শহরটার নাম তখন রেঙ্গুন। বাঙালি সিভিল ইঞ্জিনিয়ার অমরেন্দ্র বসুর মস্ত বাড়িতে গভীর রাতে দরজায় করাঘাত। ভৃত্য জিজ্ঞাসা করল ‘কে?’
-‘পুলিশ’ উত্তর এল।
দরজা খোলা হল। গৃহিণী এগিয়ে এলেন। অফিসার জিজ্ঞাসা করলেন ‘ অমরেন্দ্রবাবু আছেন?’
– ‘ উনি ত কাজে বাইরে গেছেন এক সপ্তাহের জন্য। আমি ওঁর স্ত্রী।’
– ‘ আমরা খবর পেয়েছি এই বাড়িতে ফেরিওয়ালা আর মিস্ত্রিরা আসছে প্রায়ই, আর তারা প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি সময় কাটাচ্ছে। কাউকে কাউকে দুই একদিন বাদে বেরোতে দেখা যাচ্ছে। আপনারা নিরাপদ?’
-আজ্ঞে হ্যাঁ।’
– ‘ আমরা তল্লাশি করব।’
-‘করে দেখুন।’
তল্লাশি শুরু হল। তেমন কিছু পাওয়া গেল না। রান্নাঘরের পিছনে একটা তালা দেওয়া ঘর। ‘ এই ঘরটা কিসের?’ অফিসার জিজ্ঞাসা করলেন। ‘ ‘আজ্ঞে এটা কয়লার ঘর।’ ভৃত্য তালা খুলে দেখাল- স্তূপীকৃত কয়লা।
‘ আচ্ছা ঠিক আছে, নমস্কার।’ পুলিশের লোকেরা চলে গেল কিছু না পেয়ে ।
কয়লাঘরের নীচে গুপ্ত পাতালকুঠুরি। বৈঠক চলছে ইন্ডিপেন্ডেন্স লীগের সভ্যদের। আহার্যের ব্যবস্থা গৃহকর্ত্রীর।