T3 ।। কবিতা পার্বণ ।। বিশেষ সংখ্যায় তীর্থঙ্কর ভট্টাচার্য

ঝরে পড়া
. ফিরে এল ফের শীত
. হিমেল পরশ সাথে।
. ধূসর এক কুয়াশার মত স্মৃতির অধঃক্ষেপ-
কালান্তর মাতৃ অন্তরে পারে নি দিতে পূর্ণ প্রলেপ।
পথের যাত্রীর মত গেছে সে যে হারিয়ে পথেই
ফিরে আর ডাকে না সেই গর্ভজাত কন্ঠস্বর
. থেমে গেছে যেন কোথায় কোনো বিজন জীবন।
সে জীবন জননী হৃদয়ের।
রাঁচি পাটনা হাতিয়া রেলপথে
. প্রাণান্তক শব্দে সে শীতের ভোরে
চমকে উঠেছিল ঘন কুয়াশাময় সূর্যোদয়।
অদর্শী সেই আচ্ছন্নতার আবহে
. শেষ রক্ষা করতে পারেনি সে এবং
মুখোমুখি অগ্রসরমান অপর ট্রেনের চালক।
পৌষ পার্বণের পিঠেগুলো
. রইল পড়ে সেবার যেমন তেমন-
নম্বর কাটা কাগজে মোড়া সে দেহখানা
শনাক্ত করল সঠিক- আলোর দৃষ্টিপথে
. মায়ের দুই নয়ন।
কেটে গেছে কয়েক বছর তার
ফিরে ফিরে চায় না সে আঁখি আর
তবুও শীতের প্রাতে একাকিনী
আনমনা সে যে শূণ্য দৃষ্টি দূরে,
ঝরে পড়া ফুল পাতা আর জীবনের পানে নয়
অবশেষ খোঁজে কোন সে অদৃশ্য ধূসরে।