T3 || ঈদ স্পেশালে || লিখেছেন তিথি আফরোজ

১| নদী
নদীর কাছে দিগন্তে হেলান দিয়ে
আমারও কিছু বলার ছিলো
কেমন করে অনন্ত জীবন বয়ে চলে
অবসরের বেলা ভুলে ছুটে চলা
সাগর পানে!
সাগর তার ফেনিল বুকে- থেকে সুখে
গর্জন তুলে ডেকেই চলে স্রোতস্বিনী, পল্লবিনী
চন্দ্রমনি, হরঘরণী হাজার নামের তুফান তোলে
লবণাক্ত ঘূর্ণিমুখর প্রেমের লোভে যায় ছুটে যায়
তন্ত্রমেদুর দুপুর ভুলে বোকা সরল সকল নদী
নিরবধি আত্মভোলা চপলতার জলাঞ্জলি দিয়েই
সুখী! ও নদী, সুখ কারে কয়, বোঝ তুমি?
এমন নাচন, ধ্বংসকেতন তোলে যখন হায়দরী হাঁক
সে কি তখন তোমার আপন? ভেঙে নিলে চাষার কুলা
চলে গেলে দুধের গোলা, একটুও কি মন পোড়ে না
জান কাঁপে না! এমনই অন্ধ প্রেম কামনায় ছুটেই চলো
ঠিক হলো, ঠিক হলো না। ও নদী, এমন প্রেম আর করো না
আর করো না, থামতে শেখো, শিখে থামো…
২| সুখ ও স্বপ্নের সাম্পান
ইতিহাসের বুকে দাঁড়িয়ে এঁকে যাবো ইতিহাস
ওগো দরদী যমুনা প্রশস্ত করো বুক
উৎফুল্ল জলে ডুবিয়ে তোল স্নিগ্ধ বাতাস
বয়ে যাক এই লোকালয়ে সুখ ও স্বপ্নের সাম্পান।
এই করোনার করুণধ্বনি বাজে না যেন কারো মনে
অতলের গরল তলে সমাধি তাবিজ করে চলে যাওয়া
জীবন তরী চলে না;
ভূতলে বিঁধে রেখে বুক ওড়ে না চড়ুই, টিয়া
উন্মাদ সকল জাগো জাগো, তরবারি তসবির তালে
একটি নতুন মন্ত্রে অজ্ঞাত দাওয়াই স্ফুরিত করুক
উজ্জীবিত মূর্চ্ছনা
ও উন্মাদ, ও ইবনে সিনা দেখাও শ্রেষ্ঠ করতল!
৩| পিপাসা
তোমার যাবতীয় পিপাসা আমিই মিটাবো;
জানো তো, এখানে কুসুম তিথিতে শেফালীর ডালে
ডুমুর ফুল ফোটে। লতানো রক্তজবার রেণু দুলে উঠলেই
লক্ষ্মীপ্যাঁচাটা স্থির তাকিয়ে থাকে মঙ্গলের আশায়।
আমি আকাশ থেকে মঙ্গল প্রদীপ নামাবো বলেই
খনার জিহ্বা গজিয়ে ফেলেছি পুনঃবার।
তোমার সকল সাধ অবলীলায় শুধু আমাকেই বলো;
আমি শখের তোলা আশির উর্ধ্বে ক্রয় করে রেখেছি পরম যত্নে।
এক জীবনের সকল অবগাহনে ফুরাবার নয় প্রলম্বিত সমুদ্র স্রোত।
অবগুণ্ঠন খুলে সূর্য উঠার আগেই জেগে আছে মহাপৃথিবীর স্বর্গ।
সুরার পেয়ালা তৈরি আছে ইস্কের ভাণ্ডারে:
সুবেহ-সাদিকের আগেই পান করে নাও,
মেটাও পিপাসা।