আমি তনিমা হাজরা। লিখি কবিতা, গল্প, অনুগল্প, মুক্তগদ্য, প্রবন্ধ।
গুচ্ছকবিতা
(১)
যেখান থেকে শুরু, সেটাই ভোর,
কে বলে পাগলি
কিছু হয়নি তোর।
সাজিয়ে হয় না কিছু,
না বাঁধা থাকে রুটিনে,
তুই তোর মতো ছবি আঁক, তারপর ছুটি নে,
যার যার ক্যানভাসে সেই অনন্যা,
আমরা প্রত্যেকেই অগ্নিকন্যা,
বুকের গোপন ঘরে
জ্বালানো অভিজ্ঞতা,
উথলে ওঠে যত উপরে তিক্ততা,
সব ছেঁকে নিলে
থাকে
অমৃত অক্ষয়
আমাদের হাতে পড়ে
বিষও মধুময়।।।
(২)
এখন মূর্তির মতো বেশ আছো তুমি,
নির্লিপ্ত নিবেদন ভোগ,আরতি, শীতল।
অর্ঘ্য,নৈবেদ্য, অঞ্জলি নিয়মিত,
নাও কি না’নাও জানিনা,
তবুও ঝাটপাট,সাজগোছ, নিত্যনৈমিত্তিক।।
প্রেম মরে গেলে, নিভে যায় সব অভিমান, অভিযোগ, রাগ,
তখন প্রেমিক হয় ঈশ্বর কিংবা শয়তান,
যদিও ভাবতে গেলে এ শূন্য শ্মশানে দুটোরই গুরুত্ব সমান।
নিজস্ব কর্মগুণে আমার কাছে এখন তুমি ঈশ্বর হয়েছ,
মুখে বেশ খানিকটা স্মিত হাসি,
পরণে রাজবেশ, ঘিয়ের প্রদীপ,
আলপনা, ভজনপূজন
সাজন্ত রেখেছি সঠিক পরিমাণ।।
বিগ্রহের প্রাণ নেই, কান নেই, মন নেই, এঁকে রাখা টানা টানা চোখে দৃষ্টি নেই ,
এই পুতুল খেলায় তাই রাগ নেই, অভিযোগ নেই, অভিমান নেই,
আছে শুধু নির্বিকল্প স্বস্তিক।।
(৩)
অনেক ছড়িয়ে গেছিলাম
এবার গোটাবো,
আকাশে বিস্তার,
এবার ওঠাবো।।
মেলেছি অনেক ডানা
পরিণাম বহুদূর,
ফেরার পালা,
এবার ভিন্নসুর।।
গিয়েছি এত কাছে
তবু্ও চেনোনি,
থাক পরিচয়,
বাঁক কাহিনী।।
যখন মারী আসে,
গোমড়া মৃত্যুভয়
চিতা অগ্নিভ
বিকীর্ণ পরিচয়।।