁদ ঘুমাতে গেলে
ধুন্ধুমার নেমে আসে অমাবস্যার ঢল
ভীরুগণ করে জোসনা বিলাপ
সাহসীরা অপেক্ষা করে
তারা জানে চাঁদ জেগে ওঠবে ভরা পূর্ণিমায়।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।