দিনলিপিতে তৃণা ঘোষাল – ৬

বাড়ির গল্প ৬

সারাদিন যত ব্যস্তই থাকুক দিদুন বিকেলে ঠিক পান মুখে দিয়ে গা ধুতে যেত।পন্ডস পাওডার লাগিয়ে হলঘরের ডিভানে বসে সবজি কুটতো।আর সঙ্গে চলত ধারাবিবরণী – সারাদিন কি হল,কি করলো,দোলন গুবলু কতটা দুষ্টুমি করলো সব বলা চাই।
আমার প্রিয় ছিল দিদুনের হাতের যে কোন রান্না – এমনকি নিমপাতাও সোনাহেন মুখে খেয়ে নিতাম যদি দিদুন দিত।ওইবাড়িতে গেলেই দিদুন কিছু না কিছু বানিয়ে দিত।
দিদুনের ভাঁজপড়া হাল্কা শিরাওঠা হাতের আদর আর ওই পান মশলার গন্ধ মিলিয়ে দিদুন ছিল ভীষণ মাই ডিয়ার।খুব ভালবাসত আমাকে – নিপাট নিভাঁজ ভালবাসা।তবু আমি বলতাম দিদুন আমার থেকে গুবলুকে বেশি ভালবাসে।
ফ্ল্যাট টাকে তৈরি হওয়ার সময় থেকে দেখেছি আমি।যখন রঙ পড়ে নি,দেওয়াল উঠছে তখন থেকে।প্রত্যেকটা ঘর বারান্দা গ্রীল জানলা আমি চিনতাম।আমার মামার বাড়ি,আমার গ্রীষ্মের দুপুরের এসি ঘর,আমার ফাইভ স্টার হোটেল সব ছিল ওখানে।অনেক অনেকদিন আগে দিদুন যেদিন হঠাৎ করে নেই হয়ে গেল তারপর থেকে কোনদিন ওখানে যাই নি আর।
সামনে দিয়ে প্রায়ই যাতায়াত করি।আমি ফ্ল্যাট টার দিকে তাকাই।জানি, রাস্তা থেকে দেখতে পাব না তবুও।ইচ্ছে করে চলে যাই।ওই তো আমি মা বাবার আগে আগে তিনতলাতে উঠছি।দূর থেকেই বুঝতে পারছি দিদুন দরজা খুলে রেডি।রোব্বারের এক পড়ে আসা বেলাতে দিদুন হাত নাড়ছে ঠিক যেমন করে সেবার নভেম্বরের এক সকালে হাসপাতালে রওনা দেওয়ার আগে হাত নেড়েছিল।আর তারপর…… সেবার কালিপুজোতে বাড়িটা একা ছিল …..
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।