মার্গে অনন্য সম্মান শ্রীস্বদেশ সাধক সরকার (সেরার সেরা)

অনন্য সৃষ্টি সাহিত্য পরিবার 

সাপ্তাহিক প্রতিযোগিতা নং – ৭২
বিষয় – ছোঁয়া

ছোঁয়াছুঁয়ি

অনুভূতি,আবেগ আর অনুভবের
পরশমণি হল ছোঁয়া-এর এক অপরূপ
আকর্ষণ যেমন আছে তেমনি বিকর্ষণ ও আছে।
জীবনের স্পন্দনে একে নিয়ে কত না রহস্য
আবার তার ভিতর কত নুনের ছিটা যেন
মননের দ্বারপ্রান্তে জ্বালা দেয় তা নিয়েও
কচকচির অন্ত নেই ।
ছোঁয়া আর ছুঁয়ি,এক সময় অস্পৃশ্যতার
করাল গ্রাসে আবদ্ধ ছিল। মানুষকে অন্ত্যজ
বা নীচ জাতি বলে অভিষিক্ত করে
শ্রেণী বৈষম্যের নিগড়ে বেঁধে ছোঁয়াছুঁয়ির
করুণ কাহিনী কত যে নিঃপীড়ন ,শোষণ
বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছে এক গরিষ্ঠ
অংশের মানুষকে তা আজকের দিনে চিন্তা
করা মুস্কিল।
গান্ধিজির হরিজন পত্রিকা তার এক
প্রকৃষ্ট রূপক ও পথ প্রদর্শক।
ছোঁয়া নিয়েই অস্পৃশ্যতার কথা এসে যায়।
তুই ছুঁবি না। দূরে থাক। রক্তের জিন বা
গ্রুপ এক হলেও এক পৈশাচিক আচরণ
এ সমাজে বলবৎ ছিল,এখনো যে নেই,তা
নয় তবে তার শ্রেণীর পরিবর্তন ঘটেছে ।
হাল আমলে আমেরিকার জর্জ ফ্লুয়েদের
কথা মনে পড়িয়ে দেয়,যে ছুঁয়া বর্ণভিত্তিক
এক অনাচার যার দায় মানব সমাজের
এবং অবশ্যই মানবতার ।
এ গুলোএক দিক~আরেক দিক আছে
যা পূজা বা দেব_দেবীর নৈবৈদ্যের সময়,
সেখানেও পুরোহিত ব্রাহ্মণদের ছুঁলে না কি
পবিত্রতা নষ্ট হয়ে যায়।
আচার বিচারে ছোঁয়াছুঁয়ির এক বিশেষ স্হান
চিরন্থন আছে যার কিছুটা পরিশীলতার
অঙ্গ হলেও অনেক জায়গায় তা লঙ্গিত হয়
বলে অনেকে বলে থাকেন ।
আরেক ছোঁয়া হৃদয় আর মননের এমন এক
উপাদান যা কৈশোর আর যৌবনের মনে
এক তরঙ্গ বিশেষ সে যেন বিদ্যুতের ছোঁয়া
আবার কখন যে সে শক দেয় তার তুলনাও
কম নয়।
অবাক জলপানের মত ছোঁয়া ও বিশেষণ
কম যায় না~হাতের ছোঁয়া,মনের ছোঁয়া,
প্রাণের ছোঁয়া,চোখের ছোঁয়া, টেবিলের নীচে
দুই জনের অজান্তে পায়ের ছোঁয়া আর যার
ভিত্তি সব হতে জোরদার শরীরী ছোঁয়া যেন
এক পার্থিব সুখের এক অনিত্য মোহময়ী
ভালবাসার প্রাণচঞ্চল রূপক~।
আর আবেগ অনুভূতির সে ছোঁয়া যেন
ব্যক্তি,স্বজন পরিজন,সমাজ,দেশের কাছে
এক নিদর্শন। সে হল যখন কেউ কোন
স্বর্ণ পদক বা রৌপ্যপদক বা বিশেষ কোন
পুরস্কার পেল তখন সে ছোঁয়া জীবনের
কত ছোঁয়াকে ছাড়িয়ে বিশেষ স্হান পেয়ে
থাকে ।
এ ছোঁয়া যখন দলগত হয়ে উঠে তখন তাকে
ছুঁতে সারা দেশ উন্মুখ হয়ে থাকে। অলিম্পিক
বা বিশ্ব মানের যাবতীয় প্রতিযোগিতায় যখন
দেশ কোন স্হান পায় তখন তাকে ছুঁতে কি
উদগ্র বাসনা যা দেশের প্রতি ভালবাসা ,
তার বা তাদের প্রতি আবেগ,অনুভূতির সে
পড়শ এক বৈচিত্রের স্বর্গপুরী ।
কাজেই ছোঁয়াকে কেন্দ্র করে জীবনের
হট্টমন্দিরে দিনে রাতের নিশুতি খেলায় কখন
যে হারেমের ঘরে ব্যবসায়ী মনোবৃত্তির এক
বিরাট চালানি বাজার তৈরী হয় তাও চিন্তার
বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। আসলে ছুঁলেই যেখানে
টনিক সেখানে এমম খেলা তো সেই রাজা,
উজির ,জমিদার,বাদশা,আলম,সম্রাট সব
জায়গাতেই ছুঁয়ার এমন মনোহারী কারবার
যুগ যুগ ধরে চলে আসছে ।
আবার এ ছুঁয়াছুঁয়ির এক অবাক বাক্য শুনা
গিয়েছিল পরিবর্তনের জামানায়~এক নেতা
বলে বসলেন,ওদের ছুঁবেন না,ছুঁলেই জাত
যাবে,ওদের সাথে বসে ভুলেও চা ও খাবেন
না। কাজেই ছুয়া এমন এক রহস্য ঘেরা
উপাদান যা কখন কার পাতে কেমন আচরণ
করে,কে আর বলতে পারে।
তবে,এ কথা স্বীকার করে নেয়া ভাল যে
খাবার বা রসনার উপাদেয় ছুঁয়া যেন মনের
আকরে এক তৃপ্তি এনে দেয়। আবার সে
রকম তৃপ্তি ও অনুভব,অনুভৃতিতে যে কখন
স্বপন মনের গোপন মননে আপন
অভিব্যক্তিতে সোনার পরশকাঠি হয়ে পরে…

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।