সম্পাদকীয় উবাচ

হঠাৎ করে জীবনের অর্থ বদলে যাচ্ছে৷ মুক্তধারাকে যেন বেঁধে দিয়েছে কেউ৷ উন্মুক্ত আকাশটা ছোট হতে হতে ঘরের চার দেওয়ালের মধ্যে আটকে পড়েছে৷ অচল অবস্থার ঘূর্ণিপাকে চাপ চাপ অন্ধকার ক্রমশ গোগ্রাসে গিলে খাচ্ছে মানুষের বর্তমান, ভবিষ্যৎ৷ কর্মহীনতা, নীদ্রাহীনতা, অসুধের অভাব, পথ্যের অভাব, অভাবের হাজার ফিরিস্তি নিয়ে জীবিতকালে নরক যন্ত্রনায় ছটফট করছি আমরা ৷ ছোবরলায় যেমন আমার ড্রইংয়ের খাতায় এক একটা ফিগার ইরেজার দিয়ে মুছে ফেলতাম, ঠিক তেমনই গোটা সমাজটা যেন ক্যানভাস আর মৃত্যু নামক ইরেজারটা হঠাৎ করেই এক একটা মানুষকে মুছে দিচ্ছে পৃথিবীর ক্যনভাস থেকে৷ এ খেলা সঙ্গীহীন হওয়ার খেলা৷ এ খেলা বিচ্ছেদের খেলা৷
যারা চলে গেল চিকিৎসাহীনতায়, যার পুড়ল স্বজনবিহীন নির্জন স্বাক্ষরে তাদের সকলেই আমার আত্মীয় ছিল৷ হয়ত পরিবার সূত্রে, হয়ত কর্মসূত্রে, হয়ত সামাজিক সূত্রে, হয়ত পড়শী, কিংবা হয়ত দেশীয়৷ আক্ষেপ, বিচ্ছেদ, যন্ত্রণা এই শব্দগুলোর দাপটে প্রতিদিন এলোমেলো হচ্ছে জীবনের সমীকরণ৷ নিরন্তর বিয়োগের ঘাট থেকে যারা নৌকা বেয়ে চলে গেল আমাদের অলক্ষ্যর তাদের আশ্রয় হবে কালের গর্ভ৷ তবু আমরা যারা মুঠোভরা প্রাণ নিয়ে এখনও লড়াইয়ের স্বপ্ন দেখে যাচ্ছি, তাদের কাঁধে ভর দিয়েয় আবার এগিয়ে যাবে পৃথিবী৷
প্রাণ আছে, এখনো প্রান আছে,
প্রাণ থাকলেই স্থান আছে মান আছে
সমস্ত বাধাঁ-নিষেধের বাইরেও
আছে অস্তিত্বের অধিকার ।
মৃত্যুর ক্রন্দনের থেকে জীবনের গানের তীব্রতা যে অনেক অনেক বেশি৷ ক্ষতের ওপর প্রলেপ লাগিয়ে
আবার এগিয়ে যাওয়া৷ এই এগিয়ে যাওয়াই একমাত্র নিরন্তর, সত্য৷
And miles to go before I slee
And miles to go before I sleep.
সুস্থ থাকুন৷ ভালো থাকুন৷ লিখতে থাকুন৷ পড়তে থাকুন৷

রাজশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।