গদ্যের পোডিয়ামে তনিমা হাজরা

ভ হইতে সাবধান

আচ্ছা “ভ” অক্ষরটাকে একটু নিবিষ্টভাবে লক্ষ্য করেছেন কী? highly suspicious কিন্তু ভাই। ওই দেখুন দুম করে কানার মতো “ভ” এর গাড্ডায় পা দিয়ে ফেল্লাম। আচ্ছা ভাই বলে পৃথিবীতে সত্যি কিছু আছে নাকি? ধুর মশাই ওসব সৌভ্রাত্যবাদ আপনার পকেটেই রাখুন। স্বার্থে আঘাত লাগলে সব ভাইয়ের ভেতরের ভাইরাস গলগল করে বেরিয়ে রোগের মহামারী বাঁধিয়ে ফেলে। আর ঘ্যাঁচাং করে সম্পক্ক খাল্লাস।
কি ভুল বল্লাম?? ইস!! আবার “ভ”। মেপে মেপে পা ফেলছি তবু্ও। এতো গাড্ডা না রাস্তায়। ভ্যাবলার মতো হাঁটলেই ভবিষ্যৎ ভয়ানক।।
আসলে এক কথা বলতে এসে অন্য কথায় ভটকে গেলাম। 🥴 আবার ভ। তবে এই ভ সেই ভ নয় রে গোপাল। এ হলো ভয়ংকর ভাইচারা। যে সে গাছের চারা নয়। কালনায় পুঁতলে ক্যালিফোর্নিয়ায় ফুঁড়ে গাছ গজাবে।
আসলে মালদহের নেড়ি মেলবোর্নে গিয়ে নোরা হয়ে গেছে কিনা। গোটা ভাষার জমানা এখন আর নেই। কেউ তোমার শিক্ষা দীক্ষার কদর করবে না। সব ওপর চালাকদের যুগ।
সব মাল্টিপল ভাষার “শাওয়ারমা র‍্যাপ”। পাঁচ কুচি বাংলা, চার কুচি হিন্দি, দু কুচি ফ্রেঞ্চ, তিন কুচি ইংরেজি চটকদারি সস আর মেয়োনিজ মাখিয়ে র‍্যাপ করে বাজারে ছেড়ে দাও তোমাকে সবাই হেব্বি বোদ্ধা ভাববে। কেউ তোমার জ্ঞানের গভীরতা নিয়ে প্রশ্ন করারই সাহস পাবে না। তোমাকে দেখে ভক্তিতে, ভালবাসায় ভগবান ভেবে একেবারে আপ্লুত হয়ে গদগদ হয়ে পড়বে। কেউ তোমার ভড়ং এর ভেতরে দাঁতই ফোটাতে পারবে না। ভাঁওতার বিন্দুমাত্র হদিশই পাবে না ।।
এ্যাঁই! 🤔🤔 এতক্ষণে আমি ঠিক রাস্তায় এসেছি।
ওই তিন ” ভ” নিয়ে বলব বলেই তো লিখতে বসেছি। তবে আর ভূমিকা করে লাভ কী?
১* ভ’ এ ভূত 💩= ভয়
২* ভ’ এ ভগবান 🙏= ভক্তি
৩* ভ’ এ ভালবাসা💌 = ভরাডুবি
এই তিন ভ এর উপর ভর করেই গোটা দুনিয়াটা ভরাট। সত্যি বাবা ভ নিয়ে লিখতে বসে ভড়ভড় করে এত ভৌতিক শব্দ ভিতর থেকে ভিড় করে আসছে যে কি বলি। বাংলা ভাষায় এত যে ভারি হালকা ভ’ কারান্ত ভূষণ ছিল ভাবতেই পারিনি। আসলে ভালো করে ভিতর থেকে কোনো জিনিসকে না জানতে চাইলে ভাবাই যায়না তার ভৌগোলিক ভ্রমণ বা ভূমধ্যস্থ ইতিহাস।।
ভূত, ভগবান, ভালবাসা তিনটিই আমাদের কল্পনার ভূমিতে দাঁড়িয়ে। তিনটিই ভারি ভ্রম উৎপাদক, ভয়ংকর এবং ভুলভুলাইয়ার মতো অমীমাংসিত ধাঁধা। যার তল নেই। তবুও আমাদের বিশ্বাস করতে ভালো লাগে।। পৃথিবীর প্রতিটি নাটকে এই তিন ভ ভয়ানকভাবে প্রভাব বিস্তার করে।
মানুষ যখন ভূত হয় তখন তাকে নিয়ে রাজনীতি হয়, ভগবান যখন ভূত হয় তখন তাকে নিয়ে ভক্তরা নাচে, আর সবকিছুই আমাদের ক্ষমতা দখলের ভালোবাসা থেকে সৃষ্ট। তখন ভূত, ভগবান, ভয়, ভক্তি ভাই ভাই হয়ে বসে আপনার ভরাডুবির কারণ হয়।
🤗🤗 কি ভাবছেন? ভাং খেয়ে ভাট বকছি?? ভাবুন, ভাবুন, ভ এর ভেতরে ঢুকে ভালো ভাবে ভাবুন। আমি গ্যাসে ভাত চাপিয়ে এসেছি। তলাটা ধরে গেল বোধহয়।। পোড়া গন্ধ পাচ্ছি।।
দুনিয়ার বেশির ভাগ মানুষের তো ওই ভাতের জোগাড় করতে করতেই দিন কাবার হয়ে যায়। তলিয়ে ভাবার সময় আছে নাকি।।
তুমি আমাকে #ভাত দাও। আমি তোমাকে #ভোট দেব।।
😥😥 ভ্যাগাবন্ডের মতো ভুড়ভুড়ি কাটতে কাটতে ভয়ানক দুটো শব্দ উচ্চারণ করে ফেলেছি ভুলে যান মায়বাপ।।
আমার ভাত চাই আর আপনার ভোট চাই। ভ’য়ে ভ’য়ে কাটাকুটি।।
ভাত আমার ভূত,
ভোট আপনার ঝি,
হেবিওয়েট ভগবান সাথে আছেন
কে করবে কার কী ।।।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।