কবিতায় পদ্মা-যমুনা তে তাজ ইসলাম

প্রিয় সকাল

প্রিয় সকাল
তোমার জন্য সারারাত অপেক্ষা করেছি
তাহাজ্জুদে দু হাত আরশমুখী করে
প্রার্থনা করেছি
মায়ের আঁচল ধরে ঈদের জামা
চাওয়ার মত কেঁদেছি
অথচ তুমি এলে না
মুয়াজ্জিনের আজানে সূর্য উঠেছে
আসছে না তবু আমার কাঙ্ক্ষিত সকাল
মনে পড়ে চাঁদরাতে
আমরা বারান্দায় গোল হয় বসে
হাতে মেহেদি দিতে দিতে
মায়ের বানানো গরম পিঠা
খেতে খেতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম
সকালে ঈদ হবে বলে
ফজরের আজানের আগেই আমরা হুড়মুড়িয়ে উঠে দেখি
সকাল আমাদের উঠোনে দাঁড়িয়ে হাসছে
প্রচণ্ড শীতকে উপেক্ষা করে
দাঁতে দাঁত ঠকঠক করে
গোসল সেরে নতুন জামা পরে আমরা ঈদ ঈদ করে পাড়া মাথায় নিয়ে নেচেছি
আমার সেই সকালটা আবার চাই।
চাঁদ রাতে বাবা বাড়ি আসবেন
আমরা দু ভাইবোন কাটিয়েছি
সারারাত ঘুম সজাগ
মাঝরাতে মাকে বলেছি সকাল হয়েছে?
দাদুকে ডেকে বলেছি সকাল হয়েছে?
ছোট বাবা ( ছোট চাচ্চুকে আমরা ছোট বাবা ডাকি) বাধ্য হয়েছে ফোন দিতে বাবাকে।
বাবা বলেন মহাখালী পার হয়েছি,
গাজীপুর চৌরাস্তায় আছি,
পাকুন্দিয়ায় এসে গেছি বাপ।
আমাদের তর সয় না
গাইটাল আসতেই আমাদের উঠোনে
আনন্দিত সকাল এসে পড়েছিল।
তখনও সূর্য হাসেনি,মুয়াজ্জিন জাগেনি
আমরাই সেদিন সকাল সকাল ডেকে তুলেছিলাম হুজুরকে।
আমার কাঙ্ক্ষিত সকাল
তোমার জন্য বাড়ির
সামনে এসে অপেক্ষা করি
কুরবানীর গরু দেখতে যেভাবে
দাঁড়িয়ে থাকি দাদার হাত ধরে
মসজিদের সামনে।
প্রিয় সকাল তুমি এসো
বছরের প্রথম সূর্যোদয়ের সাথে
বিজয়ের আনন্দে আমরা
আবার হেসে উঠি।।
প্রিয় সকাল তুমি ছোট খুকির মত ফোকলা দাঁতে হাসতে হাসতে আমাদের উঠোনে এসো
মা দুপায়ে সোনালী ধান ছড়ানোর মত
স্বপ্নগুলো রোদে টাটকা হতে দিবেন
প্রিয় সকাল খুব তাড়াতাড়ি এসো।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।