গল্পবাজে তীর্থঙ্কর ভট্টাচার্য

শুভ সূচনা

রাজজ্যোতিষী সঙ্ঘারামে উপস্থিত। মহাশ্রমণের সাক্ষাৎপ্রার্থী। মহাশ্রমণ অধ্যাপনা সাঙ্গ করে বসে আছেন, এমন সময়ে শিষ্য এসে সন্দেশ দিল। তিনি আজ্ঞা দিলেন।
রাজজ্যোতিষী প্রবেশ করলেন। মহাশ্রমণ প্রশ্ন করলেন ‘ মহারাজের অধ্যয়ন সম্পূর্ণ হয়েছে?’ রাজজ্যোতিষী বললেন ‘ হ্যাঁ, এবং তার সাথে আমিও অধ্যয়ন করেছি। সেই কারণেই বিলম্ব হল; মার্জনা করবেন।’ বলে গ্রন্থটি বের করে মহাশ্রমণের কাছে প্রত্যর্পণ করলেন।
অধ্যাপনা গৃহে সূর্যকিরণ পরিব্যাপ্ত। রশ্মি কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়েছে স্ফটিক নির্মিত অসাধারণ শতদলের ওপর। মাথার ওপরে কারুকার্য আর আগারের দুই প্রাচীরগাত্রে জাতক কাহিনী চিত্রিত। শিষ্যরা অধ্যয়ন সমাপ্তির পর উঠে গেছে, একজন এখনও উপবিষ্ট। পাশ্ববর্তী কক্ষ থেকে সমবেত গীত ভেসে আসছে ‘ সঙ্ঘং শরণং গচ্ছামি’।
রাজজ্যোতিষী নিবেদন করলেন ‘ মহাশ্রমণ, আমি গণনা করে দেখেছি, আগামী বিশ্বে নিতান্ত অনাচার, অরি অত্যাচার, বিদ্বেষ এবং যুদ্ধ বিগ্রহ আসন্ন। আপনার ধর্মের প্রতি তীব্র আক্রমণ এবং নাশকতার আশঙ্কা। বোধিধর্ম বিপন্ন হবে।’ মহাশ্রমণ শান্ত রইলেন। উপবিষ্ট শিষ্য চঞ্চল হয়ে উঠল। সেদিকে তাকিয়ে রাজজ্যোতিষী বলে চললেন ‘ মহারাজের অভিপ্রায় আপনাদের গ্রন্থগুলি সংরক্ষিত করা। তিনি একটি গ্রন্থাগার নির্মাণ করে এই জ্ঞানভাণ্ডার ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করতে চান। আমি এ বিষয়ে আপনার অভিমত জানতে চাই।’ মহাশ্রমণ জিজ্ঞাসা করলেন ‘ আপনি কত বৎসর অবধি ভবিষ্যৎ গণনা করেছেন?’ ‘ ‘আনুপূর্বিক সপ্তশত বৎসর।’ বললেন রাজজ্যোতিষী। মহাশ্রমণ বললেন ‘ তারপরে আগামী সময়ে বৈদ্যুতিক মাধ্যমে এই বাণী সমগ্র বিশ্বে পরিব্যাপ্ত হয়ে কোটি কোটি নরনারীর অন্তরে শান্তি দেবে, তাদেরকে পরিস্রুত করবে। যন্ত্রবিদ্যা আর প্রকৃতিজ্ঞানে মানব উন্নতির শিখরে পৌঁছে এই বাণীকেই গ্রহণ করবে। পৃথিবীর শাশ্বত যত জ্ঞান মানুষ হৃদয়ঙ্গম করবে।’
চমৎকৃত হলেন রাজজ্যোতিষী। তা দেখে মহাশ্রমণ বললেন ‘ আপনার মত জ্যোতিষবিদ্যায় আমার পারদর্শিতা নেই, এই অনাগত দিন আমাকে ধ্যানে দেখিয়েছেন স্বয়ং আমার গুরু।’ সসম্ভ্রমে মহাশ্রমণের দিকে চেয়ে রইলেন রাজজ্যোতিষী।
তারপর একটু বিরাম নিয়ে বললেন ‘ তাহলে ত সেই অনাগত দিনের আবশ্যকতায় এই গ্রন্থাগার ত আরও অপরিহার্য্য। আমি আজ প্রস্থান করি, মহারাজের সাথে এই নিয়ে আলোচনা করে জানাবো।’
বিদায় নিলেন রাজজ্যোতিষী।
দুই দিন পরে পুনরায় রাজজ্যোতিষী উপস্থিত হলেন সঙ্ঘারামে। মহাশ্রমণ সমীপে নিবেদন করলেন ‘ মহারাজ আমার সাথে একমত। তিনি গ্রন্থাগার স্হাপন করতে বিশেষ আগ্রহী। নির্মাণের শুভ সূচনা আপনার অনুমতিসাপেক্ষ।
অনুমতি দিয়ে দিলেন মহাশ্রমণ।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।