T3 || ঘুড়ি || সংখ্যায় তুষার ভট্টাচাৰ্য

ঘুড়ি

সেই সত্তর দশকে ছাত্র বয়েসে আকাশ দিগন্তে ঘুড়ি ওড়ানোর নেশা প্রায় প্রত্যেক কচিকাঁচা ছেলেরই ছিল l মফস্বল, গ্রাম গঞ্জের প্রায় প্রত্যেক এলাকায় ছিল দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ, ঘাট, ধবল কাশের বন l তাই শরতের নরম রোদ্দুরে বন বন করে ঘুড়ি উড়াতে কোনও অসুবিধে হত না l

তখন এখনকার মতো মাঞ্জা দেওয়া চায়না সুতো, প্লাস্টিক কাগজে তৈরি ঘুড়ির যুগ আসে নি l
সেই সময়ে ফিউজ বাল্ব ভেঙে হামান দিস্তা দিয়ে গুঁড়ো করে, আটার আঠা জ্বাল দিয়ে কাঁচের গুড়ো মিশিয়ে সুতোতে লাগাতে হত l তারপর রোদ্দুরে শুকোতে হত l এবং ঘুড়ির সুতোর মাঞ্জা দিতে হত বাড়ির গুরুজনদের কাছে লুকিয়ে বা সবার অগোচরে l
তখন একটা রঙীন ঘুড়ির দাম ছিল চার আনা l কাঠের লাটাইয়ের দাম ছিল বারোআনা আর একরিল সাদা সুতোর দাম ছিল চারআনা l
এই সব জোগাড় করে কত কষ্ট করে আমরা ছাত্র বয়েসে ঘুড়ি ওড়াতাম l সেই সময়ে
ঘুড়ি ওড়ানোর আরেকটি মজা ছিল মাঝ আকাশে অন্যের ঘুড়ি ভোকাট্টা করে দেওয়া l
যেমন আমার ঘুড়ি,আমার প্রাণের বন্ধু গদাই ওর ঘুড়ি দিয়ে প্রায়ই ভোকাট্টা করে দিত l
বিশ্বকর্মা পুজোর দিনে ছিল ঘুড়ি ভোকাট্টা বা কাটাকাটির খেলা l সেদিনও গদাই আমার ঘুড়ি মাঝ আকাশে ভোকাট্টা করে দিল l
খুব মন খারাপ হয়ে গেল l মনের দুঃখে গদাইয়ের সঙ্গে কথা বন্ধ করে দিলাম l ঘুড়ি অন্ত প্রাণ সেই গদাই একদিন ঘুড়ি উড়াতে গিয়ে ওদের পুরোনো জমিদার বাড়ির তিনতলা থেকে পড়ে গিয়ে সাংঘাতিকভাবে আঘাত পেল l হাসপাতালে নিয়ে গিয়েও বাঁচানো যায় নি গদাইকে l
গদাইয়ের মৃত্যুর পর আর কোনওদিন ঘুড়ি উড়াইনি l
এখনও প্রতিবছর বিশ্বকর্মা পুজো এলে শরতের নীলিম আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকি l
সেখানে মেঘের ফাঁকে লাটাই ঘুড়ি হাতে শুধু গদাইয়ের মুখ ভেসে ওঠে ।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।