গল্পেরা জোনাকি -তে তনুশ্রী দেবনাথ

আজি ঝরো ঝরো মুখর বাদল দিনে

সন্ধ্যা নেমেছে, ঘড়ির কাঁটা প্রায় সাতটা ছুঁই ছুঁই বৃষ্টি নামলো মুসল ধারে। একলা বাড়িতে মনখারাপের পারদ উর্দ্ধমুখী।গোপা খুব চাইছিল অরিণের সাহচর্য। যদিও ও জানে এই মুহূর্তে সেটা কোন ভাবেই সম্ভব নয়। তবু মন মাঝে মাঝে খুব অবুঝ হয়ে ওঠে, কোন বাধাই মানতে চায় না। মনে হয় এক ছুট্টে চলে যায় অরিণের কাছে অথবা একাকিত্ব কাটাতে অরিণ কেই ডেকে নিতে মন চায় নিজের বাড়িতে।অবশ্য এ সবই কল্প লোকের চিন্তা ভাবনা, বাস্তবে এগুলোর কোনটাই সম্ভব না।
সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে সেলফোন টা বেজে উঠল।একরাশ বিরক্তি নিয়ে ফোন টা হাতে তুলে নিল গোপা। আসলে এই মুহূর্তে এই তুমুল বৃষ্টির সন্ধ্যায় সে অরিণ ছাড়া আর কিছু ভাবতেই চায় না। ফোন টা হাতে নিয়েই আনন্দে চকচক করে উঠলো গোপার চোখ দুটো। অপ্রত্যাশিত কিছু হঠাৎ করে পেয়ে গেলে মনে যেমন খুশির বান ডাকে ঠিক তেমনি খুশির জোয়ারে ভেসে গেল গোপা। অরিনের ফোন যা এই মুহূর্তে একেবারেই অপ্রত্যাশিত ছিল, আনন্দ এতটাই তীব্র যে কথা বলতে গিয়ে গলাটা কেঁপে গেল গোপার। ফোনের ওপারে খলবল করে কথা বলে চলেছে অরিন,যেন সবটুকু ভালবাসা আদর ফোনের মাধ্যমেই পাঠিয়ে দেবে গোপার কাছে।ও এমন টাই করে,গোপাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে অনবরত বলে চলে নিজের কথা। এতে মাঝে মাঝে গোপা বিরক্ত যে হয় না তা নয়, কিন্তু এই মুহূর্তে একটা অদ্ভুত ভাললাগা উপচে পড়ছে গোপার চোখে মুখে।
একেই কি তবে বলে টেলিপ্যাথি!না হলে অরিণ বুঝলো কি করে মনে মনে সে পাগল টাকেই চাইছে ! ভালবাসা বুঝি এমনই হয়, যাকে কোন দূরত্ব ই পরাস্ত করতে পারে না। মনের মিল থাকলে দুটো শরীর শতেক যোজন দূরে থেকেও একে অপরকে পাগলের মত ভালবাসা যায়।
আজকের বৃষ্টিটা যেন অন্তহীন ভাললাগায় ভরিয়ে দিল গোপাকে। আসলে বৃষ্টি এমন ই হয়, বৃষ্টির সাথে প্রেমের যে অঙ্গাঙ্গী যোগ।জানলা দিয়ে দু’হাত বাড়িয়ে বৃষ্টি কে অনুভব করে গোপা অনেক দিন পর। অরিনের ফোনে বলা কথাগুলো ওকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে।ওর ভাললাগা আর ভালবাসার অনুভূতি গান হয়ে বেরিয়ে আসতে চাইছে।
গুনগুন করে ওঠে গোপা…..
“আজি ঝরো ঝরো মুখর বাদল দিনে
জানি নে জানি নে কিছু তে কেন গো মন লাগে না….”।।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।